weight loss tips

১২ মাসে ৩৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন দিল্লির তরুণী! ডায়েট বা শরীরচর্চা নয়, তা হলে কোন উপায়ে?

সম্প্রতি সমাজমাধ্যম প্রভাবী দিল্লিনিবাসী শ্যাভি জৈন, জীবনযাত্রায় ছ’টি অতি সাধারণ বদলের কথা ভাগ করে নিয়েছেন, যা ওজন কমানোর যাত্রাপথে তাঁকে সাহায্য করেছিল। শ্যাভি ১২ মাসে ৩৫ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন। চটজলদি ওজন ঝরানোর উপর মনোযোগ না দিয়ে শ্যাভি এমন সমাধান খুঁজেছেন, যা আদতে বাস্তবসম্মত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৫:৫৭
১২ মাসে কী ভাবে ৩৫ কেজি ওজন কমালেন তরুণী?

১২ মাসে কী ভাবে ৩৫ কেজি ওজন কমালেন তরুণী? ছবি: সংগৃহীত।

এখন সমাজমাধ্যম খুললেই ওজন কমানোর হাজারটা পরামর্শ চোখে পড়বে। কেউ বাহারি ডায়েটের কথা বলেন, কেউ আবার জটিল ব্যায়ামের পরামর্শ দেন, ওজন কমানোর জন্য দামি স্বাস্থ্যকর খাবারও খেতে বলেন অনেকে। কিন্তু কখনও কখনও রোজের জীবনে অতি সামান্য কিছু বদল আনলেই ওজন কমানো যেতে পারে।

Advertisement

সম্প্রতি সমাজমাধ্যম প্রভাবী দিল্লিনিবাসী শ্যাভি জৈন, জীবনযাত্রায় ছ’টি অতি সাধারণ বদলের কথা ভাগ করে নিয়েছেন, যা ওজন কমানোর যাত্রাপথে তাঁকে সাহায্য করেছিল। শ্যাভি ১২ মাসে ৩৫ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন। চটজলদি ওজন ঝরানোর উপর মনোযোগ না দিয়ে শ্যাভি এমন সমাধান খুঁজেছেন যা আদতে বাস্তবসম্মত।

জীবনে কোন কোন বদল এনে ওজন ঝরালেন শ্যাভি?

১) পরিবারের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া বন্ধ: আপনি ডায়েট করলে তো আর গোটা পরিবার আপনার সঙ্গে ডায়েট করে না! বরং পরিবারের সঙ্গে খেতে বসলে অনেকেই নানা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। শ্যাভি তাই সবার আগে পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়া ডায়েটের প্রথম দিন থেকেই বন্ধ করেছিলেন। ডায়েটের লক্ষ্যে স্থির থাকার জন্য তিনি একাই বসে খাওয়াদাওয়া সারতেন।

২) রাতের খাবারের পর ব্রাশ করা: শ্যাভি জানিয়েছেন তিনি রোজই রাতে খাওয়ার পর ব্রাশ করে নিতেন। এই অভ্যাস যেন তাঁর মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠাতো যে খাওয়াদাওয়ার জন্য সময় শেষ। আর কিছু খাওয়া যাবে না। শ্যাভি বলেন, ‘‘এর পরেও যদি আমার রাতে কিছু খেতে ইচ্ছে করত, তা হলে আমি আবার ব্রাশ করতাম।’’ এই অভ্যাস রাতে ভুলভাল খাবার খাওয়ার প্রবণতা দূর করতে কাজে আসতে পারে।

৩) খাওয়ার সময়ে স্ক্রিন বন্ধ: শ্যাভির মতে হাতে ফোন নিয়ে খেতে বসলে অনেক সময়ে ইচ্ছে না থাকলেও অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত খাওয়া বন্ধের জন্য শ্যাভি খাওয়ার সময়ে মোবাইল, ল্যাপটপ থেকে দূরে রাখতেন নিজেকে।

৪) লোভ সংবরণ: অনেক সময় ডায়েট চলাকালীন কোনও খাবার খেতে ইচ্ছে হলে শ্যাভি মনে মনে বলতেন, ‘‘এটা আমি আজ নয়, কাল খাব।’’ শ্যাভির মতে, কখনওই খাওয়া যাবে না, এটা মনে করলে বেশি খেতে ইচ্ছে করে, বদলে কাল খাব ভাবলে খাওয়ার ইচ্ছে কমে।

৫) হাতের কাছেই স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্‌স: সকাল, দুপুর আর রাতের খাবার বুঝেসুঝে খেলেও ডায়েটে থাকাকালীন হালকা খিদে পেলে কী খাওয়া যায়, সেটাই বুঝে উঠতে পারেন না অনেকে। খিদের পেটে ভাজাভুজি আর বাইরের খাবার খেয়ে ফেলেন, আর তাতেই ডায়েটের বারোটা বাজে। শ্যাভি হাতের কাছে সব সময়ে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্‌স রাখতেন। বাইরে থাকলে সঙ্গে রাখতেন ভাজা ছোলা, মাখানার মতো খাবার। আর বাড়ির ফ্রিজে রাখতেন সয়াবিন সেদ্ধ, পনির, চিজ়, সেদ্ধ ডিম।

৬) সমাজমাধ্যমে খাওয়াদাওয়া সংক্রান্ত রিল দেখা বন্ধ: ডায়েট করতে হলে সমাজমাধ্যমের খাবার সংক্রান্ত কনটেন্টগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে, এটা বুঝেছিলেন শ্যাভি। তাই সেই সব রিল, ভিডিয়োগুলি দেখা তিনি একেবারেই বন্ধ করে দেন। শ্যাভির মতে, এর পর থেকেই তাঁর ভুলভাল খাবার খাওয়ার প্রতি ইচ্ছে অনেকটাই কমে যায়।

Advertisement
আরও পড়ুন