Rare Disease

যক্ষ্মা ছড়িয়ে পড়েছে মস্তিষ্কেও, বিরল ও প্রাণঘাতী অসুখে আক্রান্ত প্রাক্তন আফগান ক্রিকেটার, কী এই রোগ?

দিল্লির হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন আফগানিস্তানের প্রাক্তন অলরাউন্ডার শাপুর জ়াদরান। বিরল হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিয়োসাইটোসিস বা এইচএলএইচ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। বিশ্বে হাতেগোনা কয়েক জনের রোগটি হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ১৬:৩২
Former Cricketer Shapoor Zadran Battles Rare Immune Disorder hemophagocytic lymphohistiocytosis

কোন ধরনের বিরল রোগে আক্রান্ত ক্রিকেটার? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

যক্ষ্মা ধরা পড়েছিল ফুসফুসে। তা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে মস্তিষ্কেও। পরে দেখা যায় ডেঙ্গিও হয়েছে ক্রিকেটারের। শরীরের ভিতরে মারত্মক প্রদাহ। বিরল ও প্রাণঘাতী এক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আফগানিস্তানের প্রাক্তন অলরাউন্ডার শাপুর জ়াদরান। সঙ্কটজনক অবস্থায় দিল্লির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ রোগ বিশ্বে হাতেগোনা কয়েক জনেরই হয়। প্রতি ১০ লক্ষে এই সংখ্যা ০.৮ বা তারও কম। এতে নিজের শরীরই শত্রু হয়ে ওঠে ধীরে ধীরে। সুস্থ কোষগুলি একে অপরকে ধ্বংস করতে শুরু করে।

Advertisement

কী রোগে আক্রান্ত ক্রিকেটার?

হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিয়োসাইটোসিস বা এইচএলএইচ রোগে আক্রান্ত জ়ারদান। রোগটি জিনগত ভাবে আসে। এক ধরনের অতি বিরল অটোইমিউন ডিজ়অর্ডার। এতে জিনের মিউটেশন বা রাসায়নিক বদল তো ঘটেই, পাশাপাশি শরীরের ভিতরে এমন প্রদাহ শুরু হয় যা ওষুধেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় না। নিজের শরীরের কোষগুলিই একে অপরের শত্রু হয়ে ওঠে। পরস্পরকে ধ্বংস করতে শুরু করে। ফলে একাধিক জটিল রোগ বাসা বাঁধতে থাকে শরীরে।

জ়াদরানের ফুসফুসে প্রথম যক্ষ্মা ধরা পড়ে। পরে দেখা যায়, তা রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে মস্তিষ্কেও পৌঁছে গিয়েছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গি ও রক্তাল্পতা। চিকিৎসকেরা দেখেন, জ়াদরানের নিজের শরীরের কোষই অতিসক্রিয় ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেতকণিকা ও অনুচক্রিকাগুলিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে রক্তাল্পতা দেখা দিচ্ছে এবং শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থিগুলি ফুলে উঠছে।

এইচএলএইচ রোগটি হলে হার্ট, লিভার ও কিডনিও মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। ফুলে ওঠে লসিকা গ্রন্থি। অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসার বা আরও নানা রকম অটো-ইমিউন রোগও বাসা বাঁধে এর থেকে। এইচএলএইচ রোগীর কিছু ক্ষেত্রে জটিল স্নায়বিক রোগ হতেও দেখা গিয়েছে।

চিকিৎসা কী?

হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিয়োসাইটোসিস রোগের তেমন কোনও চিকিৎসা নেই। কেবল শরীরের অনিয়ন্ত্রিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের আশঙ্কা দেখা দিলে কেমোথেরাপি বা ইমিউনোথেরাপির প্রয়োগ করা হয়।

শরীরের প্রদাহ কমাতে অনেক সময়েই স্টেরয়েড দেন চিকিৎসকেরা। যদি ওষুধে কাজ না হয়, তবে স্টেম কোষ বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হয়।

জ়াদরানের শারীরিক অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমেছে তাঁর, শরীরে নানা রকম ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর বিভিন্ন অঙ্গ ধীরে ধীরে বিকল হতে শুরু করেছে।

Advertisement
আরও পড়ুন