রণবীরকে হাতখরচ দিতেন না ঋষি? ছবি: সংগৃহীত।
তিনি ঋষি কপূরের পুত্র। কিন্তু বলিউডে নিজের যোগ্যতায় জায়গা তৈরি করেছেন রণবীর কপূর। ঋষি-পুত্র হওয়া সত্ত্বেও আলাদা করে কোনও সুবিধা পাননি ছোটবেলায়। ঋষি চাইতেন, আর পাঁচজন সাধারণ ছেলের মতোই যেন বড় হয়ে ওঠেন রণবীর। পুত্রকে বেশ ক়ড়া শাসনেও রাখতেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে রণবীর জানিয়েছিলেন, হাতখরচ দেওয়ার বিষয়েও তাঁর বাবা কতটা কড়া ছিলেন। আমেরিকার অভিনয় প্রশিক্ষণ স্কুলে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন রণবীর। সেই সময়ে সীমিত অর্থ পাঠাতেন ঋষি। সাধারণ ঘরের ছেলেরা যেমন ভাবে বিদেশে পড়াশোনা করেন, সেটুকুই দেওয়া হত তাঁকে।
প্রথম দিকে কষ্ট হত। কিন্তু ক্রমশ বুঝেছিলেন তাঁর বাবা আসল উদ্দেশ্য কী? আসলে শাস্তি দিতে নয়। অর্থের মূল্য বোঝানোর জন্য ও নিয়মের মধ্যে রাখার জন্যই এমন করতেন ঋষি কপূর। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই এ কথা জানিয়েছেন রণবীর।
আমেরিকা থেকে পড়াশোনা সেরে ফেরার পরেও ঋষির কড়া শাসন শেষ হয়নি। মুম্বই ফিরে সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর সঙ্গে সহ-পরিচালকের কাজ করছিলেন রণবীর। ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে তিনি সহ-পরিচালক ছিলেন। সেই সময়ে পুত্রের থেকে গাড়ি নিয়ে নিয়েছিলেন ঋষি। তিনি চেয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গেই রোজ গাড়িতে চলাফেরা করুক ছেলে।
একটা সময়ে ছেলেকে হাতখরচ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন ঋষি কপূর। রণবীর যাতে নিজে থেকে অর্থ উপার্জন করার তাগিদ খুঁজে পায়, সেই ব্যবস্থাই করেছিলেন তিনি। এমনকি চলচ্চিত্রদুনিয়ায় পা রাখার পরেও কোনও পরিবর্তন আনেননি ঋষি।
প্রয়াত অভিনেতা নিজেও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, রণবীরের সঙ্গে তিনি বন্ধুত্বের পরিবর্তে পিতা-পুত্র সম্পর্কই বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। ঋষি বলেছিলেন, “আমি সব দিক বিবেচনা করেই আমার ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করিনি। হতেই পারে আমাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য কাচের দেওয়াল রয়েছে।”