Bluetooth Headphones

‘ব্লুটুথ হেডফোন’ কি নিরাপদ? তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে ক্যানসারের ভয়, গবেষণা কী বলছে?

সাধারণ হেডফোনের তুলনায় ব্লুটুথ হেডফোন বেশি ক্ষতিকর, এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। তারহীন এই যন্ত্র মস্তিষ্কে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ পাঠায় বলেও আশঙ্কা। আদৌ কি তা সত্যি? তারযুক্ত হেডফোন বা ইয়ারফোন অনেক বেশি সুরক্ষিত। তা কি আদৌ ঠিক? চিকিৎসকেরা কিন্তু অন্য কথা বলছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১২:১৯
Do Bluetooth headphones safe, are they cause cancer

ব্লুটুথ হেডফোন বা ইয়ারবাড বেশি ব্যবহারে কি ক্যানসারের ভয় আছে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

হেডফোন বা ইয়ারফোন ছাড়া এক দণ্ড কি চলে? বাসে, ট্রেনে, রাস্তাঘাটে যেখানেই, চোখ যাবে, কানে হোডফোন গুঁজে পথ চলতে দেখা যাবে বেশির ভাগকেই। কারও কানে তারযুক্ত ইয়ারফোন, কারও মাথায় পেঁচানো জমকালো হেডফোন, কারও আবার কানের উপর গোঁজা ব্লুটুথ ইয়ারবাড। গান শুনতে শুনতে বা কথা বলতে বলতে পথ চলছেন প্রায় সকলেই। জিমে গিয়ে শরীরচর্চা হোক, দীর্ঘ ভ্রমণের সময়ে, অফিস মিটিং বা ঘুমোনোর আগে, সবেতেই এর অবাধ বিচরণ। যে জিনিসটির ব্যবহার বেশি হয় এবং বহুজনে করেন, সেটির ভাল-মন্দ দিক নিয়েই আলোচনা বেশি হয়। এ ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। ব্লুটুথ হেডফোন আদৌ নিরাপদ কি না, তা নিয়ে কথা উঠেছে। অনেকেরই ধারণা, এমন তারহীন যন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঢুকে তা ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এই ধারণা কি আদৌ ঠিক?

Advertisement

ব্লুটুথ হেডফোনকে ততটাও খারাপ বলতে রাজি নন সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) থেকে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর গবেষকেরা। তা ছাড়া, ব্লুটুথ ডিভাইসগুলির ভালমন্দ নিয়ে গবেষণারত হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও। গবেষকদের দাবি, ব্লুটুথ ডিভাইসগুলি চলছেই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গে। তবে কোনওটির ভার বেশি, কোনওটির কম। ব্লুটুথ ইয়ারবাডগুলি আকারে ছোট ও এগুলিতে যে ধরনের বিকিরণ কাজ করে সেগুলি কম দৈর্ঘ্যের রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি। মোবাইল ফোন, রেডিয়ো বা টিভির সিগন্যালও একই পদ্ধতিতে চলে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এক্স-রে বা সূর্যের অতিবেগনি রশ্মিতে যে ধরনের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয় তা ডিএনএ-র ক্ষতি করে। কিন্ত ব্লটুথের বিকিরণের পাল্লা তার চেয়ে অনেক গুণে কম। তাই সেগুলি শরীরের সুস্থ কোষগুলির ক্ষতি করে না। তাই এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহারে ক্যানসারের আশঙ্কা নেই।

ব্লুটুথ হেডফোন যে ক্যানসারের কারণ হতে পারে, তার কোনও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ নেই। গবেষকেরা দাবি করেছেন, সরাসরি মোবাইল ফোনে কথা বলার চেয়ে ব্লুটুথ ব্যবহার করা বরং বেশি নিরাপদ। কারণ, ফোনের সিগন্যাল ব্লুটুথের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। ব্লুটুথ ডিভাইস থেকে নির্গত রেডিয়েশনের মাত্রা বাড়িতে ব্যবহৃত ওয়াইফাই রাউটারের মতোই নগণ্য।

আসল বিপদ যেখানে

ব্লুটুথ রেডিয়েশনে মারণ রোগের আশঙ্কা না থাকলেও এর ভুল ব্যবহারে শ্রবণশক্তির সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘসময় উচ্চ শব্দে গান শোনা কানের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। সারা ক্ষণ হেডফোন কানে গুঁজে রাখলে একটানা শব্দে অন্তঃকর্ণের ককলিয়া অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কানের কোষগুলি নষ্ট হতে থাকে। শুকিয়ে যেতে থাকে কানের ফ্লুইড। কান যেহেতু সারা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, তাই কানের ক্ষতি হওয়া মানে তার প্রভাব পড়বে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতেও। তাই ক্যানসারের ঝুঁকি না থাকলেও ক্ষতি হতে পারে অন্য ভাবেও। যে কোনও হেডফোনই যদি ১৫ মিনিটের বেশি কানে গুঁজে রাখা হয়, তা হলে অন্তঃকর্ণের যে পরিমাণ ক্ষতি হবে, তা সহজে সারানো সম্ভব হবে না। তাই এই ধরনের হেডফোন ব্যবহার করলেও, প্রতি ২০ মিনিট অন্তর বিরতি দিতেই হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন