মহিলাদের কোন পরীক্ষা করানো জরুরি? ছবি: সংগৃহীত।
বয়স চল্লিশের কোঠায় পৌঁছোলেই নানা ভাবে জানান দেয় শরীর। ক্লান্তি এসে ভিড় করে। খানিক খাটাখাটনি করলে পায়ে-কোমরে ব্যথাও হয়। আগে যে কাজ অনায়াসে করা যেতে, সেই কাজ করতে গিয়েই যেন হাঁফ ধরে যায়।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এমন অনেক বদল আসে মহিলাদের শরীরে। হাড়ের ঘনত্ব কমে, ভিটামিনের অভাব দেখা দেয়, ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স তৈরি হয়, হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হতে শুরু করে। তারই প্রভাব পড়ে শরীরে। রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে, ক্রমাগত মানসিক চাপে থাকলে ঝুঁকি তৈরি হয় হার্টের অসুখের। এ ছাড়া মহিলাদের জরায়ুমুখ এবং স্তন ক্যানসারেরও ঝুঁকি থাকে। বিশেষত কম ঘুম, মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকেরা বলছেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এমন সমস্যা বা অসুখের ঝুঁকি এড়াতে হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন আগেই। আগাম কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এমন ধরনের অসুখ এড়াতে বা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এলাহাবাদের একটি হাসপাতালের ক্যানসারের চিকিৎসক অর্পিত বনশল জানাচ্ছেন, ৪০ এর কাছাকাছি বয়স হলে কোন ধরনের পরীক্ষা মহিলাদের করানো জরুরি।
হাড়ের ঘনত্ব এবং ভিটামিন পরীক্ষা: ৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। হাড়, পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই বয়সে এসে ভিটামিন ডি, বি১২-এর অভাব খুব সাধারণ ব্যাপার। ডেক্সা স্ক্যান বা হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকলে শুরুতেই প্রয়োজনীয় ওষুধ খেলে পরিস্থিতি ততটা খারাপ হবে না।
ক্যানসারের ঝুঁকি: মহিলাদের স্তন ক্যানসার এবং জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভয় বেশি। বিপদ এড়ানো যায়, যদি অসুখ প্রাথমিক ধাপেই চিহ্নিত হয়। তা ছাড়া, কারও শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা এখন নানা রকম পরীক্ষায় বোঝা যায়। বয়স ৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছোলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যাপ টেস্ট করিয়ে নিতে পারেন। জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রবণতা রয়েছে কি না, জানার জন্য এইচপিভি স্ক্রিনিং করানো হয়। এইচপিভি হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। কিছু এইচপিভি ক্ষতিকর নয়। তবে কিছু ভাইরাস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। পরীক্ষায় দেখা হয় ক্যানসারের ঝুঁকি আছে কি না। প্যাপ স্মেয়ার পরীক্ষার সময়েও এই পরীক্ষা হতে পারে।
স্তন ক্যানসারের পরীক্ষা: ৩০ পার হলেই মহিলাদের নিজে থেকে স্তন পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়, সেখানে কোনও মাংসপিণ্ড গজিয়েছে কি না। এই পরীক্ষা যে কোনও মহিলা নিজেই করতে পারেন। স্তনে কোনও মাংসপিণ্ড বা লাম্পের উপস্থিতি টের পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। প্রয়োজন বুঝলে চিকিৎসক ম্যামোগ্রাম করানোর নির্দেশ দিতে পারেন।
হার্টের পরীক্ষা: মহিলাদের হৃদ্রোগের ঝুঁকিও থাকে। সময় থাকতে থাকতে তাই হৃৎস্পন্দন পরীক্ষা করানো দরকার। হার্টের সবচেয়ে সাধারণ পরীক্ষা হল ইসিজি। এ ছাড়া প্রয়োজন বুঝলে চিকিৎসক ইকো-সহ অন্যান্য পরীক্ষা দিতে পারেন।
এ ছাড়া আছে ভিও২ ম্যাক্স পরীক্ষা। শরীরচর্চার সময়ে দেহ কতটা অক্সিজেন শোষণ করতে পারে সেটি পরীক্ষা করে দেখা হয়। তবে এটি সাধারণ মেডিক্যাল পরীক্ষার মধ্যে সাধারণত থাকে না। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতে পারেন।
ওষুধ: অনেক সময় শরীরের মধ্যে অনেক বদল ঘটে যায়, উপসর্গ তেমন থাকে না। যখন সেই উপসর্গ দেখা দেয়, তখন রোগও ছড়িয়ে পড়ে। তাই আগাম পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া জরুরি। ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি-এর অভাব যাতে না হয়, সে জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে আগেই ওষুধ শুরু করা যেতে পারে। হার্ট, পেটের স্বাস্থ্য ভাল থাকলেই বয়সকাল পর্যন্ত সুস্থ থাকা সম্ভব হবে।