herpangina Symptoms

খুদে জ্বর, গলাব্যথায় ভুগছে? হতে পারে হারপ্যানজাইনার লক্ষণ, অভিভাবকেরা সতর্ক হবেন কী ভাবে?

হারপ্যানজাইনা রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। সাধারণত বর্ষাকালেই এই রোগে আক্রান্ত হয় খুদেরা। ১ বছরের বেশি বয়সি শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। কক্সজ়্যাকি ভাইরাসের কারণেই এই রোগ হয়। কোন কোন লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১২:২২
হারপ্যানজাইনা রোগটি কেন হয়?

হারপ্যানজাইনা রোগটি কেন হয়? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বর্ষাকাল মানেই ছোটদের প্রিয় মরসুম। বৃষ্টিতে ভেজা, খিচুড়ি খাওয়া, ঘন ঘন স্কুল ছুটি, জমা জলে ঝাঁপাঝাঁপি করে খেলা করা— তাদের আনন্দ আর দেখে কে! কিন্তু খুদেদের যতটা আনন্দ, তাদের বাবা-মায়েদের ততটাই বিড়ম্বনা। বর্ষা মানেই শিশুদের কোনও না কোনও রোগ লেগেই থাকা। ঠান্ডা লাগা, জ্বর, কাশি, পেটের গোলমাল— কিছু না কিছু চলেছেই। তাই অভিভাবকদেরও এই সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। এই সময় আর্দ্র পরিবেশে সহজেই ব্যাক্টেরিয়া-ছত্রাকের বাড়বৃদ্ধি ঘটে। এই মরসুমে হারপ্যানজাইনায় আক্রান্ত সহন অনেক খুদেই।

Advertisement

হারপ্যানজাইনা রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। সাধারণত বর্ষাকালেই এই রোগে আক্রান্ত হয় খুদেরা। ১ বছরের বা তার উপরের বয়সের শিশুরা আক্রান্ত হয় বেশি। কক্সজ়্যাকি ভাইরাসের কারণেই এই রোগ হয়।

লক্ষণ: জ্বর, গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি হারপ্যানজাইনার মূল লক্ষণ। এই অসুখে মুখ ও গলার পিছনের অংশে লালচে ভাব বা আলসার দেখা যায়, সেগুলির চারপাশে সাদা আস্তরণও থাকতে পারে। এর পাশাপাশি এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর অতিরিক্ত লালা পড়ে, খাওয়া কমে যায়, মুখে দুর্গন্ধ হয়, কখনও কখনও বমিও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে এই মরসুমে শিশুর জ্বর হলে মুখের ভিতরে ভাল করে দেখতে হবে। গলার ভিতরে, আলজিভের পাশে ইনফেকশন থাকলে সেটা হারপ্যানজাইনা হতে পারে।

চিকিৎসা: হারপ্যানজাইনা আগাম প্রতিরোধ করার কোনও ভ্যাকসিন নেই। সে ভাবে কোন ওষুধও নেই। স্বাভাবিক ভাবে এই রোগ থেকে সেরে উঠতে সময় লাগে পাঁচ থেকে সাত দিন। এর উপশম দাঁড়িয়ে আছে প্যারাসিটামল আর সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্টের উপর। জ্বর ও ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। হারপ্যানজাইনা হলে শিশুরা একেবারে খেতে চায় না। ফলে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ফ্লুয়িড ইনটেক কমে গেলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মুখের ভিতরে ঘা থাকায় ঝাল, মশলাদার ও নুন জাতীয় খাবার দিলে তাদের যন্ত্রণা বাড়বে, তাই নরম, গলা, মিষ্টি জাতীয় খাবার দিতে হবে। যেমন পাতলা করে বানানো সুজি, গলানো আইসক্রিম ইত্যাদি।

ঝুঁকি এড়াবেন কী করে?

এই রোগ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিশুর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপরে বেশি করে নজর দিতে হবে। বাইরে থেকে এসে, খেতে বসার আগে এবং মলত্যাগের পরে হাত সাবান দিয়ে ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে। অসুখ সেরে যাওয়ার পরেও কিছু দিন শরীর বেশ দুর্বল থাকে। এই সময় পুষ্টিকর খাবারের উপরে জোর দিতে হবে। তাই সম্পূর্ণ সেরে ওঠার পরেই স্কুলে বা বাইরে খেলতে, অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে পাঠানো উচিত। অনেকের ধারণা, বাড়িতে পোষ্য থাকলে এই রোগ ছড়াতে পারে। তবে এই ধারণা ভুল।

Advertisement
আরও পড়ুন