Chicken Pox in Children

বসন্তের আগমনে হানা দেয় জলবসন্ত, শিশুদের কী ভাবে সাবধানে রাখবেন? বাবা-মায়েদের জন্য কিছু পরামর্শ

হাম, পক্সের প্রকোপ বাড়ছে বিশ্বের নানা দেশে। হাম, চিকেন পক্স কোনও মারাত্মক রোগ নয়। তবে খুব কষ্টদায়ক। ছোটদের এই সময়ে চিকেন পক্স বেশি হয়, তাই বাবা-মায়েরা কী ভাবে সতর্ক থাকবেন, রইল কিছু পরামর্শ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৫
Chickenpox cause and prevention tips, how to protect your children this spring

চিকেন পক্স থেকে সাবধান, ছোটদের কী ভাবে সাবধানে রাখবেন? ছবি: ফ্রিপিক।

বিশ্ব জুড়ে এখম হাম-পক্সের প্রকোপ খুব বেশি। এ দেশে তেমন ভাবে না হলেও ইউরোপ, আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টাতেই হাম ও বসন্তের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। তবে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এখন এই সব রোগ হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই। তবে শীতের শেষ ও বসন্তের আগমনের সময়টাই চিকেন পক্স বা জলবসন্তের বাড়বাড়ন্ত হয় বেশি। চিকেন পক্স তেমন মারাত্মক অসুখ না হলেও বেশ কষ্টদায়ক। এই অসুখ একাধিক বারও হতে পারে। তাই ছোটদের এই সময়ে একটু বেশিই সাবধানে রাখতে হবে। পক্সের লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

Advertisement

চিকেন পক্স ভ্যারিসেল্লা জুস্টার নামক ভাইরাস থেকে হয়। সংক্রামক রোগ বিষয়ক চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানান, পক্স হলে চার দিন আগে থেকে জ্বর আসে। ধীরে ধীরে সারা শরীরে ফোস্কার মতো বার হয়। ফোস্কার ভিতরের রস ঘন হয়ে পুঁজের মতো হয়। ৭-১০ দিন পর থেকে তা শুকোতে থাকে। শুকিয়ে যাওয়ার পরে র‌্যাশ থেকে খোসা উঠতে শুরু করে। এই সময়টাই খুব যন্ত্রণাদায়ক। পক্সের লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে নিভৃতবাসে রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নতার বিধি মেনে চলতে হবে।

বাবা-মায়েরা কখন সাবধান হবেন?

৫ থেকে ১০ বছরের শিশুর পক্সে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ছ’মাসের কমবয়সি শিশুর পক্সের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। চিকেন পক্স হলে আগে জ্বর হবে। পরের দু’-তিন দিনের মধ্যে জ্বরের মাত্রা বাড়তে থাকবে। সেই সঙ্গে সারা শরীরে ব্যথা হবে। ছোট ছোট গুটির মতো র‌্যাশ বার হবে। সারা শরীর, মুখে ফোস্কার মতো দেখা দেবে। সেই জায়গাগুলিতে চুলকানি হবে। গুটিগুলি যত ক্ষণ পর্যন্ত শুকিয়ে না যায়, তত দিন সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণত চিকেন পক্স শুরুর ৪৮ ঘন্টা আগে থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত এই রোগের ভাইরাস অন্যের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

কী ভাবে যত্ন নেবেন?

১) শিশুকে যে ঘরে রাখবেন, সেখানকার দরজা জানলা যেন খোলা থাকে। ঘরে যেন যথেষ্ট আলো-হাওয়া চলাচল করতে পারে।

২) ঠান্ডা লাগানো যাবে না কোনও ভাবেই। পক্সের সময় গায়ে জ্বর থাকে। এই সময়ে বেশি ঠান্ডা লেগে গেলে নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিস হওয়ার ভয়ও থাকে।

৩) জল বেশি করে খেতে হবে। জল ফুটিয়ে খাওয়াই ভাল।

৪) এই সময়ে হজমশক্তি কমে যায়, তাই কম তেল ও মশলা দেওয়া খাবার খাওয়াতে হবে শিশুকে। চিকেন স্ট্যু, সব্জি দিয়ে নানা রকম তরকারি ও টাটকা ফল খাওয়াতে হবে। খাবারে সাধারণত কোনও বিধিনিষেধ নেই। তবে ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড বা বাইরের কোনও খাবার খাওয়ানো চলবে না।

৫) থুতু-লালা থেকেও এই রোগ ছড়ায়। তাই শিশুর ব্যবহারের জিনিসপত্র আলাদা রাখবেন। শিশুর পোশাক, ব্যবহারের জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখতে হবে।

৬) জ্বর ও ফোস্কা হওয়ায় সারা শরীরে চুলকানির তীব্রতা কমাতে অনেক সময় অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনও ওষুধ দেবেন না।

Advertisement
আরও পড়ুন