Abhishek Banerjee CID

ভবানী ভবনে অভিষেক, আদালতের নির্দেশ মেনে সময়ের আগেই হাজিরা, বাইরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি

নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁর গাড়ি সিআইডি দফতরে পৌঁছেছে। বাইরে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অভিষেক। সরাসরি দফতরে ঢুকে গিয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৭:৫৩
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানী ভবনের সিআইডি দফতরে। বৃহস্পতিবার বিকেলে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানী ভবনের সিআইডি দফতরে। বৃহস্পতিবার বিকেলে। —নিজস্ব চিত্র।

নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁর গাড়ি সিআইডি দফতরে পৌঁছেছে। বাইরে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অভিষেক। প্রথমে সরাসরি দফতরে ঢুকে গিয়েছিলেন। পরে বেরিয়ে আবার যান প্রধান ফটকের দিকে। সেখানে উপস্থিতির নথিতে তাঁকে সই করতে হয়। তার পর আবার দফতরে প্রবেশ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

Advertisement

বৃহস্পতিবারই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেছেন অভিষেক। বিকেল ৪টে ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নামে। তার পর সেখান থেকে সরাসরি তিনি যান কালীঘাটের বাড়িতে। বিকেল পৌনে ৬টা নাগাদ অভিষেক আবার বাড়ি থেকে বেরোন এবং সময়ের আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছে যান।

বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি। এর আগে তিনি একাধিক বার হাজিরা এড়িয়েছেন। এক বার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সময় চেয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে। পরের বার রাজনৈতিক কারণে তিনি শহরের বাইরে ছিলেন। এর মধ্যেই সিআইডি গ্রেফতার করতে পারে ভেবে অভিষেক কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আবেদন জানিয়েছিলেন রক্ষাকবচের। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। আদালত তাঁকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে বলেছিল। বলা হয়েছে, অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে সিআইডি এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। দু’সপ্তাহ পরে এই মামলার আবার শুনানি হবে। তত দিন পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না অভিষেকের বিরুদ্ধে।

শুনানির আগে অভিষেকের এই মামলা থেকে সরে যান তাঁর আইনজীবী তথা দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্যের’ বিরুদ্ধে তিনি মুখ খুলেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক থাকলে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। মমতাকে তাঁর এবং অভিষেকের মধ্যে থেকে যে কোনও এক জনকে বেছে নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে মমতা কী করবেন, অভিষেক নিজে কী করবেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।হাই কোর্টের নির্দেশের পর অভিষেকের হাজিরা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সিআইডি-র তরফেও তাই নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয় ভবানী ভবনের। বাড়তি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, র‌্যাফ মোতায়েন করা হয় সেখানে। এ ছাড়া, রাখা হয়েছিল কাঁদানে গ্যাসও। অভিষেক পৌঁছোলে সেখানে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না-হয়, তা নিশ্চিত করতেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি করেছে সিআইডি।

বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, চিঠিতে অনেকের সইয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। অনেকের দাবি, তাঁরা স্বাক্ষর করেননি। কারও কারও নাম লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে! সেই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। নোটিসও ধরানো হয় অভিষেককে। কিন্তু তিনি এক বারও হাজিরা দেননি। বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর অভিষেককে দেখে কেউ কেউ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন। অভিষেক নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। ইতিমধ্যে সইকাণ্ডের তদন্ত করতে তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি।

Advertisement
আরও পড়ুন