প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার যে লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেছে সরকার, সকল রাজ্যের উন্নতি না-হলে তা সম্ভব নয়। নীতি আয়োগের বৈঠকে এমনটাই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকল রাজ্যকে এর জন্য সক্রিয় হতে বলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে জোর দিতে বলেছেন বাণিজ্য এবং শিল্পের বিনিয়োগের দিকে। মোদী জানিয়েছেন, রাজ্যগুলিকে জেলা স্তর থেকে জিডিপি হিসাব করতে হবে। তবেই লক্ষ্যে পৌঁছোনো সম্ভব।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক ছিল। মোদীই পদমর্যাদা বলে ওই কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন। এ ছাড়া, বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ২৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কী কী বার্তা দিয়েছেন, তা তিনিই সংবাদমাধ্যমকে জানান। অশোক জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই বৈঠক চলেছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন কাঠামো’। কী ভাবে দেশের উন্নতি ও অগ্রগতিকে ত্বরাণ্বিত করা যায়, মোদী সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
নীতি আয়োগের বৈঠকের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতে জ্বালানির বাজার টলমল। চড় চড় করে দাম বেড়ে চলেছে রান্নার গ্যাস, বাণিজ্যিক গ্যাস কিংবা পেট্রল ও ডিজ়েলের। সরকারের ভূমিকাও তাতে প্রশ্নের মুখে। পরিস্থিতি কী ভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়, তার বিভিন্ন দিক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীরা আলোচনা করেছেন।
নীতি আয়োগের এক সদস্য সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, রাজ্যগুলির উন্নতির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন মোদী। তার জন্য জেলা স্তরে জিডিপি-র দিকে নজর দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীদের। তৃণমূল স্তরে উন্নয়ন এবং অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অশোক জানান, দেশে সুপরিকল্পিত নগরায়ন প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, সকল মুখ্যমন্ত্রী এবং গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যেরা এ বিষয়ে সহমত হয়েছেন। তবে পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কোনও রাজ্য আলাদা করে কেন্দ্রের সাহায্য চায়নি।