হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপিতে বৃদ্ধের প্রাণ বাঁচান চিকিৎসকেরা। ছবি: ফ্রিপিক।
ক্যানসারের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হল রেডিয়োথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি। ক্যানসারের ধরনের উপরে ভিত্তি করেই চিকিৎসকেরা রেডিয়োথেরাপির পরামর্শ দেন। এতে ক্যানসার কোষগুলি নষ্ট হয় ঠিকই, তবে ক্ষতি হতে থাকে তার আশপাশে থাকা সুস্থ কোষগুলিরও। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীরের অন্যান্য অংশের সুস্থ কোষেও ক্ষয় শুরু হয়েছে। ঠিক এমনই হয়েছিল ৭০ বছরের এক বৃদ্ধের। মুখগহ্বরের ক্যানসারে আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে দিনের পর দিন রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়ার কারণে তাঁর গলায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়। সেই ক্ষতের গভীরতা ক্রমেই বাড়ছিল। শেষে ঘণ্টাখানেকের জটিল অস্ত্রোপচারে বৃদ্ধের প্রাণ বাঁচান চিকিৎসকেরা।
বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বৃদ্ধের চিকিৎসা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বৃদ্ধের গলার কাছে যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল সেখান থেকে পুঁজ, রক্ত বার হতে শুরু করেছিল। সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল খাদ্যনালিতেও। পচে যাচ্ছিল সেখানকার কোষ। ফলে চিকিৎসকদের সেই ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সরিয়ে সে জায়গায় নতুন কোষ প্রতিস্থাপন করতে হয়, পাশাপাশি নতুন করে তৈরি করতে হয় খাদ্যনালি ও জিহ্বাও। এই ধরনের অস্ত্রোপচারের নাম 'হাইপারাবারিক অক্সিজেন থেরাপি'।
কী এই চিকিৎসা পদ্ধতি?
রেডিয়েশন থেরাপির কারণে অনেক সময়েই সুস্থ কোষের ক্ষয় হতে থাকে। ফলে সেই অংশের কোষ, কলা পচে যেতে থাকে। এই অবস্থাকে বলে ‘অস্টিয়োরেডিয়োনেক্রোসিস’। এই রোগ হলে সেই অংশের ত্বকে ক্ষত তৈরি হতে থাকে। সাধারণ প্লাস্টিক সার্জারিতে এই ক্ষত মেরামত করা যায় না। সেই সময়ে এমন থেরাপি করে থাকেন চিকিৎসকেরা। অক্সিজেন থেরাপি করে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ও রক্তনালিগুলিকে সারিয়ে তোলা হয় এই পদ্ধতিতে। পাশাপাশি, মাইক্রোভাস্কুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ সার্জারিও করেন চিকিৎসকেরা। ‘ফ্রি ফ্ল্যাপ’ হল শরীরের অন্য অঙ্গ অর্থাৎ সাধারণত পা, হাত বা পিঠের অংশ থেকে পেশি, চামড়া ও রক্তনালি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বসিয়ে দেওয়া। এই পদ্ধতি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলিকে তুলে এনে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় প্রতিস্থাপন করার প্রক্রিয়া খুবই জটিল। পাশাপাশি, সুস্থ কোষগুলিকে তুলে এলে ক্ষতের জায়গায় প্রতিস্থাপন করতে হয়। এই পদ্ধতিতে ওই বৃদ্ধের গলার ক্ষত মেরামত করেন চিকিৎসকেরা। শুধু তা-ই নয়, নতুন করে খাদ্যনালি ও জিভেরও পুনর্গঠন করতে হয়। বেঙ্গালুরুর চিকিৎসকেরা দাবি করেছেন, খাদ্যনালি ও জিহ্বা পুনর্গঠনের এই অস্ত্রোপচার বিরল। আর এতেই সাফল্য এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রাণ বেঁচেছে বৃদ্ধের।