বৈশাখের দাবদাহে কী ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন টলি-অভিনেত্রীরা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে। শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচার চলছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা তো প্রচারে যাচ্ছেনই, অনেক প্রার্থীর হয়ে প্রচারে বেরোচ্ছেন টলিপাড়ার নায়িকারাও। এই প্রথম নির্বাচনী প্রচারে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে।
প্রথম বার নির্বাচনী প্রচারে কোয়েল মল্লিক। ছবি: ফেসবুক।
পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অখিল গিরির হয়ে প্রচারে বেরিয়েছেন সৌমিতৃষা কুন্ডু, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রচারের প্রথম দিন থেকে নানা জায়গায় ঘুরছেন ঊষসী চক্রবর্তীও।
নির্বাচনী প্রচারে সাধারণের মাঝে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
বৈশাখের তীব্র দহনে এমনিই কাহিল প্রায় সবাই। কিন্তু তার মধ্যেও প্রচার চলছে। সাধারণের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হাসিমুখে সবার কথা শুনছেন প্রার্থীরা। ক্যামেরার নায়িকাদের কারও ক্ষেত্রে প্রচার প্রথম বার। কেউ আবার প্রতি বারেই নির্বাচনের সময়ে রাস্তায় নেমে থাকেন। মানিকতলা থেকে দিঘা, সর্বত্র ঘুরছেন রচনা। সেই অবসরে টলিনায়িকাদের সামনে থেকে দেখার সুযোগ কেউই ছাড়তে নারাজ। তাই হাতের নাগালে ঊষসী, সৌমিতৃষা, শ্রাবন্তীদের পেয়ে আনন্দে আত্মহারা সাধারণ মানুষ।
প্রচারের জন্য আলাদা কোনও ডায়েট নেই সৌমিতৃষার। ছবি: ফেসবুক।
সৌমিতৃষা বললেন, “মানুষের সঙ্গে দেখা করলে, কথা বললে এমনিই আমার মন ভাল হয়ে যায়। তাই প্রচারের জন্যে আলাদা করে যে অনেক কিছু নিয়ম মানছি, তা নয়। এমনিও তো আমি ডায়েট করি না। গরমে যদি খুব কষ্ট হয়, তখন একটু ওআরএস খেয়ে নিচ্ছি, এই যা। আর বিশেষ কিছু মানছি না। মানুষের কাছে যাওয়া, তাঁদের মনের কথা শোনা— এগুলোই আমাকে ভিতর থেকে শক্তি জোগায়।” অন্য দিকে, বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচার সেরেছেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।
নির্বাচনী প্রচারে রাস্তায় নামা নতুন কিছু নয় ঊষসী চক্রবর্তীর কাছে। ছবি: ফেসবুক।
বাবা তথা বাম আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল চক্রবর্তীর মেয়ে ঊষসী অনেক ছোট থেকেই সিপিএমের নির্বাচনী প্রচারে শামিল থেকেছেন। গরমে প্রচারে বেরোনো তাঁর কাছে নতুন কোনও ব্যাপার নয়। বললেন, “এই তো প্রথম বার বেরোচ্ছি না প্রচারে। করোনা পরিস্থিতিতে যখন শ্রমজীবী ক্যান্টিন চালিয়েছিলাম, তখনও রাস্তায় নেমেছিলাম। তাই গরমে প্রচার করছি, তার জন্য আলাদা কিছু খাওয়াদাওয়া করছি, তেমন নয়। খুব কষ্টও যে হচ্ছে, তা-ও নয়। প্রচুর জল খাচ্ছি। তবে এটা ঠিক যে, জোরে কথা বলে গলা ভেঙে গিয়েছে। নির্বাচন মিটলে সেটার একটু যত্ন নিতে হবে। কারণ, আমি তো শিল্পী। সেটাও তো আমার একটা কাজ।”
বেশি করে জল খাওয়া রচনার কাছে সুস্থ থাকার উপায়। ছবি: ফেসবুক।
রচনা রাজনীতির ময়দানে রয়েছেন দু’বছর হল। রচনা বললেন, “এই প্রচার করা মানে হল, সকলের পাশে থাকা। আমরা সকলে সকলের হয়ে প্রচার করছি। দলের জন্য করছি। আর আমরা যেহেতু তারকা, আমাদের মানুষ দেখতে চান, তাই সকলেই আমরা যাচ্ছি এবং প্রচার করছি। আট থেকে আশি, সকলে ‘দিদি’ বলেই ডাকে। বয়স্ক মানুষ থেকে শিশুরা সকলেই দিদি বলে চিৎকার করে ডাকছে আমাকে। পশ্চিমবাংলার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ আমি।” গরমে বেশি করে ফল খাচ্ছেন রচনা। কড়া ডায়েট নয়, তবে প্রচুর জল এবং হালকা খাবার খেয়েই চলছে প্রচার।
ছোট থেকেই বাবা দেবাশিস কুমারের সঙ্গে প্রচারে বেরোতে অভ্যস্ত দেবলীনা কুমার। ছবি: ফেসবুক।
ছোট থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছেন অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার। তাই নির্বাচনের আগের ব্যস্ততা, প্রচার, মানুষের কাছে গিয়ে কথা বলা— এ সব তাঁর কাছে খুব একটা নতুন নয়। ন’বছর বয়স থেকে বাবা দেবাশিস কুমারের সঙ্গে বেরোন তিনি। এ ছাড়াও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্যও প্রচার করেছেন দেবলীনা।
ধারাবাহিকের শুটিংয়ের মাঝেও প্রচারে ব্যস্ত অঞ্জনা বসু। ছবি: ফেসবুক।
তিনি বলেন, “১৮ বছর বয়সে প্রথম রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তৃতা দিয়েছি। তাই ছোট থেকেই এই জগতের সঙ্গে যোগাযোগ। তবে এখন তো খুব বেশি বেরোতে পারছি না। বাবাকে দেখছি, খুব হালকা খাচ্ছে। আমি অবশ্য সে ভাবে কোনও ডায়েটে নেই। কারণ, আমি তো আর বাবাদের মতো প্রচারে বেরোচ্ছি না।” অন্য দিকে ধারাবাহিকের চাপের মাঝেও দলের হয়ে প্রচারে যাচ্ছেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের হয়ে দরজায় দরজায় প্রচার করতে দেখা গিয়েছে অঞ্জনাকে।