তৈমুরদের সঙ্গে ধর্ম নিয়ে আলোচনা করেন সইফ! ছবি: সংগৃহীত।
বাবা ও মা ভিন্ধর্মী। নিজেও ভিন্ধর্মে বিয়ে করেছেন সইফ আলি খান। প্রথমে তিনি বিয়ে করেছিলেন অমৃতা সিংহকে। সেই দাম্পত্যের সমাপ্তি হয় ২০০৪ সালে। এর পর ২০১২ সালে তিনি বিয়ে করেন করিনা কপূর খানকে। দু’বারই ভিন্ধর্মে বিয়ে করেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সইফ জানিয়েছেন, কনিষ্ঠ দুই সন্তান তৈমুর আলি খান ও জাহাঙ্গির আলি খানের সঙ্গে তিনি প্রায়ই ধর্ম নিয়ে আলোচনা করেন।
সন্তানদের সঙ্গে ধর্ম নিয়ে কোন পরামর্শ দেন সইফ? অভিনেতা বলেন, “এটা এমন একটা বিষয়, যা নিয়ে আমি ওদের সঙ্গে কথা বলতে ভালবাসি। কারণ, আমি নিজেও খুব বেশি ধার্মিক মানুষ নই। আমার মা আমাকে শিখিয়েছিলেন, আর আমিও আমার সন্তানদের শিখিয়েছি যে, ঈশ্বর এক জনই। শুধু তাঁর নাম অনেকগুলো। বিষয়টা খুবই সহজ। মানুষ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তাঁর উপাসনা করে। আর যদি কোনও ধর্ম মানুষকে ভালবাসা ও ক্ষমার শিক্ষা দেয়, তা হলে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সইফ তাঁর ছোটবেলার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, “আমি গির্জার আবহে বড় হয়েছি। এমন স্কুলে পড়েছি যেখানে প্রার্থনার মাধ্যমে দিন শুরু হত। এক বার আমি প্রার্থনার সময়ে ফাঁকি দেওয়ার জন্য বলেছিলাম যে, আমার ধর্ম অন্য। কিন্তু তখন স্কুল থেকে এক জন মৌলবীকে ডেকে আনা হয়েছিল। তাই তখন সেই চেষ্টা সফল হয়নি।”
খ্রিস্টান স্কুল হলেও সেখানে সব ধর্মের উৎসবই পালন হত বলে জানান সইফ। তিনি আরও বলেন, “বড়দিন যেমন পালন করা হত, তেমনই দীপাবলিও উদ্যাপন করা হত। এটাই আমার শৈশবের অভিজ্ঞতা। আমি কখনও আলাদা করে এটা নিয়ে ভাবিনি, এটা স্বাভাবিক ভাবেই আমার মধ্যে এসেছে।”
সইফ জানান, সম্প্রতি তাঁর ছেলে তৈমুরের সঙ্গে ধর্ম নিয়ে তাঁর একটি কথোপকথন হয়েছিল। তৈমুরের দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রশংসা করেন তিনি। সইফ বলেন, “আমার মায়ের চিন্তাভাবনা ছিল খুব খোলামেলা, উদার। আমার স্ত্রীরও তাই। এটা আসলে ধর্মের চেয়ে বেশি আধ্যাত্মিকতার বিষয়।”
সইফের বোন সোহা আলি খানও জানিয়েছিলেন, তাঁর ও কুণাল খেমুর ভিন্ধর্মী বিয়েকেও অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল সইফ ও করিনার বিয়ের সময়েও। সোহা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “ভিন্ধর্মী বিয়ের ক্ষেত্রে অনেক অদ্ভুত মন্তব্য শুনতে হয়েছে। আমি আর কুণাল যখন বিয়ে করি, বা করিনা আর ভাই যখন বিয়ে করে, তখন নানা ধরনের শিরোনাম তৈরি হয়েছিল। ‘লভ জিহাদ’-এর মতো শব্দও ব্যবহার করা হয়েছিল।”