ভেষজ চা দিনে কত বার খাওয়া যায়? ছবি: সংগৃহীত।
বাজারে এখন ভেষজ চায়ের বেশ রমরমা। সাধারণ পরিবারেও দুধ চা, লিকার চায়ের বদলে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে ভেষজ চা। এখন ক্যাফিনযুক্ত চা, কফি ছেড়ে ক্যাফিনমুক্ত ক্যামোমাইল, হিবিসকাস, লেমনগ্রাস, জিঞ্জার চায়ে চুমুক দিচ্ছেন স্বাস্থ্য সচেতনেরা। যাঁদের ঘন ঘন জল খেতে সমস্যা, তাঁরা শরীরে জলের ঘাটতি মেটানোর জন্য ভেষজ চায়ের উপর ভরসা রাখতেই পারেন।
গুণের শেষ নেই, তবুও ভেষজ চা কখনওই সম্পূর্ণ ভাবে জলের বিকল্প হতে পারে না। জলের গঠনে কোনও বায়োঅ্যাকটিভ কম্পাউন্ড থাকে না, ফলে তা শরীরে অনেক দ্রুত শোষিত হয়। অন্য দিকে, ভেষজ চায়ে উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক বা বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ থাকে, যেগুলি শরীরের পক্ষে উপকারী হলেও শরীরে মিশতে সময় নেয়, এবং এক এক জনের শরীরে এক এক রকম ভাবে প্রভাব ফেলে। কিছু ভেষজের মূত্রবর্ধক প্রভাব রয়েছে, যা প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। কিছু আবার হজম, রক্তচাপ বা হরমোনকে উদ্দীপিত করে। কিছু ভেষজ অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের, কিডনির সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের এবং যাঁরা ক্রনিক রোগের ওষুধ খান, তাঁদের জন্য বেশি মাত্রায় খাওয়া নিরাপদ নয়।
জল কেবল তৃষ্ণা মেটায় না। জল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, অস্থিসন্ধিগুলিকে পিচ্ছিল রাখে, কিডনির কাজে সহায়তা করে এবং শরীর থেকে বর্জ্য বার করতে সাহায্য করে। শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতেও জলের বড় ভূমিকা থাকে।
শরীরের জলের ঘাটতি কিন্তু জল দিয়েই মেটাতে হবে। সকালে উঠে ভেষজ চা খেলে চলবে না, জল খেতে হবে বেশি করে। তিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি ভেষজ চা খাওয়া চলবে না। তবে, সারা দিনে চিনি বা সোডা জাতীয় পানীয়ে বারে বারে চুমুক না দিয়ে ভেষজ চায়ে চুমুক দেওয়াই যায়।