তাপমাত্রার পারদ চড়ছে, অস্বস্তি বাড়ছে পেটেও? গরমের মরসুম মানেই বদহজম, পেট ভার অতি সাধারণ ব্যপার। সঙ্গে জুড়ে যায় অরুচিও। অল্প খেলেই শরীর আইঢাই করে। আর তেলমশলাদার খাবার খেয়ে ফেললে তো কথাই নেই।
পুষ্টিবিদেরা বলছেন, তীব্র গরমে পরিপাকক্রিয়ার গতিও কমতে থাকে। সমস্যা সেখানেই। দক্ষিণ দিল্লির পুষ্টিবিদ নমামি অগ্রবাল জানাচ্ছেন, প্রচণ্ড গরমে হজমকারী উৎসেচকের সক্রিয়তা কমে যায়, তার উপর জলের অভাব হলে সমস্যা বাড়ে। দুইয়ের প্রভাবে খাবার পরিপাকে সমস্যা হয়।
টক দই এবং পেটের স্বাস্থ্য
গরমের মরসুমে পাতিলেবুর জল, টক দই, রায়তা, ছাস, লস্যি— এমন নানা ধরনের খাবার খাওয়ার চল রয়েছে এ দেশের নানা রাজ্যেই। পানীয় যেমন শরীরে জলের চাহিদা মেটায়, তেমনই মজানো খাবার পেট ভাল রাখে। সেই তালিকায় বরাবরই থাকে টক দই। ল্যাক্টো ব্যাসিলাস নামক ব্যাক্টেরিয়া দুধে থাকা ল্যাক্টোজ়কে ভেঙে ল্যাক্টিক অ্যাসিডে পরিণত করে। এই অ্যাসিড অন্ত্রে উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই ব্যাক্টেরিয়া খাবার হজম করাতে সহায়ক, পাশাপাশি পেটের স্বাস্থ্যও ভাল রাখে।
ঠিক সেই কারণে, পেট ভাল রাখতে টক দই খাওয়ার চল। ভাতের পাতে অনেকেই টক দই দিয়ে বানানো রায়তাও খান।
টক দই না ছাস
আবার ছাস খাওয়া হয় হজমের জন্য। টক দই জল দিয়ে পাতলা করে, তার মধ্যে মশলা মিশিয়ে তৈরি হয় ছাস। গুজরাত, রাজস্থান-সহ ভারতের নানা রাজ্যেই নোনতা ছাস খাওয়ার চল হয়েছে। টক দইয়ে জল মিশিয়ে খুব ভাল ভাবে তা ফেটিয়ে নেওয়া হয়। তার মধ্যে জিরে, নুন, মশলা দিয়ে তৈরি হয় ছাস নামক পানীয়টি। পানীয়টি শরীরে জলের চাহিদাও পূরণ করে।
উপকারিতায় এগিয়ে কে
টক দইয়ের প্রোবায়োটিক অন্ত্রে উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তা হলে কোনটি বেছে নেবেন? গরমে তেতে-পুড়ে আসার পরে জলের চাহিদা বাড়ে। ঘাম হওয়ায় শরীর থেকে জল এবং খনিজ বেরিয়ে যায়। ফলে সেই সময় নোনতা ছাস খাওয়া ভাল। তা ছাড়া দইয়ের চেয়ে ছাস হজমেও বেশি সহায়ক।
খাওয়ার পরে অনেক জায়গায় লস্যি খাওয়ার চল আছে। গরমের দিনে ঘন লস্যি বিশেষত চিনি দিয়ে খেলে হজমের গোলমাল হতে পারে। বদলে দইয়ের পাতলা ছাস খেলে, খাবার হজম করা সহজ হয়। তবে ছাস খেলে যে দই খাওয়া যাবে না, তা নয়। দিনে এক বার যদি ছাস খাওয়া হয়, ভাতের পাতে টক দই বা রায়তাও রাখতে পারেন।
উপকারী হলেও টক দই বা ছাস খাওয়া উচিত পরিমিত পরিমাণে। গরমের দিনে দুই-তিন গ্লাস ছাস খেলে সেই দিন বাদ রাখতে পারেন টক দই। টক দইয়ে শুধু প্রোবায়োটিক মেলে না। এতে থাকে ক্যালশিয়ামও এবং অন্যান্য খনিজও। পাতে টক দই থাকলে, সেটিও যেন হয় পরিমাণ মাফিক। বেশি টক দই খেলেও কিন্তু অম্বলের ধাত থাকলে হজমের সমস্যা হতে পারে।