Rahul banerjee Death Overall

‘অস্তে’ গেলেন অরুণোদয়! বাবার কাজ সেরে বাড়ি ফিরল সহজ, সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা, সন্ধে হতেই বিষণ্ণ রাহুলের বিজয়গড়ের পাড়া

সোমবার বিকেলে শেষকৃত্য হল রাহুল অরুণোদয়ের। বিজয়গড়ের বাড়িতে মা শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায় তখনও পুত্রশোকে বিহ্বল অবস্থায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ২২:৩১
রাহুল নেই, সহজকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন প্রিয়ঙ্কা।

রাহুল নেই, সহজকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন প্রিয়ঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত।

সোমবার সকাল। তমলুকের হাসপাতাল। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহের ময়না তদন্ত শেষ হল একটু বেলাতেই। এর পরে বন্ধুবান্ধব, শুটিং ইউনিটের লোকজন অভিনেতার শবদেহ নিয়ে কলকাতায় ফিরলেন তখন সবে দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে। বিজয়গড়ে অভিনেতার বাড়ির সামনে দুপুর থেকেই পড়শি থেকে অনুরাগী, উৎসাহীদের ভিড়। দেহ বাড়ির সামনে আসতেই শোকে ভেঙে পড়েন অনেকে। তার পরে কিছু ক্ষণ বাড়িতেই শায়িত ছিলেন প্রয়াত রাহুল। বিকেলে সহকর্মী, অনুরাগীদের সহযোগিতায় কেওড়াতলা শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় শবদেহ। সন্ধে সাড়ে ৬টার মধ্যে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

Advertisement

২৯ মার্চ, রবিবার সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। দিঘার কাছে তালসারির সমুদ্রসৈকতে ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মারা যান রাহুল। অভিনেতার দুর্ঘটনা ও মৃত্যু ঘিরে এই ২৪ ঘণ্টায় উঠে পড়েছে বহু প্রশ্ন, অজস্র ধোঁয়াশা।

রাহুলের শববাহী গাড়িকে ঘিরে থিক থিক করছে ভিড়।

রাহুলের শববাহী গাড়িকে ঘিরে থিক থিক করছে ভিড়। নিজস্ব চিত্র।

রবিবার দুর্ঘটনার পর রাহুলকে নিয়ে যাওয়া হয় তমলুক মহকুমা হাসপাতালে। সেখানেই অভিনেতাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সোমবার সকালে অভিনেতার দেহের ময়না তদন্ত হয়। সকালেই তমলুক পৌঁছে যান সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ, পরিচালক সৌরভ পালোধী ও জয়রাজ ভট্টাচার্যেরা। এ দিকে, অভিনেতার বাড়িতে সকাল থেকে ভিড়। একেবারে সাতসকালে অভিনেতার বাড়িতে যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সকালে লোকজন ভিড় হওয়ার আগে অভিনেতার ফ্ল্যাটে পৌঁছে যান প্রিয়াঙ্কা, সঙ্গে পুত্র সহজ। এর পর বেলা যত বাড়তে থাকে, বাড়ির সামনে ভিড় বাড়তে থাকে।

কান্নায় ভেঙে পড়লেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী।

কান্নায় ভেঙে পড়লেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। নিজস্ব চিত্র।

অভিনেতার বাড়িতে যান অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মিত্রেরা। বিকেলের আগেই অভিনেতার বাড়ির নীচে দাঁড়িয়ে ‌থাকতে দেখা যায় ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, অভিনেতা চন্দন সেন, দিগন্ত বাগচী থেকে অনেককেই। বেলা ৩টে নাগাদ পল্লিশ্রীতে ঢোকে রাহুলের মরদেহ। অভিনেতাকে এক বার চোখের দেখা দেখবেন বলে হাজির তাঁর ছোটবেলার বন্ধু থেকে নাটকের দলের সহকর্মীরা। ছিলেন বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত সব অভিনেতারা। টলিপাড়ার একটা বড় অংশ যখন অভিনেতার শেষযাত্রায় হাজির, তখন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের আর কোনও অভিনেতা-অভিনেত্রী কিংবা প্রযোজকের দেখা মেলেনি।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। তাঁর ফুসফুসের ভিতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে পাওয়া গিয়েছে বালি এবং নোনা জল। তাঁর খাদ্যনালি, শ্বাসনালি, পাকস্থলীর ভিতরেও বালি ঢুকে গিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। দীর্ঘ ক্ষণ ধরে জলের তলায় ডুবে থাকলে এমন হয়, জানাচ্ছে এই রিপোর্ট।

এ দিকে রাহুলের দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অনেক। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মিত্র, শ্রীলেখা মিত্র সহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, জলের দৃশ্যে কী ভাবে কোনও ডুবরি, আপৎকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রযোজনা সংস্থা শুটিং করল।

বেলা ৪টে অভিনেতার বিজয়গড়ের ফ্ল্যাট ছেড়ে শববাহী গাড়ি রাহুলকে নিয়ে এগিয়ে যায় শ্মশানের পথে। শেষযাত্রায় ছিলেন ঊষসী চক্রবর্তী, দীপ্সিতা ধর-সহ অনেক বাম নেতা-সমর্থকেরা। তত ক্ষণে ছেলে সহজকে নিয়ে অভিনেত্রী তথা সাংসদ সায়নী ঘোষের গাড়িতে চেপে রওনা দেন প্রিয়াঙ্কা সরকার।

বিকেল ৫টায় অভিনেতাকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্মশানের ভিতরে। তত ক্ষণে কেওড়াতলায় হাজির প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, সায়নী ঘোষেরা। শ্মশানের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে অভিনেতার স্কুলের বন্ধুরা তখন তাঁদের কাছে রাহুল শুধু ‘অরুণ’। চার পাশে মানুষের ভিড়, লোকজনের ছবি তোলার হিড়িকে খানিকটা উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। শেষ বারের মতো ছোটবেলার বন্ধু ‘অরুণ’কে দেখতে চেয়ে মেজাজ হারান বন্ধুরা। সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ সম্পন্ন হয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। বাবার দাহকাজ সারে ১৩ বছরের ছেলে সহজ। এর পরেই ছেলে সহজকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন প্রিয়াঙ্কা।

এ দিন শেষকৃত্যের পরেও বিজয়গড়ে রাহুল অরুণোদয়ের বাড়ির আশপাশে ইতিউতি জটলা দেখা গিয়েছে। সর্বত্রই আলোচনায় পাড়ার ছেলে রাহুল। সন্ধের রাস্তায় পথবাতির আলোতেও এ দিন টুকরো টুকরো বিষণ্ণতার আঁধার যেন ঘিরে রইল বিজয়গড়কে।

Advertisement
আরও পড়ুন