ফের আইনি গেরোয় বাদশা। ছবি: ফেসবুক।
তাঁর গান নাকি যৌনগন্ধী। গানের কথায় নাকি নারীশরীরের প্রতি রয়েছে কু-ইঙ্গিত। এই অভিযোগে মামলা দায়ের হল পঞ্জাবি গায়ক বাদশার বিরুদ্ধে। খবর, হরিয়ানার পঞ্চকুলা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ২৯৬, ৩ এবং ৪-এর অধীনে মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী ১৩ মার্চ সকাল ১১ টায় পানিপথের ডিসি অফিসে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে তাঁকে।
একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে বাদশার বিরুদ্ধে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৬ ধারা জনসমক্ষে অশ্লীল কাজ/গানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করে। পাশাপাশি নারীর অশ্লীল উপস্থাপনা (নিষেধ) আইন ১৯৮৬-এর ৩ ও ৪ ধারা নারীদের অশ্লীল ভাবে চিত্রিত বা বিজ্ঞাপিত এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে। এই আইনগুলির লক্ষ্য, জনসমক্ষে নারীদের উপর অশ্লীলতা এবং আপত্তিকর চিত্রণ বা বর্ণনা আটকানো। যার শাস্তিস্বরূপ কারাদণ্ড এবং জরিমানা-সহ একাধিক শাস্তি রয়েছে।
ধারা ২৯৬ অনুযায়ী মামলা দায়ের হলে অভিযুক্তের তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড কার্যকর হতে পারে। ৩ নং ধারা নারীর প্রতি অশালীনতার সঙ্গে যুক্ত যে কোনও বিজ্ঞাপন বা গান-সহ সব কিছুই নিষিদ্ধ করে। ৪ নং ধারা নারীর প্রতি অশালীনতা সম্পর্কিত বই, বিজ্ঞাপনী প্রচারপত্র, কাগজ, স্লাইড, সিনেমা, লেখা, আঁকা ছবির প্রচার আটকায়। দুই ধারার কোনও একটি বা দু’টিতেই প্রথম বার দোষী সাব্যস্ত হলে দু’বছরের জেল এবং ২ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। আগেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হলে ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, বাদশার হরিয়ানভি মিউজ়িক ভিডিয়ো ‘টটীরী’ নিয়ে এত গোলযোগ। অভিযোগ, এই গানে স্কুলের পোশাক পরা মেয়েদের দেখানো হয়েছে। তাঁরা কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে নেচে উঠেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই ধরনের দৃশ্য সমাজে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে। এ ছাড়াও, আপত্তিকর ভাষাপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার পঞ্চকুলার সেক্টর ২০-এর সাইবার ক্রাইম থানায় অভয় চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি প্রথম অভিযোগ জানান। অন্য দিকে, হরিয়ানা মহিলা কমিশনও বাদশার বিরুদ্ধে গানটিতে আপত্তিকর কথা এবং ভিডিয়ো প্রকাশের অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনের অভিযোগ, ভারতীয় সংস্কৃতি, রীতিনীতি এবং শালীনতার সঙ্গে যা বেমানান। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে গানের কথার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিশনের চেয়ারপার্সন রেণু ভাটিয়া। তিনি ১৩ মার্চ পানিপথের ডিসি অফিসে শুনানির দিন ধার্য করেন।