Fungal Infection

ওষুধেও সারবে না, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ছত্রাকের সংক্রমণ বিশ্বের নানা দেশে, কতটা ভয়াবহ?

ক্যানডিডা অরিয়াসকে 'বিপজ্জনক' বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক বা শরীরের কোনও ক্ষতস্থান স্পর্শ করলে সংক্রমণ ঘটতে পারে। খুব দ্রুত রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ছত্রাক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৩
Deadly drug-resistant fungus Candida spreading very rapidly

ওষুধ খেয়েও সারবে না রোগ, কী ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ হচ্ছে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অসুখ সারাতে সঠিক ওষুধের প্রয়োগই একমাত্র পথ। কিন্তু সেই ওষুধই যখন ক্ষেত্রবিশেষে কাজ করে না, তখন অসুখ সারবে কিসে? বর্তমান ভারত তথা সারা বিশ্ব দাঁড়িয়ে আছে সেই মারাত্মক সম্ভাবনার মুখে, যেখানে জানা যাচ্ছে, অনেকের শরীরেই অ্যান্টিবায়োটিক আর ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। সম্প্রতি ভারতের কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ এক সমীক্ষায় দাবি করেছে, বেশ কিছু ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাক অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। তারা ছড়াচ্ছে খুব দ্রুত। এদের মধ্যেই একটি হল ক্যানডিডা অরিয়াস। আমেরিকার ২৭টি রাজ্যে এই ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ক্যানডিডা হানা দিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতেও। এর থেকে বাঁচতে সতর্কতা জারি করেছে সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন।

Advertisement

কতটা সংক্রামক এই ছত্রাক?

ক্যানডিডা অরিয়াসকে 'বিপজ্জনক' বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক বা শরীরের কোনও ক্ষতস্থান স্পর্শ করলে সংক্রমণ ঘটতে পারে। খুব দ্রুত রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ছত্রাক। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে দ্রুত সংক্রমণ ঘটতে পারে। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বা ক্যাথিটারের মতো চিকিৎসার সরঞ্জামে এই ছত্রাক দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম হলে এই ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি হয়। যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ, ভেন্টিলেশনে রয়েছেন এমন রোগী বা হার্ট, লিভার বা কিডনির রোগের ভুগছেন ও সেই সংক্রান্ত ওষুধও খাচ্ছেন, তাঁদের শরীরে ক্যানডিডা ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। আর সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হল, ছত্রাকের সংক্রমণ রুখতে যে সমস্ত ওষুধগুলি এত দিন দিতেন চিকিৎসকেরা, সেই ওষুধগুলি নাকি আর কাজই করছে না এর উপরে। পুরোপুরি ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে এই ছত্রাক।

লক্ষণ কী কী?

ক্যানডিডার সংক্রমণ হলে সারা গায়ে র‌্যাশ বেরোতে পারে, চর্মরোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঠান্ডা না লাগলেও ঘন ঘন জ্বর হবে, শ্বাসনালিতে সংক্রমণ হতে পারে।

রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এই ছত্রাক, সেখান থেকে সেপসিসের মতো সংক্রামক রোগও দেখা দিতে পারে।

অনেক সময়ে ক্যানডিডার সংক্রমণে কানের ভিতরে ব‌্যথা, পুঁজ, রক্ত জমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

ছত্রাক থেকে বাঁচতে

ছত্রাকের সংক্রমণ প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই আক্রান্তকে আলাদা রাখাই ভাল। এমনকি, রোগীর পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে ও সাবধানে থাকতে হবে।

রোগ হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে হবে। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতাই ছত্রাকের সংক্রমণের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

রোগী ও আশপাশের মানুষ প্রত্যেককে খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। রোজ ধোয়া জামাকাপড় পরতে হবে। বিছানার চাদর, বালিশের ঢাকনা নিয়মিত পাল্টাতে হবে। বাড়িতে শিশু থাকলে পরিচ্ছন্নতার বিধি মেনে চলতে হবে।

বাইরে থেকে ফেরার পরে হাত ও পায়ের পাতা ভাল করে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ভিজে পায়ে দীর্ঘ ক্ষণ থাকবেন না, সব সময়েই শুকনো করে পা মুছে নেবেন।

এই ছত্রাকের কারণে জ্বর, চোখে-নাকে ব্যথা, মাথাব্যথা, নাকের চামড়া বিবর্ণ হয়ে যাওয়া, ঠোঁট কালচে হওয়া, দেখতে অসুবিধা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কফ, রক্তবমির মতো সমস্যা, এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীনতাও দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রমণের সন্দেহ হলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন