Food Labelling

খাঁটি না বিজ্ঞাপনী চমক? প্রমাণ ছাড়া লেবেলে ‘ভিগান’ বা ‘স্বাস্থ্যকর’ লেখা যাবে না, নির্দেশ এফএসএসএআই-এর

'স্বাস্থ্যকর'' বলে যা বেচা হচ্ছে, তা কি আদৌ তা-ই? দেশে ডায়াবিটিস, হার্টের রোগ-সহ নানা অসুখ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্পবয়সিরাও স্থূলত্বের শিকার হচ্ছেন। এর কারণই হল প্যাকেটজাত নানা খাবার খাওয়ার প্রবণতা। খাবারের গুণমান যাচাই করতে তাই কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৭:০৫
FSSAI Bans ‘Vegan’ and ‘Healthy’ Claims on Food Labels without Evidence

‘নো সুগার’, ‘জ়িরো ময়দা’ লেখা প্যাকেটজাত খাবারগুলি কি আদৌ সুরক্ষিত? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

প্যাকেটের গায়ে বড় বড় করে ‘হেলদি ফুড’ লেখা মানেই কি সেটি স্বাস্থ্যকর? যে খাবারের প্যাকেটে ‘ভিগান’ লেখা আছে, সেটি কি আদতেই তা-ই? উঠছে প্রশ্ন, বদলাচ্ছে নিয়মও। প্যাকেটজাত খাবারের জনপ্রিয়তা ক্রমবর্ধমান। কিন্তু সেখানে ব্যবহৃত উপাদানগুলির পুষ্টিগুণ ঠিকঠাক বজায় থাকছে, না কি স্বাদ বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় যথেচ্ছ অস্বাস্থ্যকর উপাদান মেশানো হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের বোঝার উপায় নেই। এখন আবার বেশির ভাগ খাবারের প্যাকেটেই সেটির গুণমান বোঝাতে হয় ‘নো সুগার’ নয়তো ‘জ়িরো ময়দা’ লেবেল সেঁটে দেওয়া হয়। ‘ডায়েট ফুড’ বলে চালিয়ে দেওয়া হয় অনেক প্রক্রিয়াজাত খাবারকেও। এই অনিয়ম রুখতেই কোমর বেঁধে নেমেছে খাদ্য সুরক্ষা ও গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই।

Advertisement

প্রমাণ ছাড়া আরও কোনও খাবারকেই ১০০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর বলা যাবে না। 'ভিগান' বলেও চালিয়ে দেওয়া যাবে না। খাবারের প্যাকেজিংয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর কথা লেখা যাবে না। কোন খাবারে কী কী পুষ্টি উপাদান আছে অথবা ভিগান খাবার বলতে হলে যা যা উপাদান প্রয়োজন, সেগুলি যথাযথ মাত্রায় আছে কি না, তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। সঠিক তথ্যপ্রমাণ না থাকলে, সে খাবারকে স্বাস্থ্যকর বলে গ্রাহককে বেচা যাবে না।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নটি জড়িত। বিশেষ করে ভারতের মতো জনবহুল দেশে বিষয়টি সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া-র (এফএসএসএআই) এক সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছিল, প্রায় তেরোশো পণ্যের নমুনার মধ্যে ৯৫ শতাংশতেই অন্তত একটি উপাদান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) কর্তৃক নির্ধারিত মাত্রা অতিক্রম করে গিয়েছে। কাজেই, স্বাদের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যের বিষয়টিও যথাযথ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে বলেই জানিয়েছে এফএসএসএআই। প্রমাণ ছাড়াই কোনও ব্র্যান্ড যদি তাদের পণ্যকে ইচ্ছামতো তকমা দিয়ে দেয়, তা হলে সেই সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার কথাও জানানো হয়েছে।

এখনকার মানুষজন অনেক বেশি স্বাস্থ্যসচেতন। তাই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার মস্ত বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ‘ন্যাচারাল’, ‘ইমিউনিটি বুস্টিং’, ‘মাল্টিগ্রেন’, ‘জ়িরো অ্যাডেড সুগার ইত্যাদি তকমা। অথচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই খাবারগুলি আদৌ স্বাস্থ্যকর কি না, তার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংস্থাগুলি দিচ্ছে না। হেলথ ড্রিঙ্ক বা হেলদি ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল হিসেবে যে পণ্যগুলি বিক্রি হয়, সেগুলিতে শর্করার মাত্রা আকাশছোঁয়া। নানা রকম কৃত্রিম রং ও ফ্লেভারের ব্যবহারও হয়। ফলে, সেগুলিকে কোনও ভাবেই 'স্বাস্থ্যকর' বলা যায় না।

উদ্ভিজ্জ খাবার বা ভিগান পণ্যের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। বেশির ভাগ সুপারমার্কেটে প্যাকেটজাত উদ্ভিজ্জ খাবারের চাহিদা তুঙ্গে। এফএসএসএআই জানিয়েছে, সঠিক প্রমাণ ছাড়া কোনও খাবারের প্যাকেটে 'ভিগান' লোগো বসিয়ে দেওয়া যাবে না। যদি খাবারে সামান্যতমও প্রাণিজ উপাদান মিশে যায়, তা হলে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। কাজেই, সে ক্ষেত্রেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন