Fitness without Fuss

জিম-শরীরচর্চার নামেই গায়ে জ্বর! হাঁটতে হবে না, যোগাসনের দরকার নেই, ব্যায়াম হোক মজার ছলেই

ভুঁড়ি কমাতে হবে, বাড়তি মেদ গলাতে হবে, রক্তচাপ বশে রাখতে শরীরচর্চা করতে হবে। কিন্তু ব্যায়াম করতে ভালই লাগে না যাঁদের তাঁরা কী করবেন? খেলা এবং মজার ছলেই হোক ব্যায়াম।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৭
Fun ways to get fit without going gym or typical exercise

ব্যায়াম হোক খেলার ছলেই। ছবি: সংগৃহীত।

তলপেটে মেদ জমছে দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ! রোজই ভাবছেন এবার জিমে যেতেই হবে। কিন্তু সকাল হলেই মনে হয়, এখন নয় পরের মাসে। শুধু বাড়তি মেদ ঝরানো নয়, হার্ট থেকে কিডনির স্বাস্থ্য ভাল রাখতে, ডায়াবিটিসের ঝুঁকি এড়াতে নিয়ম করে শরীরচর্চা করতে বলছেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু হাঁটা, ব্যায়াম— এই সবের নাম শুনলেই কান্না পায় বৃষ্টির। পিসিওএস ধরা পড়ার পর থেকেই চিকিৎসক বলে দিয়েছেন ওজন বাড়তে দেওয়া চলবে না। ঋকের আবার ডায়াবিটিস ধরা পড়েছে ৩৫ বছরেই। রক্তচাপও বেশির দিকে। চিকিৎসক বলেছেন, শরীরচর্চা না করলেই বিপদ! কিন্তু শরীরচর্চা করতে ভাল লাগলে তো! ঋক এক সপ্তাহ জিমে গিয়ে, শরীরচর্চায় ইতি টেনেছেন।

Advertisement

বৃষ্টি, ঋকদের মতো কি আপনিও? নিয়ম করে শরীরচর্চার নামেই গায়ে জ্বর আসে? তবে যদি এই একই কাজে জুড়ে যায় আনন্দ, তবে কি তা করা কষ্টকর হবে? বেড়াতে গিয়ে সমুদ্র-স্নান পছন্দের অনেকেরই। সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে লম্ফঝম্ফ করতে করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও হুঁশ থাকে না কারও। এতেও কিন্তু ব্যায়ামই হয়। সমুদ্র না থাকলে সুইমিং পুল দিয়েও তা শুরু করা যেতে পারে। উপায় আছে আরও।

সাঁতার: গরমের দিনে সুইমিং পুলে স্নানের মজাই আলাদা। তার সঙ্গে যদি সাঁতারটি শিখে ফেলা যায় বা অভ্যাস করা যায়, শরীরচর্চা হবেই। সাঁতার এমন একটি ক্রীড়া যেখানে শরীরের প্রতিটি পেশির সঞ্চালন হয়। এতে হৃৎস্পন্দনের গতি বৃদ্ধি হয়, ফুসফুসের কার্যকারিতাও বাড়ে। ছোটরাও এখন খেলার মাঠ পায় না, সঙ্গীরও অভাব। সাঁতারে আগ্রহ থাকলে, তাদেরও কিন্তু এই ভাবে শরীরচর্চা করানো যেতে পারে।

সাইকেল চালানো: মফসসলের জীবনের সঙ্গে এক সময়ে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জুড়ে থাকত সাইকেল। কাজে যাওয়া, আড্ডা দিতে যাওয়া, স্কুল যাওয়া— সব কিছুরই সঙ্গী ছিল সাইকেল। তবে অটো-টোটোর দাপটে, স্কুটার-বাইক এসে যাওয়ায় সাইকেলের উপর নির্ভরতা অনেকটা কমেছে। সাইকেলই হতে পারে শরীরচর্চা এবং আনন্দের চাবিকাঠি। সকাল হোক বা সন্ধ্যা— সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারলে, ফুরফুরে হাওয়ায় মন ভাল হয়ে যাবে নিমেষে। সাইকেল চালালে কার্ডিয়োভাস্কুলার ব্যায়াম হয় যা হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। নিয়ম করে সাইকেল চালালে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবেটিকদের জন্যও তা ভাল ব্যায়াম। এতে পায়ের পেশিও মজবুত হয়।

জ়ুম্বা: সুর-তালের ছন্দে নাচ। নাচের প্রতিটি ভঙ্গিমাতেই শরীরের প্রতিটি অংশের ব্যায়াম হয়ে যায়। তরুণ প্রজন্মের জন্য জ়ু্ম্বা শরীরচর্চার ভাল উপায়। তবে জ়ুম্বা মানে যে কোনও ভাবে নাচ নয়, তারও নিজস্ব শৈলী আছে। সঠিক কৌশল জেনে তা অভ্যাস করলে দ্রুত মেদ ঝরানো সম্ভব। শুধু জ়ুম্বা নয়, শরীরচর্চার তালিকায় রাখতে পারেন অ্যারোবিকসও। আর কিছুই না করতে চাইলে, গান চালিয়ে মনের মতো নেচেও নিতে পারেন। অঙ্গ সঞ্চালনে রক্ত সরবরাহ বাড়বে শরীরে।

ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল: আগে পাড়ায় পাড়ায় এই ধরনের খেলার সুযোগ থাকত। এখন জায়গা, সঙ্গী দুইয়েরই অভাব হয়। তবে চাইলে এমন কোনও প্রশিক্ষণ শিবিরে ভর্তি হতে পারেন। খেলার ছলেই শরীরচর্চা হবে।

ঘরের কাজ: শরীরচর্চার আলাদা করে সময়-সুযোগ না পেলে ঘরের কাজেই মন দিতে পারেন। ধুলো ঝাড়া, ঘর মোছা, জল বয়ে নিয়ে যাওয়া, আটা মাখা, নারকেল কোরানো— যে কোনও কাজেই হাত-পায়ের পেশির ব্যায়াম হয়।বিশেষত তলপেটে মেদ গলানোর জন্য উবু হয়ে বসে ঘর মোছা ভাল।

Advertisement
আরও পড়ুন