বিঠাবাঈয়ের চরিত্রে শ্রদ্ধা, তিনি কে ছিলেন? ছবি: সংগৃহীত।
শ্রদ্ধা কপূরের ছবি ‘ঈথা’র ঝলক সাড়া ফেলেছে। মরাঠি লোকশিল্পী বিঠাবাঈ ভাঊ মাঙ্গ নারায়ণগাওকরের ভূমিকায় অভিনয় করছেন শ্রদ্ধা। অভিনেত্রীর প্রশংসা হচ্ছে দিকে দিকে। কিন্তু কে এই বিঠাবাঈ?
১৯৩৫ সালের ১ জুলাই মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার পন্ধরপুরে জন্মগ্রহণ করেন বিঠাবাঈ। তাঁর পরিবারের বড় অংশ জুড়ে ছিল নাচ, গান ও অভিনয়। তাঁর দাদু নারায়ণ খুডে একটি লোকনাট্য দল তৈরি করেছিলেন। তাঁরা ঘুরে বেড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় তামাশা করতেন। বিঠাবাঈয়ের বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যেরা সেই ঐতিহ্যকেই এগিয়ে নিয়ে যান।
ছোটবেলা থেকেই বিঠাবাঈ লাবণী, গাওলান-সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন লোকশিল্পের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীকালে এই শিল্পরূপই তাঁর পরিচয়ের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে। বিঠাবাঈ কখনও প্রথাগত অভিনয় প্রশিক্ষণ নেননি। গ্রামের পরে গ্রাম ঘুরে, তামাশা দলের সঙ্গে থেকে, সরাসরি দর্শকের সামনে অভিনয় করেই তিনি দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। খুব অল্প বয়সেই মঞ্চে নিজের উপস্থিতি ও অভিনয়ের জন্য তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন।
বিঠাবাঈয়ের চরিত্রে শ্রদ্ধা।
এর পরে একসময় বিখ্যাত মরাঠি নাট্যকার মামা বরেররকর তাঁর অভিনয় দেখেন। শিল্পীর মঞ্চের উপস্থিতি দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি বিঠাবাঈকে নিজের দলে কাজ করার সুযোগ দেন। এই ঘটনাই বিঠাবাঈয়ের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ধীরে ধীরে তিনি তামাশা জগতের অন্যতম বড় নাম হয়ে ওঠেন।
গ্রামের সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের নাট্যপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক মহলেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। বিঠাবাঈয়ের জীবনের অন্যতম ঘটনা হল, মঞ্চের পিছনে সন্তানের জন্ম দেওয়া। জানা যায়, একবার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তিনি মঞ্চে অভিনয় করছিলেন। হঠাৎ তাঁর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মঞ্চের পিছনে চলে যান এবং সেখানেই সন্তানের জন্ম দেন। প্রচলিত আছে, তিনি একটি পাথর দিয়ে সন্তানের নাড়ি কেটেছিলেন এবং আবার মঞ্চে ফিরে এসেছিলেন সন্তানের জন্ম দিয়ে। দর্শক বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলেছিলেন এবং তাঁকে বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন। নিজের শিল্পের প্রতি তিনি কতটা নিষ্ঠাবান, তা প্রকাশ পেয়েছিল এই ঘটনায়।
বিঠাবাঈয়ের কাছে এসেছিল ছবিতে অভিনয়ের সুযোগও। এমনকি, রাজ কপূরের থেকেও এসেছিল বিশেষ প্রস্তাব। কিন্তু বিঠাবাঈ সব প্রস্তাবই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ তিনি মনে করতেন, তিনি যদি তামাশা ছেড়ে চলচ্চিত্রে চলে যান, তাহলে তাঁর দলের সঙ্গে যুক্ত বহু শিল্পী ও তাঁদের পরিবারের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই কারণেই মানুষ তাঁকে ভালবেসে ডাকতেন ‘তামাশা সম্রাজ্ঞী’ নামে।
মঞ্চে তিনি যতটা ভালবাসা ও সম্মান পেয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবনে সে পথ ততটা সহজ ছিল না। জীবনে নানা সংগ্রাম, কষ্ট এবং আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। শিল্পী হিসাবে সাফল্যের আড়ালে ছিল অনেক না বলা গল্প। যে শিল্পী কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার মানুষকে আনন্দ দিয়েছিলেন, জীবনের শেষ সময়ে তাঁকেই আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছিল।
পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন শেষ জীবনে। ২০০২ সালের ১৫ জানুয়ারি বিঠাবাঈয়ের মৃত্যু হয়। সেই সময়ে জানা যায়, তাঁর পরিবারের পক্ষে হাসপাতালের খরচ মেটানো এবং তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়াও নাকি কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে তাঁর অনুরাগী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এগিয়ে এসে সাহায্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ‘ঈথা’ ছবিতে শ্রদ্ধা ছাড়াও অভিনয় করেছেন মহম্মদ জ়িশান আয়ুব, রণদীপ হুডা। ছবিটি ২৮ অগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা।