অভিজিৎ ভট্টাচার্য ও পুত্র জয় ভট্টাচার্য। ছবি: ফেসবুক।
তিন দিন আশঙ্কায়, আতঙ্কে কেটেছে গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্যের। তাঁর গায়কপুত্র জয় ভট্টাচার্য দুবাইয়ে যাওয়ার পরেই ইরান-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ শুরু! ফলে আকাশপথ বন্ধ। ওই কয়েকটা দিন কী ভাবে কেটেছে জয়ের? আনন্দবাজার ডট কম-কে জানালেন গায়কপুত্র স্বয়ং।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি পেরিয়ে আবার স্বাভাবিক ছন্দে জয়। আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে যখন তিনি কথা বলছিলেন, তখন তিনি দিল্লিতে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে তাঁর গানের অনুষ্ঠান।
জয় জানালেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি দুবাই গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার কথা ছিল ১ মার্চ। তার মধ্যেই যুদ্ধ শুরু। তাঁকে তিন দিন আটকে থাকতে হয়। জয় দেশে ফিরে এসেছেন গত ৪ মার্চ। খুব কাছে থেকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন গায়কপুত্র। দুবাইয়ে তখন পরিস্থিতি কেমন ছিল? জয় জানালেন, বহুতল এক হোটেলে উঠেছিলেন তিনি। হোটেলের ঘরে বসেই দেখতে পাচ্ছিলেন, আকাশে ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাচ্ছে! জয়ের কথায়, দিনেরবেলায় সবার মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে সচেতন করা হত, সবাই যাতে হোটেলে বা ঘরের ভিতরে থাকেন। হোটেলের লাউঞ্জ থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন তিনি।
ছেলে ফিরতে না পারায় যথেষ্টই উদ্বেগে ছিলেন বাবা অভিজিৎ। তবে ফোনে নিয়মিত কথা হত অভিজিৎ-জয়ের। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অভিজিৎ বলেছেন, “জয় দুবাইয়ে পা রাখল, আর ইরান-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ শুরু। তিন দিন ধরে বিমান চলাচল বন্ধ। ছেলে দেশে ফিরতে পারছে না। আমি আতঙ্কে অবশ। তড়িঘড়ি সমাজমাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম।”
অভিজিৎ আরও বলেন, “জয়ের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তার জন্য ওকে সেই মুহূর্তে হোটেল ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। আমার কথা শুনে জয় জুমেরা বিচে ওর এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ওঠে।” সে সময়ে দুবাইয়ের আমেরিকা দূতাবাসে বড় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তার প্রভাব টের পেয়েছিলেন জয়, জানান তিনি।
গায়কপুত্র জানান, প্রায়ই দুবাইয়ে যাতায়াত করেন বলে খুব সমস্যায় পড়তে হয়নি তাঁকে। তবে তাঁর উপলব্ধি, যাঁরা নিয়মিত পর্যটক নন, তাঁদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।
বিমানপথ খুলে যেতেই দেশে ফিরে আসেন জয়। তাঁর কথায়, “কাজ নিয়েই গিয়েছিলাম। আরও কিছু জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল। যেতে পারিনি।” তবে নিরাপদে ছেলে ঘরে ফেরায় খুব খুশি ভট্টাচার্য দম্পতি। জয় দেশে ফেরার পরেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে করা আবেদন সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেন অভিজিৎ। বলেন, “প্রভু জগন্নাথ দেবের কৃপা, ছেলে নিরাপদে ফিরে এসেছে। আমরা এখন নিশ্চিন্ত।”