Chandan Sen on upcoming state election

যত দিন যাচ্ছে, ততই দেখা যাচ্ছে, ধনতান্ত্রিকতার ফলে অসাম্য একটা কুৎসিত চেহারা নিচ্ছে: চন্দন সেন

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনাচিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোট নিয়ে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন অভিনেতা চন্দন সেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৭
রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে নিজের মতামত জানালেন অভিনেতা চন্দন সেন।

রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে নিজের মতামত জানালেন অভিনেতা চন্দন সেন।

১ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?

চন্দন সেন: আমি এমন একজন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে চাই যিনি, মন্ত্রিসভার বাকি সকলের সঙ্গে বসে সভা পরিচালনা করেন। বিরোধীদের যে সব কথায় যুক্তি আছে, সেগুলো বলার সুযোগ করে দেন। যদি মনে করেন সেই কাজটি সত্যিই হওয়া দরকার, তা হলে তা করেন।

Advertisement

২ দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?

চন্দন: আমরা যে সময়ে বড় হয়েছি, সেই সময়ে আমাদের কাছে মতাদর্শটা জরুরি ছিল। কিন্তু আমার পারিবারিক শিক্ষা থেকে জানি যে, শুধু মতাদর্শকে গুরুত্ব দিলেই হয় না। প্রার্থী কী করছেন, সেটাও দেখার। যাঁরা ভোটে লড়তে আসছেন, তাঁরা যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তার কতখানি প্রয়োগ করতে পারছেন, সেটাও দেখা জরুরি। সাফল্য-ব্যর্থতা পরের ব্যাপার। আমাদের দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে সব প্রয়োগ সাফল্য পাবে, এর কোনও মানে নেই।

৩ প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

চন্দন: এই প্রসঙ্গে কেউ বলতেই পারেন বিধানচন্দ্র রায় তো ডাক্তারি পাশ করেছিলেন, জ্যোতি বসু তো আইন পাশ করেছিলেন, তাঁরা কি মুখ্যমন্ত্রিত্বের সব কিছু জানতেন? এর উত্তরে বলা যায়, তাঁরা মূলটুকু নিশ্চয়ই বুঝেছিলেন। তবে এও ঠিক যে, আমাদের দেশের নিরিখে এই কথাগুলোর কোনও মানে নেই। কারণ, যে দেশের আইনসভায় আদালতে প্রমাণিত দুষ্কৃতীরা দেশের আইন তৈরি করবেন বলে বসে থাকেন, সেখানে এই আলোচনা অর্থহীন।

৪ নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

চন্দন: বিধায়কের যা যা দায়িত্ব-কর্তব্য, সেগুলোই পালন করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু সেটা তো করতে দেবে না আমাদের এখানকার নিয়ম। নিজের এলাকায় কে কী উন্নয়ন করবেন না করবেন, তাঁর ইচ্ছার সঙ্গে হয়তো পার্টির মিলছে না। এই পুরো কুম্ভীপাকে এ দেশে তেমন কিছু করা সম্ভব বলে আমি মনে করি না। তবে সমবেত চেষ্টা হলে যে অনেকটাই করা যায়, তার প্রমাণ বামফ্রন্ট সরকার।

৫ আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

চন্দন: যদি সেটা সামাজিক মূল্যমানের সঙ্গে খাপ খায়, তবেই।

৬ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

চন্দন: অ্যাকাউন্টেবিলিটি! মানুষের কাছে কাজের জবাবদিহি করতে হবে।

৭ ঘন ঘন দল বদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

চন্দন: অবশ্যই দরকার। কোনও প্রার্থী যদি কোনও একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীকে জনগণের ভোটে জিতে তার পর দলবদল করেন, তা হলে সেটা তো সেই ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা। সংবিধান সংশোধন করে বলা উচিত যে, আগামী ৬-৮ বছর ওই প্রার্থী অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না।

৮ রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

চন্দন: এটা তো সাংস্কৃতিক আধিপত্য। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের যত সংস্কৃতির মান পড়েছে, ততই এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।

৯ দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন নাকি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কী বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

চন্দন: যত দিন যাচ্ছে তত প্রমাণিত হচ্ছে যে, ধনতান্ত্রিকতার ফলে অসাম্য একটা কুৎসিত চেহারা নিচ্ছে। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য— এই প্রাথমিক চাহিদাগুলো যদি কিছুটাও দেওয়া যায়, তা হলেও দেশ খানিকটা অগ্রগতির মু‌খ দেখতে পায়।

১০ ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

চন্দন: আমার মনে হয় না। ভাতা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনও সমাধান এটা হতে পারে না।

১১ প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

চন্দন: গণতন্ত্রের পক্ষে তো মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু যখন সোভিয়েত ব্যবস্থা তৈরি হয় সাত হাজার বছরের সভ্যতার বিরুদ্ধে, দেখা যায় দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ একই রকমের খাওয়া, পরা, শিক্ষা, বাসস্থান, সামাজিক উন্নয়নের যাবতীয় ভাগ— সবটাই পাচ্ছে। এটাও কিন্তু তথাকথিত গণতন্ত্রবিহীন এক সভ্যতা!

১২ তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

চন্দন: আমি মনে করি না সন্ধ্যা রায় বা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বা মিমি চক্রবর্তী ভোটে জিতেছেন। জিতেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যাপারটা হচ্ছে, ওই সব আসনে দলীয় কোন্দল এমন একটা জায়গায় আছে যে কাউকে প্রার্থী না করে বাইরের একজনকে বসিয়ে দেওয়া হয়!

১৩ পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

চন্দন: দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে পছন্দ করার মতো শেষ রাজনীতিবিদ ছিলেন নরসিংহ রাও। বামে গেলে অনেকেই আছেন। তবে বাম রাজনীতি তো একক হিসাবে হতে পারে না। তারা যা করে, সম্মিলিত প্রয়াসেই করে। হঠাৎ সুভাষ চক্রবর্তীকে আলাদা করে বার করে আনতে পারি না।

Advertisement
আরও পড়ুন