গরমে বেলের শরবত খেতে কী কী লাভ হবে? ছবি: সংগৃহীত।
গরমের দিনে অল্পবয়সিদের মধ্যে ডায়েট কোক খাওয়ার চাহিদা বেড়ে যায়। ডায়েট কোকে চিনি আর ক্যালোরির পরিমাণ কম ভেবে অনেকেই একে স্বাস্থ্যকর বিকল্প মনে করেন। কড়া রোদ থেকে বাড়ি ফিরে ঠান্ডা ঠান্ডা ডায়েট কোক খেলে বেশ তরতাজা লাগে, তবে গরমে শরীর চাঙ্গা রাখতে বুদবুদে ভরা এই পানীয় যথেষ্ট নয়। বরং গরমের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে ভরসা রাখতে পারেন বেলের শরবতের উপর।
গ্রীষ্মকালে শরীর সুস্থ ও ঠান্ডা রাখতে অন্যতম ভরসা হতে পারে বেল। প্রাচীনকাল থেকেই স্বাস্থ্যরক্ষায় বেল খাওয়া হয়। চিকিৎসক কিরণ দালালের মতে, ‘‘বেলের শররত একটি স্বাস্থ্যকর গ্রীষ্মকালীন পানীয়। তবে বানানোর সময়ে চিনির পরিমাণ কম রাখতে হবে। খুব ভাল হয় যদি চিনির বদলে স্টিভিয়া ব্যবহার করা হয়। এই শরবত শরীর ঠান্ডা রাখে এবং শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে খুবই উপকারী।’’
শরীর সুস্থ রাখতে কী ভাবে সাহায্য করে বেল?
১) কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। তাঁদের জন্য বেল উপকারী হতে পারে। বেল পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। নিয়ম করে বেল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা চিরতরে দূর হতে পারে।
২) পাকা বেলের শাঁসে এক ধরনের ফাইবার আছে, যা আলসারের ওষুধ হিসাবে কাজ করে। নিয়মিত বেল খাওয়ার অভ্যাস আলসারের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
৩) ডায়াবিটিস আক্রান্তদের খাওয়াদাওয়ায় অনেক বিধিনিষেধ থাকে। মিষ্টি জাতীয় খাবার হোক বা ফল— অনেক কিছুই খাওয়া মানা। তবে বেল ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। বেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কম, উচ্চ ফাইবার আছে এবং এতে থাকা পলিফেনল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
৪) গ্রীষ্মকালে সংক্রমণ, বদহজম এবং জলশূন্যতার সমস্যা দেখা দেয়। বেল এই সব কিছুর মোকাবিলা করে। এর প্রাকৃতিক উপাদানগুলি অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল আর প্রদাহনাশক হিসাবে কাজ করে।