Madhubala Birth Anniversary

মধুবালাজি বিরলতম সুন্দরীদের একজন, আক্ষেপ, এক বারও কাছ থেকে দেখা হল না

মধুবালার জন্মদিনে আনন্দবাজার ডট কম-এর জন্য কলম ধরলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পুরনো বম্বে থেকে কিশোরকুমার ও মধুবালার বৈবাহিক জীবন, উঠে এল নানা কথা।

Advertisement
বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়
বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৯
মধুবালার জন্মদিনে কলম ধরলেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

মধুবালার জন্মদিনে কলম ধরলেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

যখন মুম্বইয়ে আসি, খুব ইচ্ছা ছিল মধুবালাজির সঙ্গে কাজ করব। কিন্তু সেই সৌভাগ্য আমার হয়নি। কিশোরকুমারের সঙ্গে আমার খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। ফলে মধুবালাকে যতটুকু চিনেছি, তার বেশির ভাগই কিশোরদার কাছে গল্প শুনে। পরে মধুবালার বোন মধুরজির স্টুডিয়ো ‘মধুর ধ্বনি’তে রেকর্ড করতে গিয়ে তাঁকেও আমি ওঁর কথা জিজ্ঞাসা করতাম। ওঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে তো অনেক কথা বলতে পারতাম!

Advertisement

আমার ভীষণ পছন্দের নায়িকা ছিলেন মধুবালাজি। মধুবালার মতো সুন্দরী ভারতীয় সিনেমায় আর কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না। কারও সঙ্গে ওঁর তুলনা করতে চাই না। বম্বেতে ওঁকে ‘ভেনাস’ বলত সকলে। একেবারে ‘বিউটি ক্যুইন’। প্রচুর ছবিতে অভিনয় করেছেন মধুবালা। সত্যেন বোসের ‘চলতি কা নাম গাড়ি’তে কাজ করার সময়েই কিশোরকুমারের সঙ্গে প্রেম হয়। তার পরে বিয়ে। কিন্তু বেশি দিন সংসার করতে পারেননি তাঁরা। ফলে কিশোরদা আফসোস করতেন খুবই। বলতেন, “দেখো, মধুকে ভালবেসে বিয়ে করলাম। কিন্তু, সংসার করা হল কই? রোজ শুটিংয়ের পরে গিয়ে ওর পাশে বসে থাকি। মাথায় হাত বুলিয়ে দিই। তার পরে আমার শূন্য বাড়িতে ফিরে আসি। বাড়ি আমার ফাঁকা।” অসুস্থতার কারণে নিজের বাপের বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন মধুবালা। বাইরে থেকে বুঝতে দিতেন না কাউকে, কিন্তু কিশোরদা খুবই দুঃখে থাকতেন। আমি ওঁকে কাছ থেকে দেখেছি, তাই জানি।

আমি তো মধুবালাজির সঙ্গে কোনও দিন দেখা করতেই পারিনি। বলিউডে যখন আসি, আমার খুব ইচ্ছা ছিল মধুবালাজির সঙ্গে কাজ করব, ওঁকে সামনে থেকে দেখব। হয়ে ওঠেনি। অথচ ওঁর থেকে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। সুরাইয়া বা নার্গিসজির সঙ্গে দেখা হয়েছে। নার্গিসজি তো আমার ছবিতে কাজও করেছেন। কিন্তু, মধুবালার মতো সুন্দরী ভারতীয় পর্দায় আর কেউ এসেছেন বলে আমার মনে হয় না। আমাদের বাংলায় খুব সুন্দরী দুই মহিলা ছিলেন, এক জনের নাম সুমিত্রা দেবী, অন্য জন সুচিত্রা সেন। ওই ধরনের সুন্দরীদের মধ্যে মধুবালা পড়েন। আমার খুব ইচ্ছা ছিল, একবার অন্তত ওঁকে কাছ থেকে দেখব। কিন্তু, সুযোগ পাইনি। অসুস্থ হওয়ার কারণে তাঁর সঙ্গে কারও দেখা করার অনুমতি ছিল না। বিয়ের পরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডাক্তার বলেন যে, তিনি সাংসারিক জীবনযাপন করতে পারবেন না। তখন থেকেই চিকিৎসাধীন হন তিনি।

