উষসী রায় ও সুস্মিত মুখোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
সাড়ে চারশোরও বেশি পর্ব। দেড় বছর ধরে সগৌরবে পথচলা। সব পেরিয়ে শেষ হচ্ছে রাজ চক্রবর্তীর ‘গৃহপ্রবেশ’। ধারাবাহিকের নায়ক সুস্মিত মুখোপাধ্যায় আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন, চোখে জল মুখে হাসি নিয়ে গত পরশু শুটিং শেষ করেছে টিম।
যার শুরু আছে, তার শেষ থাকবেই। রাজ তাঁর আগামী ধারাবাহিক তৈরিতে ব্যস্ত। টেলিপাড়ার অন্দরে অন্য প্রশ্ন ঘুরছে। গুঞ্জন, এই ধারাবাহিক দিয়েই নাকি নায়ক-নায়িকার বন্ধুত্বের সূত্রপাত। সুস্মিত-উষসী পরস্পরকে ‘ভাল বন্ধু’ হিসাবে পরিচয় দিতে ভালবাসেন। সাহেব ভট্টাচার্য-সুস্মিতা দে-র মতো ওঁদের বন্ধুত্বও কি আগামী দিনে অটুট থাকবে?
এই প্রশ্ন নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল সুস্মিত ও উষসী, দু’জনের সঙ্গে। উভয়েই জোর গলায় বলেছেন, “আজকের দিনে বন্ধু পাওয়া মুশকিল। এখন কেউ কাউকে চট করে ভরসা করতে পারেন না। সেই জায়গা থেকে আমরা যদি ‘বন্ধুত্ব’ ধরে রাখতে পারি, তা হলে ক্ষতি কী?” তবে তাঁরা তাঁদের এই ‘বন্ধুত্ব’কে তথাকথিত ‘সম্পর্ক’ বা ‘প্রেম’-এর মোড়কে মুড়তে রাজি নন।
এ তো গেল ব্যক্তিগত জীবনের কথা। পেশাজীবন নিয়ে কী ভাবনা কাজ করছে ‘গৃহপ্রবেশ’-এর নায়ক-নায়িকার মাথায়?
এখানেই সুস্মিত-উষসী একই পথের পথিক। উভয়েই আপাতত একটু বিশ্রাম করতে চান। সুস্মিতের কথায়, “টানা দেড় বছর একটি চরিত্রকে ধারণ করা সহজ নয়। তাই তার থেকে বেরোতে একটু সময় লাগবে। নিজেকে সেই সময়টাই দিতে চাইছি। তবে নানা মাধ্যম থেকে ডাক আসছে।” সুস্মিত ঠান্ডা মাথায় সবার প্রস্তাব শুনবেন। চিত্রনাট্য এবং নিজের চরিত্রের গুরুত্ব বুঝবেন। তার পর সিদ্ধান্ত নেবেন। পাশাপাশি, তিনি ব্যস্ত তাঁর মাকে নিয়েও। বললেন, “আমার মায়ের ইউরোপ ট্যুর ছিল। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই ভ্রমণ বাতিল হয়েছে। আমরা সারা ক্ষণ এই আলোচনাতেই মগ্ন।”
উষসীও ‘গৃহপ্রবেশ’ ধারাবাহিকের ‘শুভলক্ষ্মী’ হয়েই রয়েছেন। চরিত্র থেকে সম্পূর্ণ ভাবে মুক্ত হতে পারেননি। তিনিও তাই ছুটির মেজাজে। “পরপর কাজ নিয়ে কোনও কাজটাই ভাল হয় না”, যুক্তি নায়িকার। তাঁকে ছোটপর্দার মতো সিরিজ়েও নিয়মিত দেখা যায়। এ বার কি মাধ্যম বদলাবেন? “আগাম কোনও কিছুই ঠিক থাকে না আমার। যখন যেটা ভাল মনে হয়, করি। সে ভাবেই চলব।”