Kidney Disease

ডায়ালিসিস ছাড়াই সুস্থ হবে কিডনি! প্রতিস্থাপনের বদলে এক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আসছে

কিডনির রোগ মানেই আতঙ্ক। কিডনি বিকল হলে প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। আর কিডনি প্রতিস্থাপন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া ক্রনিক কিডনির রোগ মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেলে তখন ডায়ালিসিস করতেই হয়। এতে সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সুযোগও কম। সে জায়গায় এখন এক নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি আসতে চলেছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪২
AAV Gene Therapy in Kidney Disease, a new era of Precision Medicine

কিডনির রোগ সারবে, প্রতিস্থাপনের ঝুঁকি কমবে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কিডনিতে পাথর জমছে শুনলেই আতঙ্ক হয়। সে জায়গায় ক্রনিক কিডনির রোগ আরও ভয়াবহ। অনেকেরই ধারণা, কিডনি এক বার বিকল হলে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। লাগাতার ডায়ালিসিস বা প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। তবে এখন কিডনির রোগের সম্পূর্ণ নিরাময়ের পদ্ধতি খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা। প্রতিস্থাপন বা ডায়ালিসিসের যন্ত্রণা ছাড়াই যদি বিকল কিডনিকে সারিয়ে তোলা যায়, তা হলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। কিডনির রোগের নিরাময়ে স্টেম কোষ থেরাপি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। সম্প্রতি আরও এক নতুন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে— এএভি জিন থেরাপি। আমেরিকার ইউনিভর্সিটি অফ ওয়াশিংটন এবং হার্ভার্ড ও ম্যাসাচুসেসট ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)-র গবেষকেরা এই থেরাপি নিয়ে গবেষণা করছেন।

Advertisement

এএভি জিন থেরাপি কী?

দীর্ঘমেয়াদি কিডনির অসুখে এই থেরাপির প্রয়োগ করতে চলেছেন গবেষকেরা। এটি এমন এক পদ্ধতি, যেখানে ত্রুটিপূর্ণ জিনকে সুস্থ জিন দিয়ে পতিস্থাপন করা হয়। গবেষকদের দাবি, রোগাক্রান্ত জিনই যত নষ্টের গোড়া। তাকে সরিয়ে দিতে পারলেই কিডনি সুস্থ হবে। রোগও সারবে এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনও হবে না।

জিনের এই থেরাপির সবচেয়ে বড় চমক হল ভাইরাস। থেরাপিটি করা হবে ভাইরাসের সাহায্যে। সর্দি-কাশির সাধারণ অ্যাডেনোভাইরাসকে এর জন্য বেছে নিয়েছেন গবেষকেরা। ভাইরাসের কাজ হবে বাহকের মতো। সুস্থ জিন সঠিক জায়গায় বয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হবে তাকেই। এ জন্য ভাইরাসকে আগে বিষমুক্ত করবেন গবেষকেরা। তার নিজস্ব ক্ষতিকারক উপাদান সরিয়ে ভিতরে পুরে দেওয়া হবে সুস্থ জিন, যা কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পৌঁছে সেখানকার রোগাক্রান্ত জিনকে সরিয়ে সে জায়গা দখল করবে। তার পর ধীরেসুস্থে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলির মেরামত করতে থাকবে।

কিডনির এই নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ভাইরাসের মধ্যে পুরে রাখা জিন পাঠানো হবে রোগীর শরীরে। সেই প্রক্রিয়া নিরাপদ হবে বলেই দাবি করেছেন গবেষকেরা। ঠিক যে ভাবে ভাইরাসের কোষ ব্যবহার করে টিকা তৈরি করা হয়, তেমন পদ্ধতিতেই এই থেরাপি করা হবে। কিডনির গঠন যেহেতু জটিল, তাই সঠিক জায়গায় সুস্থ জিন পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই পরীক্ষা চলছে। পুরোপুরি সফল হলে আর কয়েক বছরের মধ্যেই কিডনির রোগের চিকিৎসায় এই থেরাপির প্রয়োগ শুরু হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন