Jaggery Benefits for Breathing

শ্বাসকষ্টের সময়ে গুড় মুখে দিলেই নাকি সেরে উঠতে পারেন! আদৌ সত্য? গুড় কী ভাবে সাহায্য করে

শ্বাসকষ্ট হলে অনেকেই গুড় খাওয়ার পরামর্শ দেন। মনে করা হয়, গুড় খেলে শ্বাসনালিতে জমে থাকা কফ পরিষ্কার হয় এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। কিন্তু তা কতখানি সত্য?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৯:৫৬
গুড় খেলে কী উপকার মিলতে পারে?

গুড় খেলে কী উপকার মিলতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।

খামখেয়ালি আবহাওয়ায় সর্দি-গর্মি হচ্ছে ঘরে ঘরে। আর তা থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যাও হয় কারও কারও। সে সময়ে অনেকেই গুড় খাওয়ার পরামর্শ দেন। মনে করা হয়, গুড় খেলে শ্বাসনালিতে জমে থাকা কফ পরিষ্কার হয় এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ধারণা এখনও যথেষ্ট জনপ্রিয়। কিন্তু তা কতখানি সত্য?

Advertisement

চিকিৎসকদের মতে, গুড় একটি পুষ্টিকর খাবার হলেও শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগের সরাসরি চিকিৎসা হিসেবে দেখা একেবারেই ঠিক নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি সাময়িক আরাম দিতে পারে।

শ্বাসকষ্টের সমস্যায় কী করা উচিত?

শ্বাসকষ্টের সমস্যায় কী করা উচিত? ছবি: সংগৃহীত

গুড়ে কী কী পুষ্টি রয়েছে?

আখ বা খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম ইত্যাদি। এ ছাড়া গুড় তুলনামূলক কম প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় এতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও বজায় থাকে।

কী উপকারিতা মেলে গুড় খেলে?

গুড় খেলে অনেকের গলায় সাময়িক আরাম মিলতে পারে। বিশেষ করে গরম জল, আদা বা কিছু ভেষজ উপাদানের সঙ্গে গুড় খেলে গলার খুসখুসে ভাব কিছুটা কমতে পারে। এই কারণেই সর্দি-কাশি হলে অনেকেই গুড় খেতে পছন্দ করেন। তবে এটি মূল রোগ সারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। তা ছাড়া প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী গুড় কফ গলিয়ে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুবই সীমিত। যদিও গরম পানীয়ের সঙ্গে গুড় খেলে অনেকের আরাম লাগতে পারে, তবে কফ বা শ্বাসকষ্টের চিকিৎসার বিকল্প হিসাবে গুড়ের উপর নির্ভর করা উচিত নয়।

শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য কি উপকারী?

হাঁপানি, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ বা অন্যান্য শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে গুড় কোনও চিকিৎসা নয়। চিকিৎসকদের মতে, এ সব রোগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ওষুধ এবং চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গুড় খেলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, কিন্তু তা রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায় নয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

কয়েকটি উপসর্গগুলি থাকলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যেমন—

· দীর্ঘ দিনের শ্বাসকষ্ট

· শ্বাস নিলে বাঁশির মতো শব্দ

· কফে রক্ত

· জ্বরের সঙ্গে কাশি

· শ্বাস নেওয়ায় প্রবল অসুবিধা

· বার বার হাঁপানির উপসর্গ

Advertisement
আরও পড়ুন