Breast Cancer

লালা পরীক্ষায় ধরা পড়বে স্তন ক্যানসার! কী ভাবে সম্ভব? ম্যামোগ্রামের চেয়েও দ্রুততম পদ্ধতি বলে দাবি

কঠিন ম্যামোগ্রাম নয়, রক্ত পরীক্ষাও নয়। সরাসরি লালা পরীক্ষা করে ধরা পড়বে স্তন ক্যানসার। কী ভাবে তা সম্ভব?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৪
New study says saliva tests are being developed to detect breast cancer biomarkers

লালা পরীক্ষায় ধরা পড়বে স্তন ক্যানসার! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ক্যানসার কোষের বিভাজন সবে শুরু হচ্ছে। গজিয়ে উঠছে টিউমার। এমন অবস্থাতেই যদি তা চিহ্নিত করা যায়, তা হলে মারণরোগকে আগে থেকেই জব্দ করা সম্ভব। কিন্তু সে প্রক্রিয়া জটিল এবং তাতে সাফল্য আসে না অনেক সময়েই। এ বার সেই অসাধ্যসাধনের কাজই করতে চলেছেন গবেষকেরা। কোনও রক্ত পরীক্ষা নয়, এক্স-রে নয়, সরাসরি মুখ থেকে নেওয়া লালার নমুনা পরীক্ষা করেই নাকি ধরা যাবে ক্যানসার! এমনই দাবি ফ্লোরিডার বিজ্ঞানীদের। লালা পরীক্ষার মাধ্যমে স্তন ক্যানসার চিহ্নিত করার নতুন পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবি গবেষকদের।

Advertisement

লালা পরীক্ষায় কী ভাবে ধরা পড়বে ক্যানসার?

ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি ও তাইওয়ানের এক ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এই নতুন পদ্ধতিটি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন। বিজ্ঞানীরা স্তন ক্যানসার টেস্ট করতে নতুন রকম স্ক্রিনিং ডিভাইস তৈরি করেছেন। লালার নমুনা থেকে ক্যানসার কোষের প্রোটিন চিহ্নিত করবে এই যন্ত্র। তা দেখেই বোঝা যাবে, স্তন বা তার আশপাশে অবাঞ্ছিত টিউমার কোষ গজাচ্ছে কি না।

মুখ্য গবেষক সিয়াও হুয়ান আন জানিয়েছেন, স্তন ক্যানসার হলে ‘এইচইআর২’ এবং ‘সিএ১৫-৩’ নামক দু’টি প্রোটিনের বাড়বাড়ন্ত হয়। লালার নমুনা নিয়ে বিশেষ ওই স্ক্রিনিং যন্ত্রে ফেলে পরীক্ষা করে দেখা হবে, ওই দুই প্রোটিন রয়েছে কি না। যন্ত্রটিতে বায়োসেন্সরও থাকবে, যা কোষের অনিয়মিত বিভাজন বুঝতে পারবে। যদি দেখা যায়, ওই দুই প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন শুরু হয়েছে, তা হলে যন্ত্রটি সতর্কতামূলক সঙ্কেত দেবে। ক্যানসার যে ডালপালা মেলতে শুরু করেছে, তা বুঝতে পারবেন গবেষকেরা।

যন্ত্রটি ছোট। তাতে পেপার স্ট্রিপ লাগানো থাকবে। আর থাকবে সেন্সর। ওই স্ট্রিপে লালার নমুনা ফেললেই যন্ত্রে থাকা বায়োমার্কার প্রোটিনের খোঁজ শুরু করবে। যদি ক্যানসার বাসা বাঁধে বা টিউমার কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন শুরু হয়, তা হলে শরীর তাদের রুখতে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। ক্যানসার কোষের প্রোটিনদের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে তাদের নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করবে। যন্ত্রটি ওই প্রোটিন ও তাদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য নির্গত অ্যান্টিবডি, সবগুলিকেই চিহ্নিত করবে। এতে নিশ্চিত ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে বলে দাবি গবেষকদের।

গবেষকেরা বলছেন, ক্যানসার চিহ্নিত করাটাই আসল কাজ। সঠিক সময়ে ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসায় রোগ সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যদি শনাক্তকরণেই দেরি হয়ে যায়, তা হলে ক্যানসার কোষগুলি বাড়তে বাড়তে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তখন আর কিছু করার থাকে না। তাই বিপদ ঘটার আগেই সতর্ক হওয়া জরুরি। ইঁদুরের উপর গবেষণা চলছিল এত দিন। এ বার মানুষের শরীরে পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন