মন ভাল হবে কোন কোন ব্যায়ামে? ছবি: ফ্রিপিক।
সর্বক্ষণ দুশ্চিন্তা। অল্পেই উদ্বেগ বাড়ে। মন সারাক্ষণই চঞ্চল, অস্থির। অহেতুক দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত উদ্বেগ কেবল মানসিক চাপই বাড়িয়ে তোলে না, মারাত্মক মানসিক রোগের কারণও হয়ে উঠতে পারে। তাই মানসিক চাপ থেকে রেহাই পাওয়া খুব জরুরি। সংসার, পেশা সামলাতে-সামলাতে মন ভাল থাকে না অনেক সময়েই। সামান্য বিষয় নিয়েও তখন উৎকণ্ঠা শুরু হয়। রোজের ব্যস্ততায় সংসার-পেশা সামলাতে গিয়ে উদ্বেগ এতটাই বাড়ছে যে, স্মৃতির পাতা ক্রমেই ফিকে হতে শুরু করছে। কম বয়সেই হানা দিচ্ছে স্মৃতিনাশের মতো মানসিক রোগ। সৃজনশীল কাজের জন্য যেমন চিন্তাভাবনা দরকার, সেগুলোও আর ঠিকমতো করতে পারছেন না। ভাবতে বসলেই দুশ্চিন্তা এসে মন-মগজ গ্রাস করছে। ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, মনের উপর চাপ কমাতে এবং বুদ্ধির গোড়ায় শান দিতে কিছু যোগাসন নিয়মিত অভ্যাস করতে হবে।
মন ভাল রাখার ব্যায়াম
উত্তনাসন বা স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড
ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। কোমর, পিঠ থাকবে টান টান। এ বার কোমর থেকে শরীর ঝুঁকিয়ে দুই হাতের তালু দিয়ে মাটি স্পর্শ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে হাঁটু ভাঙলে হবে না। শরীরচর্চা করার অভ্যাস না থাকলে খুব বেশি ক্ষণ এই অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন না। মোটামুটি ১০ সেকেন্ড মতো থেকে আবার প্রথম অবস্থানে ফিরে আসুন।
সর্বাঙ্গাসন
চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা দু’টি জোড়া করে উপরে তুলুন। এ বার দু’হাতের তালুতে কোমরের ভোর দিয়ে পিঠ এমন ভাবে ঠেলে তুলুন, যেন ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত এক সরলেরখায় থাকে। থুতনিটি বুকের সঙ্গে লেগে থাকবে। দৃষ্টি থাকবে পায়ের আঙুলের দিকে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে। ৩০ সেকেন্ড এ ভাবে থেকে শবাসনে বিশ্রাম নিন। তিন বার অভ্যাস করুন এই ব্যায়াম। এই ব্যায়ামের নিয়মিত অভ্যাসে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়।
সিদ্ধাসন
প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। পিঠ টানটান থাকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস ধীরে ধীরে নিন। বাঁ পা ভাঁজ করে বাঁ হাঁটু ডান পায়ের কাফ মাসলের উপর রাখুন। একই ভাবে ডান পা ভাঁজ করে ডান হাঁটু বাঁ পায়ের কাফ মাসলের উপর রাখুন। এর পর দুই হাত হাঁটুর উপর রাখুন। জ্ঞান মুদ্রা করতে পারেন। তর্জনী ও বুড়ো আঙুল স্পর্শ করে এবং বাকি তিনটি আঙুল সোজা রাখতে হবে।