(বাঁ দিক থেকে)গোবিন্দ, তাঁর কন্যা টিনা এবং স্ত্রী সুনীতা। ফাইল চিত্র।
গত কয়েক বছরে অভিনেতা গোবিন্দ এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজাকে ঘিরে একাধিক গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কখনও তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনা, কখনও আবার অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কিত দাবি প্রকাশ্যে এসেছে। এত গুঞ্জনের মাঝেই এ বার এই নিয়ে মুখ খুললেন তাঁদের মেয়ে টিনা আহুজা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টিনা তাঁর অভিনয়জীবন এবং পরিবারকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে নিয়ে কিছু ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল, যার ফলে নাকি অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে তাঁর।
টিনার কথায়, অনেক ‘কাস্টিং’ পরিচালক এবং নির্মাতার ধারণা ছিল, তিনি তারকাসন্তান হওয়ায় কখনও অডিশন বা ‘লুক টেস্ট’ দিতে রাজি হবেন না। কিন্তু বাস্তবে নাকি বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। তিনি বলেন, “আমি সবসময়েই অডিশন এবং লুক টেস্ট দিতে প্রস্তুত ছিলাম। যদি ভাল কোনও কাজের সুযোগ আসে, তা হলে আমি কেন তা করব না? আমি একটি ভাল ওটিটি সিরিজ় কিংবা ভাল ছবির অংশ হতে চাই।”
তিনি আরও জানান, মানুষ প্রায়ই মনে করেন বড় তারকার সন্তানেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে চান না। কিন্তু তাঁর মতে, বিশ্বের বড় বড় তারকারাও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য ‘লুক টেস্ট’ দেন। তাই এক জন অভিনেত্রী হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষেত্রে তিনি কখনও কোনও সহজ পথ অবলম্বনের চেষ্টা করেননি।
অন্যদিকে, বাবা-মাকে ঘিরে ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়া গুজব নিয়েও নিজের অনুভূতির কথা জানান টিনা। তিনি বলেন, “প্রতি দশকেই নতুন নতুন গল্প তৈরি হয়। আগে ম্যাগাজ়িনে লেখা হত, পরে ইন্টারনেটে ছড়াত, আর এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবের যুগে তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।”
যদিও ‘ভিত্তিহীন’ সব খবর তাঁকে মানসিক ভাবে প্রভাবিত করে বলে স্বীকার করেছেন টিনা। তাঁর কথায়, “আমি মানুষ। তাই এ সব খবর দেখে খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক, বিশেষ করে যখন তার কোনও সত্যতা থাকে না এবং বিষয়টিকে বাড়িয়ে উপস্থাপন করা হয়। অনেক সময়ে একটি ছোট তথ্যকে কেন্দ্র করে ‘ক্লিকবেট’ তৈরি করা হয় এবং তার পর নতুন গল্প বানানো হয়।”
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি শিখেছেন যে, কী ভাবে এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। টিনা মনে করেন, বিনোদনজগতে টিকে থাকতে গেলে মানসিক ভাবে প্রবল শক্ত হতে হয়। তিনি বলেন, “যখন আপনি সত্যিটা জানেন এবং নিজের সম্পর্কে নিশ্চিত থাকেন, তখন অযথা প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোনও প্রয়োজন নেই। এ সব বিষয়কে নিজের মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে দেওয়া উচিত নয়।”
প্রসঙ্গত, গোবিন্দ এবং সুনীতার সম্পর্ক নিয়ে নানা সময়ে জল্পনা তৈরি হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ বা বিচ্ছেদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। সেই পরিস্থিতিতে টিনার এই মন্তব্য যেন আবার স্পষ্ট করে দিল যে, গুজব এবং বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য বোঝাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।