কেন মাঝেমধ্যেই কাঁপছে হাত, পা, কারণটা কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে গরম চায়ের ভাঁড়টা নিয়েই দেখলেন হয়তো হাত কাঁপতে শুরু করেছে। চা চলকে পড়ে গেল পাশের জনের গায়ে। চায়ের কাপ, জলের গ্লাস বা কোনও কিছু ধরতে গেলে হাত কাঁপার সমস্যা অনেকেরই হয়। আবার স্থির হয়ে বসে থাকার সময়ে হয়তো দেখলেন পায়ের পাতা অনবরত কেঁপে চলেছে। টান ধরছে পায়ের পেশিতে। কারণে বা অকারণে হাত বা পা কাঁপার সমস্যা কেবল বার্ধক্যে হয় না। কমবয়সিদেরও হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে ‘ট্রেমর’ বলে। এটি কেবল স্নায়ুর রোগ বা পার্কিনসন্সের কারণে হয় না। এর অন্য কারণও থাকতে পারে।
কেন কাঁপছে হাত-পা?
অধিকাংশের ধারণা হাত কাঁপা মানেই বার্ধক্যজনিত সমস্যা। যার পরিচিত নাম পার্কিনসন্স। আসলে তা নয়। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, হাত কাঁপার অনেক ধরন আছে। অনেকের হাত অনবরত কাঁপে, কোনও জিনিস ধরতে পারেন না ঠিক করে। আবার অনেকের শুধু কোনও জিনিস তুলতে গিয়ে বা লেখার সময়ে হাত কাঁপে, অন্য সময়ে নয়। কথা বলার সময়েও হাত অনবরত কাঁপতে থাকে। এগুলি হয় স্নায়বিক সমস্যার কারণে যাকে বলে ‘ইনভলান্টারি মুভমেন্ট ডিজ়অর্ডার’।
হাইপারথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে গেলেও হাত বা পায়ের পাতায় কাঁপুনি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে হরমোনের গোলমালে এমন হয় অনেকেরই।
ভিটামিনের অভাবও একটি কারণ। গবেষণা বলছে, ভিটামিন বি-১২ এর অভাব হলে স্নায়ুর কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন কম্পন হতে পারে শরীরে। আবার ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম অভাব বেশি হলেও এমন হতে পারে।
ডায়াবেটিসের রোগীদেরও এ সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বুঝতে হবে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করেই নেমে গিয়েছে।
আরও একটি কারণ হল ডিজিটাল আসক্তি। রাতে কম ঘুম, দুশ্চিন্তা ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকলে এ সমস্যা হতে পারে।
মানসিক সমস্যা নিরাময়ের ওষুধ দীর্ঘ দিন ধরে খেলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাত কাঁপে। তখন ওষুধ বদলে দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায়।
সমাধানের উপায় কী?
হাত বা পায়ের কম্পন খুব বেশি ও লাগাতার হতে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যেতেই হবে। আর যদি মাঝেমধ্যে ভোগায় তা হলে হালকা ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত করে দিন। প্রথমে বাঁ দিক দিয়ে ডান হাতের কব্জি বিপরীত দিকে বাঁকানোর চেষ্টা করুন। তার ফলে হাত ও কব্জির সংযোগস্থলে টান সৃষ্টি হবে। ২০-২৩ সেকেন্ড করে ওই অবস্থানে হাত ধরে রাখতে হবে। প্রত্যেক হাতে ২-৩ বার করতে হবে।
পায়ের কাঁপুনি কমাতে কাফ রেজ় অভ্যাসে সুফল পাওয়া যেতে পারে। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে গোড়ালি উপরে তোলা ও নামানো। এটি কাফ মাসলকে শক্তপোক্ত করে তোলে। পায়ের ব্যথা কমাতে এই ব্যায়ামটি খুবই উপযোগী।