শিখা সুরানা। (ওজন ঝরানোর আগের আর পরের ছবি) ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
সমাজমাধ্যম খুললেই চোখে পড়বে ওজন কমানোর হাজার পন্থা। কেউ রকমারি ডায়েটে গুরুত্ব দেন, কারও মতে কেবল ডায়েট করলে হবে না, শারীরচর্চাতেও মন দিতে হবে। ওজন কমানোর মানেই পছন্দের সব খাবার খাওয়া সবার আগে বন্ধ করতে হবে— প্রচলিত এই ধারণার কারণেই অনেকে ফিটনেস যাত্রা শুরু করার আগেই পিছিয়ে আসেন। কারও আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরচর্চা করতে হবে ভেবেই গায়ে জ্বর আসে। তবে রোগা হওয়া এতটাও কঠিন কাজ নয়। এত কিছু না করেও যে ওজন কমানো যায়, তা দেখিয়েছেন এক জন নেটপ্রভাবী। রোজের অভ্যাসে কিছু বদল এনেই প্রায় ২৩ কেজি ওজন কমিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নেটপ্রভাবী শিখা সুরানা। কী ভাবে তা সম্ভব হল, সে কথাও জানিয়েছেন নিজের ইনস্টাগ্রামে।
ওজন ঝরানোর জন্য সব সময় কড়া ডায়েট করতে হবে, এমন কোনও মানে নেই, মত শিখার। সমাজমাধ্যমের পাতায় তিনি লিখেছেন, “৭২ কেজি থেকে ৪৯ কেজির যাত্রাপথ! কোনও রকম ক্র্যাশ ডায়েট ছাড়াই। খাইনি কোনও ডিটক্স পানীয়। উপোস করেও থাকিনি। শুধু রোজের রুটিন থেকে আটটি অভ্যাস বাদ দিয়েছি। আর তার পরে আর পিছনে ফিরে তাকাইনি।’’
কোন কোন অভ্যাসের কথা বলেছেন শিখা?
১) প্রাতরাশ না করা: ওজন ঝরাতে হলে সবার আগে এই অভ্যাসটি ছাড়তে হবে। শিখা বলেন, ‘‘আমি সকালে কিছুই খেতাম না, ফলে আমার বিপাকহার কমে যেত। রাতের দিকে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস ছিল। তার পর অভ্যাসে বদল আনলাম। প্রাতরাশ করা শুরু করলাম। এখন ঘুম থেকে উঠে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আমাকে কিছু না কিছু খেতেই হয়।’’
২) ক্যালোরিতে ভরপুর পানীয় খাওয়া: পানীয় মানেই তা স্বাস্থ্যকর হবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। পানীয় খেতে হবে বুঝেশুনে। ফলের রস, চিনি দিয়ে চা, কোল্ড কফি খাওয়ার অভ্যাস বদল করে শিখা বেশি করে জল, কালো কফি আর আর চিনি ছাড়া চা খেতে শুরু করেন।
৩) স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খেয়ে ফেলা: স্বাস্থ্যকর মানেই বেশি খেলেও ক্ষতি হবে না, এমনটা ভাবারও কোনও কারণ নেই। মাখানা, ড্রাই ফ্রুট, পিনাট বাটার স্বাস্থ্যকর হলেও অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণের দ্বিগুণ মাত্রায় খেয়ে ফেলেন। তাই কোন স্বাস্থ্যকর খাবারটি কোন পরিমাণে খেলে ওজন বাড়বে না, তা জেনে তার পর ডায়েট শুরু করেন শিখা।
৪) কম ঘুম: রাত জাগলে কর্টিসলের মাত্রা বাড়বে, এর ফলে ভাজাভুজি, বাইরের খাবার খাওয়ার ইচ্ছেও বাড়বে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে রোজ ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে, এ কথা বুঝে গিয়েছেন শিখা।
৫) রেস্তরাঁয় খাওয়া: মেদ কমাতে হলে এই অভ্যাসটি ছাড়তেই হবে। রেস্তরাঁয় গিয়ে অনেকেই স্বাস্থ্যকর বিকল্প খোঁজেন, কেউ আবার অল্প করে খান স্বাস্থ্যের কথা ভেবে। ফিটনেস যাত্রা শুরু করে প্রথমেই রেস্তরাঁয় খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেন তিনি।
৬) একটু অনিয়মে ক্ষতি নেই: একটা ভুল খাবার খেলেই যে পুরো দিনটা মাটি হয়ে যাবে, তা নয়। পিৎজ়ার একটা টুকরো খেলে আপনার ডায়েট পুরোপুরি নষ্ট, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। খুব কড়াকড়ি না করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটা বেশি জরুরি।
৭) অনুপ্রেরণার জন্য অপেক্ষা করা: অনুপ্রেরণা নিজে থেকে আসে না। নিজের রোজের রুটিন মেনে চলার জন্য আপনাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে। ডায়েট শুরু করার জন্য ‘পারফেক্ট’ সোমবারের জন্য অপেক্ষা করলে হবে না। যে দিন মনে হবে, সে দিন থেকেই শুরু করে দিন ফিটনেস যাত্রা।
৮) শুধু কার্ডিয়ো ব্যায়াম: শুধু ট্রেডমিলে দৌ়ড়োলে হবে না। শারীরচর্চার জন্য বরাদ্দ সময়ে অর্ধেকটা কার্ডিয়োর জন্য রাখেন আর অর্ধেকটা ওয়েট লিফ্টিং করেন শিখা। কার্ডিয়োর সঙ্গে ওয়েট লিফ্টিং করা শুরু করলেই চেহারায় বদল চোখে পড়বে, এমনটাই মত শিখার।