প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই তার ছায়া টলিউডে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার দিন আর্টিস্ট ফোরামের সহ-কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন অভিনেতা দিগন্ত বাগচি। যদিও তাঁর দাবি, কোনও রাজনৈতিক চাপে পড়ে এই সিদ্ধান্ত তিনি নেননি।
সংগঠনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে অভিনেতা জীতু কমলেরও। তাঁর করা অভিযোগ শোনেনি কমিটি। রটনা, তিনিও নাকি সদস্যপদ ছাড়তে চান।
রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে কমিটির অন্দরের এই বদল কী চোখে দেখছেন সংগঠনের সদস্যরা? বুধবার সকলের পক্ষ থেকে ফোরামের কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের আন্তরিক অনুরোধ, সমাজমাধ্যমে জানানোর আগে কমিটিকে অভিযোগ জানান। আপনাদের জন্যই এই কমিটি তৈরি। হয়তো সময় লাগবে। কিন্তু, সকলের কথা শোনা হবে। কিন্তু কমিটিতে না জানিয়ে সমাজমাধ্যমে জানালে আমাদের তখন আর কী করার থাকে? কী বা তার উত্তর দেব? আমরা তো পাল্টা সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারি না!” প্রসেনজিতের আরও দাবি, এই অনুরোধ তাঁর একার নয়। সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক, সহ-সভাপতিরাও একই অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ দিন বক্তব্য জানাতে গিয়ে প্রসেনজিতের কণ্ঠেও কি প্রচ্ছন্ন অনুযোগ? তিনি বলেন, “২৭ বছরের একটি সংগঠন শিল্পীদের জন্য কিচ্ছু করেনি, এটা কি হতে পারে? আমরা শিল্পীদের পারিশ্রমিক কাঠামো নতুন করে বানিয়েছি। তাঁরা কত ক্ষণ কাজ করবেন, নির্দিষ্ট সময়ে যাতে পারিশ্রমিক পান-- এ সবের ব্যবস্থা করেছি। এগুলো সবাই এখন ভুলে গিয়েছেন।” সেই জায়গা থেকেই দিগন্তের ইস্তফা প্রসঙ্গে তাঁর মত, কেউ যেতে চাইলে তাঁকে আটকে রাখা যায় না। “দিগন্ত পদ ছাড়লেও সদস্যপদ ছাড়েনি। ও আমাদেরই লোক।”
দিগন্তের ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর এবং বর্ষীয়ান অভিনেতা ভরত কলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। গুঞ্জন, দিগন্ত এবং ভরত নাকি রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে অভিনেতাদের হুমকি দিতেন। ৭ মে-র পর আর্টিস্ট ফোরাম ভেঙে দেওয়ার মতো বার্তাও নাকি শোনা গিয়েছিল দিগন্তের মুখে। বিষয়টি অবশ্য দুই অভিনেতাই অস্বীকার করেছেন আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে। তাঁদের সমর্থন করেছেন সংগঠনের সহ-সভাপতি চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী।
বুধবার আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ও একই ভাবে বিষয়টি অস্বীকার করেন। সাফ বলেন, “আমাদের ওঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। ওঁদের নামেও কেউ কোনও অভিযোগ আমাদের জানাননি।” একই কথা বলেছেন সংগঠনের মুখপাত্র বিদীপ্তা চক্রবর্তীও। তাঁর কথায়, “দিগন্ত এর আগেও ইস্তফা দিতে চেয়েছিল। দ্বিতীয় বার ইস্তফা দেওয়ায় আমরা সেটি গ্রহণ করেছি, এই মাত্র।”