ওজন কমবে সময় করে খেলেই। কোন সময়ে খাওয়া দরকার? ছবি:সংগৃহীত।
কথায় আছে, ‘আমার যা খাই তেমনই ফল পাই’। তবে শুধু খেলেই হল না, কখন খাওয়া হচ্ছে, কী খাওয়া হচ্ছে, কী ভাবে খাওয়া হচ্ছে— প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ, মনে করাচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। কারণ, শরীর চলে ছন্দ মেনে। সেই ছন্দে পতন ঘটলে ধাক্কা খেতে পারে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া।
মেদ ঝরানোর জন্য যেমন ক্যালোরির মাপজোক জরুরি, তেমনই দরকার উন্নত বিপাকহার। পরিপাকে সমস্যা হলে, বিপাকক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যলাভ অধরাই থেকে যেতে পারে। মেদ ঝরাতে হলে তাই ঘড়ি ধরে খাদ্যাভ্যাসও জরুরি।
কোন সময় কোন খাবার খেলে সুস্থ থাকবে শরীর, ঝরানো যাবে মেদ?
প্রাতরাশ: ৯টার সময় ঘুম থেকে উঠে কেউ খান ১০টায়, কেউ আবার সকালের তাড়াহুড়োয় যা হোক কিছু মুখে দিয়েই অফিস দৌড়োন। পুষ্টিবিদেরা মনে করান, দিনের শুরুর খাবারই ঠিক করে, দিনভর শরীর কেমন থাকবে। সেই কারণে প্রাতরাশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ডিম, অ্যাভোকাডো টোস্ট, কলা, গ্রিক ইয়োগার্ট, বেরি, ওটমিল, চিয়া পুডিং, মাল্টিগ্রেন ব্রেড টোস্ট— এই ধরনের খাবারগুলি প্রাতরাশের জন্য ভাল। তবে সকালের খাবার খেতে হবে ৭টা-৯টার মধ্যে। প্রতি দিন সেই সময়টি নির্দিষ্ট থাকা জরুরি।
মধ্যাহ্নভোজের আগে: ৭টা-৮টার মধ্যে প্রাতরাশ সারলে মধ্যাহ্নভোজের আগে বেশ কিছুটা সময় মেলে। এই সময় হালকা খিদে পেতেই পারে। ১০-১১টার মধ্যে একটি ডিমসেদ্ধ, না হলে প্রোটিন স্মুদি, কাঠবাদাম, লেবু জাতীয় ফল খাওয়া যেতে পারে। তালিকায় বাদাম রাখলে শরীর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাবে।
মধ্যাহ্নভোজ: অফিসেই থাকুন বা বাড়িতে, দুপুরের খাওয়ার সময়টা বেঁধে ফেলুন বেলা ১টা থেকে ২টোর মধ্যে। দুপুরের খাবারে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট— পুষ্টির সামঞ্জস্য থাকা খুব জরুরি। সব্জি-ভাত বা কিনোয়া, মাছ বা মাংস, পাঁচমিশালি সব্জি, প্রোটিনে ভরপুর বাদাম দেওয়া স্যালাড, পনির বা চিকেন র্যাপ, স্বাদ এবং পছন্দ অনুযায়ী খাবার বেছে নিতে হবে।
বিকেল
৪টে-৫টার মধ্যে আবার হালকা কিছু খাওয়ার দরকার পড়বে। এলোপাথাড়ি খাওয়া নয়, খেতে হবে পু্ষ্টিগুণ বুঝে। গ্রিন টি, মাখানা, রাইস কেক, ফল, চিজ়, সেদ্ধ গাজর, শুকনো খোলায় ভাজা ছোলা খাওয়া যেতে পারে।
নৈশভোজ
নৈশাহার সারতে সারতে অনেকেরই রাত ১০টা, ১১টা বেজে যায়। কিন্তু পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ওজন কমাতে বলে রাতে খাওয়া সারা দরকার সন্ধে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে। প্রোটিন ও ফাইবারের মিশেল থাকা দরকার সেখানে। মুরগির মাংস ও লেটুস দিয়ে রুটি রোল, মুরগির মাংসের স্ট্যু, ডালের স্যুপ, কাবলি ছোলার স্যালাড —ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এমন অনেক কিছুই খাওয়া যেতে পারে।
রাত
৮টার মধ্যে খেলে রাত ১০টায় খিদে পেতে পারে। এই সময় ক্যামোমাইল টি, কেশর মেশানো দুধে চুমুক দেওয়া যেতে পারে। খাওয়া যেতে পারে আপেলও।