কোন ধরনের খাবার হরমোনের জন্য ভাল? ছবি: সংগৃহীত।
মহিলাদের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্যে হেরফের মানে শুধুই ঋতুস্রাবের সমস্যা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মেজাজ, ঘুম, হজম, ত্বক, ওজনও। তাই হরমোনের ওঠানামা হলে তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা শরীরেই। ক্লান্তি, ব্রণ, পেটফাঁপা, বিরক্তি বা অনিয়মিত ঋতুস্রাব— এ সব সমস্যার পিছনেও অনেক সময়ে হরমোনের গোলমালই কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, তবে খাবারও এই ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। তাই রোজের খাদ্যাভ্যাসে রাখতে হবে পুষ্টিকর খাবার।
হরমোনের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে কী কী খাবেন?
তিসির বীজ: ছোট এই বীজে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার এবং লিগন্যান নামক উদ্ভিজ্জ উপাদান। এগুলি ইস্ট্রোজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি, তিসির ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে, যা অতিরিক্ত হরমোন শরীর থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে গোটা তিসির চেয়ে গুঁড়ো করে খেলে শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
তিসির বীজ। ছবি: সংগৃহীত
শাকপাতা: ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, ফোলেট, আয়রন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের প্রাচুর্যে ভরা শাকপাতা। হরমোনের স্বাস্থ্যের জন্য এই উপাদানগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ, খারাপ ঘুম বা ঋতুস্রাবের ঠিক আগের উপসর্গ কমাতে ম্যাগনেশিয়াম দরকার। আর সেগুলি মেলে শাকপাতায়। পাশাপাশি এগুলি রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত বাড়ায় না। ফলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য শাকপাতার অবদান অঢেল।
বাদাম: স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, খনিজ ইত্যাদির জন্য আজকাল স্বাস্থ্যসচেতনদের পাতে বাদাম ও নানা ধরনের বীজ থাকে। এই সব উপাদান হরমোন ক্ষরণকে আরও সক্রিয় করতে পারে। পাশাপাশি, থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাস্থ্যরক্ষাতেও খুব জরুরি এগুলি। ঠিক যেমন, কুমড়োর বীজ জ়িঙ্কে ভর্তি, যা প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আখরোটে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়।
আখরোট। ছবি: সংগৃহীত
টক দই: দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। আর অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল থাকলে হরমোনের বিপাকক্রিয়াও ভাল হয় বলে মনে করা হয়। তাই চিনি ছাড়া সাধারণ টক দইকে হরমোনের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসাবে দেখা হয়। ঘরে পাতা দইয়ের সঙ্গে বাদাম ও বীজ মিশিয়ে খেলে বেশি উপকার মিলতে পারে।
ডাল ও বিনজাতীয় শস্য: মুসুর ডাল, কাবলিছোলা, রাজমা, কালো ছোলা বা মুগ— এই ধরনের খাবারে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন এবং ধীর গতিতে হজম হওয়া শর্করা। এগুলি দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ডালে থাকা ফাইটোইস্ট্রোজেন শরীরের ইস্ট্রোজেনকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপ্রয়োজনীয় হরমোনকে দূর করে।