Mental Stress

অকারণেই মনখারাপ, মাথায় দুশ্চিন্তার পাহাড়, রোজের পাঁচ অভ্যাস দায়ী নয় তো?

মন কেন খারাপ হচ্ছে, তার কারণই ধরতে পারছেন না। এ দিকে উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠারও তেমন কোনও কারণ ঘটেনি। তা-ও দুশ্চিন্তার মেঘ কাটছে না। অবসাদে ডুবে যাচ্ছে মন। কোনও কাজেই উৎসাহ নেই। এর জন্য দায়ী রোজের কিছু অভ্যাস নয় তো?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৮
Feeling stressed for no reason, these habits keep your cortisol levels elevated

মনখারাপ মানেই মনোরোগ নয়, রোজের ৫ অভ্যাসও কারণ হতে পারে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

মন ভাল নেই। কেন মন খারাপ হচ্ছে, সেই কারণটি ধরতেই পারছেন না। জীবনে নানা সময় আসে, যখন কোনও কাজ করতে ভাল লাগে না, নিজের ভিতরে গুটিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। সেই মুহূর্তে একটি বাক্যেই নিজের মানসিক অবস্থা বুঝিয়ে দেন সকলে— মন ভাল নেই। মন মাঝেমধ্যে অল্পবিস্তর খারাপ হতেই পারে। সকলেরই হয়। আবার নিজে থেকেই অনেক সময় ঠিকও হয়ে যায়, তা রোগের পর্যায়ে পড়ে না। কিন্তু ‘মুড ডিজ়অর্ডার’ এক জটিল রোগ। মনখারাপ জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী হলে,তখন তা চিন্তার বিষয়। মন কেন ভাল নেই, এর নেপথ্যে নানা কারণ থাকতে পারে। তবে মনোবিদেরা বলছেন, রোজের কিছু অভ্যাসও এর জন্য দায়ী। রোজ সকাল থেকে রাত অবধি, যা যা কাজ করছেন, তাতেই লুকিয়ে থাকতে পারে মনখারাপের বীজ।

Advertisement

কর্টিসল হরমোনের অত্যধিক ক্ষরণ হলে তবেই মনখারাপ বেশি হয়। মানসিক চাপও বাড়ে। এই হরমোনের ক্ষরণ বেশি হতে পারে নানা কারণে। যেমন, কম ঘুম, নেশার প্রকোপ, বেশি জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস ও শরীরচর্চা একেবারেই না করা। রোজের কিছু কাজ কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিতে পারে, সেগুলি জেনে রাখা জরুরি।

কোন কোন অভ্যাসের কারণে মনের চাপ বাড়ছে

কম ঘুমোনোর অভ্যাস

অফিসের কাজ বাড়িতেও নিয়ে আসার অভ্যাস যাঁদের বা যাঁরা রাত করে বাড়ি ফিরে আবার সকাল হতেই অফিস যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেন কিংবা যাঁরা রাত জেগে সিনেমা দেখে বা সমাজমাধ্যমের পাতায় নজর রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেন, তাঁদের রাতে অনেক সময়েই পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। কম ঘুম কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে মানসিক চাপও বাড়ে। একই সঙ্গে হরমোনের গোলমালের কারণে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে থাকে।

ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখা

সকালে চোখ খুলেই বালিশের পাশে রাখা মুঠোফোনটিকে হাতে তুলে নেন? মোবাইল ডেটা অন করলেই আপনার ফোনে একে একে ঢুকতে থাকে হোয়াট্‌সঅ্যাপ, অফিসের মেল, সমাজমাধ্যমের নোটিফিকেশন। একটির পর একটি অ্যাপে স্ক্রল করতে থাকেন। এর প্রভাবে মারাত্মক ভাবে পড়ে মস্তিষ্কে। এতে যেমন মানসিক উত্তেজনা বাড়ে, তেমনই আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে থাকে। ঘুম কমে যায়, কাজে উৎসাহও হারিয়ে যায়।

বেশি কফি খাওয়ার অভ্যাস

অত্যধিক ক্যাফিন সেবন স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনেকেই দিন শুরু করেন এক কাপ কফি খেয়ে। আবার কাজের মাঝে কাপের পর কাপ কফিও খেয়ে থাকেন। কফি খেলে সাময়িক ভাবে সতেজ লাগে ঠিকই, তবে এর ফলে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে, যা সাময়িক ভাবে উত্তেজনার অনুভূতি তৈরি করে। বাড়িয়ে দেয় কর্টিসল হরমোনের মাত্রাও। এর থেকে ‘ক্রনিক স্ট্রেস’ বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

জাঙ্ক ফুড খাওয়া

সকাল সকাল পুষ্টিকর প্রাতরাশ বাদ দিয়ে ভাজাভুজি খেয়ে ফেলা, সারা ক্ষণ কাজের মাঝে ‘বিঞ্জ ইটিং’, বিকেল হলেই জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। এর থেকে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে হরমোনের গোলমালও শুরু হয়।

অগোছালো পরিবেশ

আপনার থাকার ঘর বা কাজের ডেস্ক যদি অগোছালো থাকে, তবে তা মনের উপরেই প্রভাব ফেলে বেশি। অনেকেই নিজের ঘর বা কাজের জায়গাটি গুছিয়ে রাখেন না। এতে মানসিক চাপ বাড়ে। কোনও কারণ ছাড়াই কাজে উৎসাহ কমে যাবে। সাজানো-গোছানো পরিবেশ মন ভাল রাখে, স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়।

Advertisement
আরও পড়ুন