“মধুবালার মতো সুন্দরী ভারতীয় সিনেমায় আর কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না।”

“মধুবালার মতো সুন্দরী ভারতীয় সিনেমায় আর কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না।” ছবি: সংগৃহীত।

পরবর্তী কালে আমি মধুবালাজির বোন মধুরজির স্টুডিয়োয় যেতাম রেকর্ড করতে। ওঁর কাছেও মধুবালাজি সম্পর্কে গল্প শুনতাম। তাঁর থেকেই শুনেছিলাম, মধুবালার প্রেম হয়েছিল ইউসুফ খানের সঙ্গে। ইউসুফ মানে আমাদের দিলীপ কুমার। একে অন্যকে প্রবল ভালবাসতেন। কিন্তু, এই সম্পর্কের বিরুদ্ধে ছিলেন মধুবালার বাবা। বেঁকে বসেন তিনি। ফলে পরিণতি পায়নি সেই সম্পর্ক। বিআর চোপড়া পরিচালিত ‘নয়া দৌড়’ ছবিতে সই করেছিলেন দিলীপ কুমার ও মধুবালা। কিন্তু, নায়িকার বাবা এই ছবিতে কাজ করতে দেননি তাঁকে। আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি, মামলা হয়। তখন মধুবালার বদলে বৈজয়ন্তী মালাকে নিয়ে ছবি তৈরি করেন পরিচালক। সেই সময়ের অন্যতম হিট সিনেমা এটি।

‘মুঘল-এ-আজ়ম’ ছবির পরিচালক ছিলেন কে আসিফ। আমি কাজের সূত্রে আসিফ স্টুডিয়োতেও যেতাম। তখন সেখানে শিশমহলের সেট তৈরি হয়েছে। লোকে অনুমতি নিয়ে সেই সেট দেখতে যেতেন। আসিফ সাহেবের সঙ্গেও গল্প করতাম। তাঁর মুখেই শুনেছি, ওই ছবির সময় নাকি মধুবালাকে তিনি বসিয়ে রেখে দিতেন। আমি খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করি, “মানে?” তখন বলেন, “ওঁকে আমি মোটা শিকল দিয়ে বেঁধে বসিয়ে রেখে দিতাম গরমের মধ্যে। মধুবালা কাঁদত। বার বার বলত, ‘এত মোটা শিকল, সহ্য করতে পারছি না। আমার কষ্ট হচ্ছে।’” আসিফ সাহেব জেদি পরিচালক ছিলেন। কড়া মেজাজে নাকি বলতেন, “তোমাকে দিনভর এ ভাবেই বসতে হবে। ওই কষ্টটাই আমি চাই পর্দায় ফুটে উঠুক।” স্বাভাবিক ভাবেই সেই ‘মুঘল-এ-আজ়ম’ ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে একটা মাইলফলক ছবি হয়েছিল।

“মধুবালা কাঁদত। বার বার বলত, ‘এত মোটা শিকল, সহ্য করতে পারছি না।’”

“মধুবালা কাঁদত। বার বার বলত, ‘এত মোটা শিকল, সহ্য করতে পারছি না।’” ছবি: সংগৃহীত।

ওঁর সম্পর্কে আমার জানার আগ্রহ ছিল প্রবল। তাই যাঁরা ওঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদেরই প্রশ্ন করতাম ওঁর সম্পর্কে। আমি ওঁর গুণমুগ্ধ ছিলাম। ওঁর সৌন্দর্য আমাকে খুবই আকর্ষণ করত। ওই সৌন্দর্য বিরল।

Advertisement
আরও পড়ুন