Taratala Godown Collapse

তিনি না-বললে প্ল্যান পাশ হয় না পুরসভায়! তারাতলা বিপর্যয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ফিরহাদের ডান হাত, কে এই কালীচরণ?

২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ফিরহাদের মেয়র পদে বসার সময় কালীচরণের পুরসভার প্রশাসনে আগমন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কলকাতা পুরসভায় কোনও নির্মাণকাজ কিংবা অন্য কোনও কাজ করাতে গেলে কালীচরণের অনুমতি নেওয়া ছিল বাধ্যতামূলক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৪:৫৭
Former Mayor Firhad Hakim s OSD Kalicharan Bandyopadhyay faces allegations from Suvendu Adhikari

কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তারাতলার বিপর্যয় নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে জনৈক ‘কালী’র কথা উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গুদাম ভেঙে পড়ার নেপথ্যে কালীর ভূমিকা আছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘কলকাতা পুরসভায় কালী না-বললে কোনও প্ল্যান (পাশ) হয় না।’’ আর তার পরেই জল্পনা শুরু হয়েছে, কে এই কালী?

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী ‘কালী’র পুরো নাম বলেননি। তাঁর পরিচয়ও দেননি। কিন্তু কলকাতা পুরসভার অন্দরমহলের খবর, এই কালী হলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আসলে রাজ্য সরকারি কর্মচারী। এক সময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কাজ করতেন। তার পরে আমলা হিসেবে যোগ দেন রাজ্য প্রশাসনে। ২০১৮ সালের শেষের দিকে শোভন চট্টোপাধ্যায় কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন। নতুন মেয়র হলেন ফিরহাদ হাকিম। এই সময়েই পুরসভায় কালীচরণের আগমন।

পুরসভার অলিগলি চিনে নিতে ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী কালীচরণের বেশি সময় লাগেনি। অল্প সময়েই তিনি মেয়রের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। কলকাতার মেয়র হওয়ার পাশাপাশি ফিরহাদ তখন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কয়েক মাসের জন্য পরিবহণ, দমকল দফতরের দায়িত্বও ছিল তাঁর কাঁধে। পুরসভার অন্দরের খবর, মন্ত্রিত্ব সাামলাতে গিয়ে মেয়রের কাজে যথেষ্ট সময় দিতে পারতেন না ফিরহাদ। তিনি পুর প্রশাসন দেখতেন কালীচরণের চোখ দিয়ে। ক্রমে ছোট লালবাড়ির অলিন্দে কালীচরণই হয়ে ওঠেন শেষ কথা।

তারাতলার ভেঙে পড়া গুদামের নকশা ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে বুধবারই অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সেই নকশায় মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সইও দেখিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভা নকশাটি পাশ করেছিল। আর এই সূত্রেই কালীর প্রসঙ্গ টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘‘কালীকে তুললে সব বেরিয়ে যাবে।’’ তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ‘‘এই কালী বাইপাসের পাশে আপনাদের তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে। এখান (পুরসভা) থেকে টাকা তুলে ওখানে পাঠায়। আমরা সব জানি, সব বের করেছি।”

কালীচরণের সঙ্গে শুধু ফিরহাদ হাকিম নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জুড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘সবাই জানে, কালীকে নিয়োগ করেছে ক্যামাক স্ট্রিট।’’ ক্যামাক স্ট্রিট অর্থে অভিষেকের অফিস। তৃণমূল জমানায় দল ও প্রশাসনের অনেকটাই ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নিয়ন্ত্রিত হত। কিন্তু ফিরহাদ সেই নিয়ন্ত্রণের আওতায় ছিলেন না বলেই তৃণমূল সূত্রের খবর।

শুভেন্দু সদ্য কালীচরণকে কাঠগড়ায় তুললেও প্রায় দু’বছর আগেই তাঁর দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল ক্যামাক স্ট্রিটই! অভিষেকের অফিসের এক কর্মী অয়ন ঘোষদস্তিদার শেক্সপিয়র সরণি থানায় জমা করা তাঁর অভিযোগপত্রে বলেছিলেন, কালীচরণ নিজেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করে বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায় করছেন। এই ঘটনায় তখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় উঠেছিল। অনেকেই বলেছিলেন, এটা আসলে ক্ষমতার দখলদারি ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে টানাপড়েনের প্রতিফলন। সেই সময় প্রকাশ্যেই কালীচরণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ফিরহাদ। অয়নের করা অভিযোগ নিয়ে কলকাতা পুলিশও আর এগোয়নি। কোনও এফআইআর-ও দায়ের করা হয়নি।

এ দিন খোদ মুখ্যমন্ত্রী কালীচরণর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ জানানোর পরে অবশ্য ফিরহাদের মুখে কুলুপ! ফোন করে কালীচরণের নাগাল পাওয়া যায়নি। জবাব দেননি হোয়াট্‌‌সঅ্যাপ বার্তারও।

Advertisement
আরও পড়ুন