—প্রতীকী ছবি।
নয়াদিল্লি থেকে জারি হওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ ৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই বৃদ্ধি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে কার্যকর হয়েছে এবং এটি কর্মীদের মূল বেতনের উপর প্রযোজ্য হবে। সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্ধারিত ‘পে ম্যাট্রিক্স’-এর ভিত্তিতে এই ডিএ গণনা করা হবে। পাশাপাশি ডিএ-কে বেতনের পৃথক উপাদান হিসেবেই গণ্য করা হবে এবং এটি মূল বেতনের অংশ হিসেবে ধরা হবে না। এই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের ডিএর ফারাক বেড়ে হবে ৪২ শতাংশ।
এ ছাড়াও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএ হিসাবের ক্ষেত্রে ৫০ পয়সা বা তার বেশি ভগ্নাংশ থাকলে তা পরবর্তী পূর্ণ টাকায় ‘রাউন্ড অফ’ করা হবে, আর ৫০ পয়সার কম অংশ উপেক্ষা করা হবে। প্রতিরক্ষা ও রেলকর্মীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক আলাদা নির্দেশ জারি করবে বলেও জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের আর্থিক সুবিধা আরও বৃদ্ধি পেলেও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে ডিএ-র ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা প্রায় ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। সেই হিসাবে কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪২ শতাংশ।
এই বিপুল ব্যবধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিএ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে কেন্দ্রীয় হারে বৃদ্ধি ঘোষণার পর সেই দাবির জোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হলেও রাজ্য-কেন্দ্র বৈষম্যের প্রশ্নটি আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এ দিকে, ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, ১ এপ্রিল থেকে এই সুবিধা পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। অর্থাৎ, মে মাসের বেতনের সঙ্গে ডিএ দেওয়া হবে। এ দিকে এপ্রিল মাস শেষ হওয়ার মুখে। এখনও বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়ায় তা পাওয়া নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা।