(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্লাদিমির পুতিন (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করল রাশিয়ার সমালোচক পোল্যান্ড। পশ্চিমি সামরিক জোট নেটোর সদস্যরাষ্ট্রের তরফে উন্নত ড্রোন প্রযুক্তিক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা এবং উৎপাদনে তারা উৎসাহী।
পোল্যান্ডের সরকারের ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তি দফতরে’র উপসচিব মিখাইল বারানোভস্কি সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘বিশ্বের কিছু সেরা ড্রোনের উৎপাদনকারী পোল্যান্ড। যা পর্যবেক্ষণ এবং হামলা (লয়টারিং মিউনিশন) দুই কাজের জন্যই ব্যবহৃত হয়।’’ এর পরেই সিঁদুর অভিযানে ভারতকে সহযোগিতার কথা জানিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘এই প্রযুক্তি আমরা বিনিময় করতে পারি। আগেও ভারতের সঙ্গে আমরা তা করেছি। পোল্যান্ডের ড্রোনগুলি অভিযান (অপারেশন সিঁদুর) চলাকালীন সন্ত্রাস পরিকাঠামো ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।’’
শুধু অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জামের বাজার হিসাবেই নয়, ভারতকে কৌশলগত অংশীদার হিসাবেও দেখতে চায় পোল্যান্ড। এমনটাই জানিয়েছেন বারানোভস্কি। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কেবল ভারতকে বাজার হিসাবে দেখছি না, অংশীদার হিসেবে দেখছি। তাই আমি আশা করি, আগামী কয়েক মাসে আমরা যৌথ উদ্যোগে সামরিক উৎপাদনের আরও প্রসারিত করতে পারব।’’ তিনি জানান, পোল্যান্ডের একটি প্রধান প্রতিরক্ষা সংস্থা ইতিমধ্যেই ভারতে একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান গড়েছে। ডব্লিউবি গ্রুপ নামে ওই সংস্থার সহায়ক প্রতিষ্ঠান ‘ডব্লিউবি ইলেকট্রনিক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিতে ড্রোন নির্মাণে অংশ নিচ্ছে।
বারানোভস্কি জানান, ২০২৪ সালের অগস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোল্যান্ড সফরের পরে কৌশলগত অংশীদারির উত্থান ঘটেছে। সেই সঙ্গে তিনি জানান, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক আগামী দিনে ভারতের সফরে আসতে পারেন। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের গোড়ায় ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর সদস্যরাষ্ট্র পোল্যান্ড প্রকাশ্যে রুশ মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলেছিল। আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল রুশ সেনার ড্রোনের বিরুদ্ধে। গত বছর রুশ বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধেরও ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী টাস্ক।