ছবি : সংগৃহীত।
রান্নায় মশলা হিসাবে আদার ব্যবহার প্রায়ই করেন। কিন্তু তা বাদে আদা আরও নানা কাজে লাগে। ঔষধী গুণে ভরপুর এই ভারতীয় কন্দের গুণের শেষ নেই।
১. শারীরিক অসুস্থতায়
বমি ভাব কমাতে: দীর্ঘ ভ্রমণে মোশন সিকনেস বা গর্ভবতী মায়েদের সকালের বমি ভাব কাটাতে এক টুকরো আদা চিবিয়ে খাওয়া বা আদার রস খুব কার্যকর।
হজম ও গ্যাসের সমস্যায়: পেটে ফাঁপা বা বদহজম হলে আদার রস ও বিট নুন মিশিয়ে খেলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
সর্দি-কাশি নিরাময়ে: গলা ব্যথা বা খুসখুসে কাশি কমাতে আদা চা বা মধুর সঙ্গে আদার রস মিশিয়ে খেলে কাজ হয়।
পেশির ব্যথা দূর করতে: ব্যায়ামের পর বা শরীরের কোনো অংশে পেশির ব্যথা হলে আদা বাটা হালকা গরম করে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে ও ব্যথা কমে।
২. রূপচর্চায় আদার ব্যবহার
ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতে: আদায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে এবং বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে। আদার রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
চুলের যত্নে: মাথার ত্বকের খুশকি দূর করতে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে আদার রস তেলের সঙ্গে মিশিয়ে লাগানো যেতে পারে।
ব্রণ দূর করতে: আদার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
৩. গৃহস্থালি ও অন্যান্য কাজে
প্রাকৃতিক সুগন্ধি হিসেবে: ঘর থেকে কোনও দুর্গন্ধ দূর করতে জলে আদা ও দারচিনি ফুটিয়ে সেই বাষ্প ঘরে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এটি এয়ার ফ্রেশনার হিসেবে কাজ করে।
খাদ্য সংরক্ষণে: মাংস ম্যারিনেট করে রাখার সময় আদা বাটা দিলে এটি মাংসকে নরম করতে সাহায্য করে এবং প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হিসেবে কাজ করে।
৪. মানসিক প্রশান্তিতে
স্ট্রেস কমাতে: সারাদিনের ক্লান্তি শেষে এক কাপ আদা চা কেবল শরীর নয়, মনকেও চাঙ্গা করতে সাহায্য করে। আদার ঘ্রাণ স্ট্রেস হরমোন কমাতে সহায়ক।
সতর্কতা: আদার রস সরাসরি ত্বকে লাগানোর আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো, কারণ সংবেদনশীল ত্বকে এতে জ্বালা করতে পারে।