দই ভাল না ঘোল? ছবি: ফ্রিপিক।
টক দই খাওয়া শরীরের জন্য খুবই ভাল। সকালের জলখাবারে হোক বা দুপুরের খাবার খাওয়ার পরে এক বাটি টক দই খেলে হজম ভাল হয়। আবার রোগা হতে টক দইয়ের সঙ্গে শসা খান অনেকে। আসল কথা হল, পেটের জন্য যে খাবারগুলি ভাল, তার মধ্যে তালিকায় প্রথমেই আছে টক দই। ডায়েট নিয়ে যাঁরা সচেতন, তাঁরা প্রোবায়োটিক কথাটির সঙ্গে পরিচিত। ইদানীং অবশ্য ইন্টারনেটের দৌলতে প্রোবায়োটিক পরিচিত নামই হয়ে উঠেছে। প্রোবায়োটিক হল কিছু ভাল ব্যাক্টেরিয়া, যারা হজমে সাহায্য করে। এই প্রোবায়োটিকের অন্যতম উৎস হল দই। কাজেই দই যে পেটের জন্য ভাল তা আর বলে দিতে হয় না। দই ভাল করে ফেটিয়ে তার সঙ্গে পুদিনা, জিরে, আদা ও খানিক মশলা মিশিয়ে ঘোল বানিয়েও খাওয়া হয়। সেটিও উপকারী। এখন কথা হল, দই না দইয়ের ঘোল, কোনটির উপকার বেশি?
পেটের সমস্যা অথবা খাবার খেতে অরুচি, যে কোনও সমস্যাতেই পেট ভরানোর জন্য দই বা দইয়ের ঘোল খাওয়ারই পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। দু’টিই উপকারী। কিন্তু কারও জন্য দই বেশি ভাল, আবার কেউ ঘোল খেলে বেশি উপকার পাবেন। তবে পুষ্টিগুণের বিচারে, সহজপাচ্য হল দইয়ের ঘোল। যাঁরা অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা দইয়ের ঘোল খেলে বেশি উপকার পাবেন।
দই কাদের জন্য ভাল?
দইয়ে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন বি১২ প্রচুর পরিমাণে থাকে। হাড় মজবুত করতে সহায়ক দই। পেশি গঠনে সাহায্য করে। শিশুদের হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য দই খুব কার্যকর। দই ল্যাকটিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা অন্ত্রে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে হজমশক্তি আরও ভাল করে। দই তাঁরাই বেশি খেতে পারেন যাঁদের প্রোটিন বেশি প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন বা কোনও সংক্রামক রোগে ভুগেছেন, তা হলে দই খেলে উপকার বেশি পাবেন। আবার গ্যাস-অম্বলের সমস্যা নেই, ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁরাও দই খেলে উপকার বেশি পাবেন।
দইয়ের ঘোল কাদের জন্য উপকারী?
বদহজম,গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা দইয়ের বদলে ঘোল খেলে বেশি উপকার পাবেন।
ঘোল শরীরকে আর্দ্র রাখবে। ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার সমস্যা যাঁদের বেশি হয়, তাঁরা দইয়ের ঘোল নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।খাবারে অরুচি হলে আদা, বিট নুন এবং জিরেগুঁড়ো মিশিয়ে ঘোল খেলে রুচি বাড়বে।
ঘোলে ক্যালোরি ও ফ্যাট দইয়ের চেয়ে কম, তাই স্থূলত্ব রয়েছে যাঁদের তাঁরা নিয়মিত ঘোল খেলে উপকার পাবেন। এতে মেদ ঝরবে তাড়াতাড়ি।
ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স থাকলে অর্থাৎ, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জি থাকলে দইয়ের চেয়ে ঘোলই বেশি উপকারে আসবে।
দীর্ঘ সময় ধরে হাঁপানি, সিওপিডি বা শ্বাসজনিত সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য দই উপযুক্ত নয়। কারণ দই খেলে শ্লেষ্মা আরও বেড়ে যাবে। বদলে ঘোল খেলে উপকার বেশি হবে।