পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে দুধ খাবেন, তবে বেছে নেবেন কোনটি? ছবি: সংগৃহীত।
দুধ না খেলে গায়ে শক্তি হবে কী করে? দুধ খেতে না চাওয়া শিশুদের এতদিন এই ভাবে বুঝিয়েই ভুলিয়ে-ভালিয়ে দুধ খাওয়াতেন বাবা-মায়েরা। বাড়ন্ত বয়সের জন্য দুধ উপকারী হলেও, তা কি পেটের জন্যও ভাল? না কি ওট্স বা কাঠবাদামের দুধই বেছে নেওয়া ভাল?
দুধ: প্রাণিজ দুধে থাকা ফ্যাট, হজম প্রক্রিয়াকে কিছুটা শ্লথ করে দেয়। ফলে, দ্রুত শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় না। তবে ক্যালশিয়াম, প্রোটিন-সহ রকমারি খনিজে ভরপুর দুধ শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। দুধে থাকা ল্যাক্টোজ় নামক শর্করা হজমে অসুবিধা না থাকলে খাওয়া যেতেই পারে। দুধ পেটের জন্যও ক্ষতিকর নয়, বরং তা অন্ত্রের পক্ষে উপকারী।তবে ল্যাক্টোজ় ইনটলারেন্স বা ল্যাক্টোজ় হজমে সমস্যা থাকলে দুধ খেলে পেটফাঁপা, বদহজম হতে পারে।
বিকল্প কি তবে কাঠবাদামের দুধ: স্বাস্থ্যসচেতন বা ভিগানরা (নিরামিষাশী এবং প্রাণিজ খাবার খান না)অনেকেই কাঠবাদামের দুধ খাচ্ছেন। এই দুধে ক্যালোরি কম, প্রোটিন নেই বললেই চলে, ফাইবারও কম। তবে ক্যালশিয়াম-সহ বেশ কিছু ভিটামিন, খনিজ মেলে এতে।তাই খুব হালকা কোনও দুধ খেতে চাইলে এটি ভাল।
ওট্সের দুধ: ওট্সে ফাইবারের মাত্রা বেশি, ফলে পেটের জন্য এটি বেশ ভাল। তবে ওট্সেও কার্বোহাইড্রেট মেলে যথেষ্ট। ওজন কমাতে চাইলে সেই মাত্রাটি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।তবে অনেক বিক্রেতা সংস্থাই ওট্সের স্টার্চ ভেঙে সাধারণ শর্করায় পরিণত করে। এমন দুধ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে বাড়িতে তৈরি চিনি ছাড়া ওট্সের দুধ স্বাস্থ্যকর, পেটের পক্ষেও ভাল।
তিন ধরনের দুধের মধ্যে কোনটি অন্ত্র-বান্ধব সেই বিচার হলে এগিয়ে থাকবে ওট্সের দুধ। হজমের সমস্যা না হলে প্রাণিজ দুধ অবশ্যই উপকারী। আর হালকা কিছু খেতে চাইলে কাঠবাদামের দুধ খাওয়া যেতে পারে।