শিশুর নখ খাওয়ার অভ্যাস ছাড়াবেন কী ভাবে? ফাইল চিত্র।
নখ খাওয়ার বাতিক শুধু ছোটদের নয়, বড়দেরও থাকে। তবে অভ্যাসটা তৈরি হয় ছোট থেকেই। অনেক শিশুই টিভি দেখতে-দেখতে বা শুয়েবসে বিভিন্ন কাজের ফাঁকে দাঁত দিয়ে নখ কাটতে থাকে। এক সময়ে নখের পাশের চামড়াও ছিঁড়তে শুরু করে। আর এর থেকেই হতে পারে সংক্রমণ। নখে জমে থাকা ময়লায় এমন সব জীবাণু জন্মায়, যা শরীরে গেলেই বিপদ। পেটের রোগ তো বটেই, সেপসিসের মতো সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে। তাই সময় থাকতে অভ্যাস ছাড়ানো খুব জরুরি।
নখ থেকে কী কী জীবাণু ঢোকে শরীরে?
প্রধানত ই-কোলাই এবং সালমোনেল্লার মতো ব্যাক্টেরিয়া নখের ময়লা থেকে শরীরে ঢুকতে পারে। তা ছাড়া নখের খাঁজে স্ট্যাফাইলোকক্কাসের মতো ব্যাক্টেরিয়াও ঘাপটি মেরে থাকে। সাধারণ সর্দি-কাশির অ্যাডিনোভাইরাসও নখ থেকেই শরীরে ঢুকতে পারে। নানা রকম পরজীবী, যেমন পিনওয়ার্ম নামক এক প্রকার কৃমির ডিম নখের মধ্যে আটকে থাকতে পারে। যাঁরা হাত না ধুয়ে খাবার খান বা নখ খাওয়ার অভ্যাস যাঁদের বেশি, তাঁদের শরীরে এমন কৃমির সংক্রমণ খুব দ্রুত হয়।
নখের কোণেও সংক্রমণ হয়। অনেক সময় তা বোঝা যায় না। একে বলে প্যারোনাইকিয়া। যদি নখ খাওয়ার বা নখের চারপাশে চামড়া ছেঁড়ার অভ্যাস থাকে, তা হলে ওই সংক্রমণের জায়গায় রক্ত জমে পুঁজ তৈরি হয়ে যায়। এর থেকে রক্তেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
বারংবার নখ কামড়ানোর কারণে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে। এতে দাঁত ও মাড়িতে সংক্রমণও হতে পারে।
অভ্যাস ছাড়াবেন কী উপায়ে?
নখ খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরে ছোটদের বোঝাতে হবে, নখ খেলে কী কী রোগ হতে পারে। এর জন্য যে তাকে ওষুধ খেতে হতে পারে, তা বোঝাতে হবে কৌশল করে।
টিভি দেখার সময়ে বা শিশু যখন নখ খাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন তার হাতে আপেল বা বাদাম ধরিয়ে দিন। হালকা স্ন্যাক্সও দিতে পারেন, যা খেতে সময় লাগবে। সেটি নিয়ে ব্যস্ত থাকলে নখের দিকে মন যাবে না।
নিয়মিত নখ কেটে ছোট রাখুন। নখ বড় না থাকলে খাওয়ার সুযোগ কম থাকবে। নখের ধারালো অংশ ঘষে মসৃণ করে দিন।
যখনই দেখবেন শিশু নখ খাচ্ছে, তখনই তার হাতে কোনও খেলার জিনিসও দিতে পারেন। অথবা নানা রকম রং দিয়ে ছবি আঁকতে বলুন। হাত ব্যস্ত থাকলে নখ খাওয়ার ইচ্ছা চলে যাবে।
শিশু কোন সময়ে নখ বেশি খায়, তা খেয়াল রাখুন। অনেক সময়ে পরীক্ষার আগে অত্যধিক মানসিক চাপে ছোটরা নখ খেতে শুরু করে, আবার একমনে টিভি দেখার সময়েও এমন হতে পারে। সেই সময়টাতে তাদের সঙ্গ দিন। দুশ্চিন্তা দূর করার চেষ্টা করুন।