Gestational Diabetes

মায়ের অপুষ্টির কারণেই শিশুর ডায়াবিটিস ও হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ে, দাবি পুণের বিজ্ঞানীদের

মায়ের অপুষ্টি, শরীরে ভিটামিনের ঘাটতির কারণে শিশুর শরীরেও হরমোনের গোলমাল হতে পারে। অনেক সময়েই দেখা যায়, গর্ভাবস্থায়তেই রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যেতে পারে। এর থেকে প্রসবের পরে শিশুর শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে সেই শিশুই ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৭
How a mother\\\\\\\'s nutrition during pregnancy affects childs lifelong risk for Type 2 diabetes, new study says

মায়ের অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শিশুর ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

মায়ের খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসের উপরেই শিশুর শরীর-স্বাস্থ্য নির্ভর করবে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে নতুন গবেষণায়। শিশুর ডায়াবিটিস বা জেস্টেশনাল ডায়াবিটিস নিয়ে গবেষণা হচ্ছে বিশ্ব জুড়েই। পুণের ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডির (পিএমএনএস) গবেষকেরা জানিয়েছেন, মায়ের শরীরে যদি ভিটামিন বি১২, ফোলেটের ঘাটতি থাকে ও হবু মা যদি অপুষ্টির শিকার হন, তা হলে শিশুর পরবর্তী কালে টাইপ ২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সেই শিশুর হার্টের রোগও দেখা দিতে পারে।

Advertisement

বয়স্কদের যে ধরনের ডায়াবিটিস হয় তা টাইপ-টু। শিশুদের হয় টাইপ-ওয়ান। কিন্তু এখন শিশুদেরও টাইপ-২ ডায়াবিটিস, এমনকি কৈশোরে টাইপ ৫ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হতেও দেখা যাচ্ছে। শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন হরমোন। শিশুদের ইনসুলিনের ঘাটতি হয়। তাদের অগ্ন্যাশয়ের যে বিটা কোষগুলি থেকে ইনসুলিনের ক্ষরণ হয়, সেগুলি নষ্ট হয়ে যায়। ইনসুলিন ক্ষরণ না হওয়ায় রক্তে শকর্রার মাত্রা বেড়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীরে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে ইনসুলিনের ক্ষরণ হলেও সেটি আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এই সবের সূত্রপাত হতে পারে সেই গর্ভাবস্থাতেই। যদি হবু মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হয়, তা হলে গর্ভস্থ শিশুর শরীরের নানা অঙ্গ ঠিকমতো সুগঠিত হতে পারে। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের গঠন ঠিকমতো হয় না। ফলে ইনসুলিন হরমোন ক্ষরণে তারতম্য দেখা দেয়।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এই শিশুদের পরবর্তী সময়ে গিয়ে ওজন বৃদ্ধি হতে থাকে। ইনসুলিন হরমোন যেহেতু ঠিকমোত কাজ করে না, তাই রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে থাকে। ফলে খুব কম বয়সেই টাইপ ২ ডায়াবিটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

পুণের গবেষকেরা আরও একটি নতুন বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, আগে মনে করা হত গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্য হলে হবেই মায়ের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় ও গর্ভস্থ শিশুর ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ, যাকে বলে জেস্টেশনাল ডায়াবিটিস। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গর্ভাবস্থায় শুধু নয়, শৈশবে মায়েরও যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে ও ওই বয়স থেকেই শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হতে থাকে, তা হলে পরবর্তীতে জেস্টেশনাল ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়বে। আর সে থেকে শিশু জন্মের পরে তারও ডায়াবিটিস হওয়ার আশঙ্কা থেকে থাবে। শুধু তাই নয়, এতে সিজারের সময় রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে৷ সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। নবজাতকের রক্তে সুগার কমে যেতে পারে৷ বাড়াবাড়ি রকমের জন্ডিস বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

হবু মায়ের বা তাঁর পরিবারে কারও ডায়াবিটিস থাকলে গর্ভাবস্থার ১২–১৫ সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। না থাকলে করা হয় ১৬–২০ সপ্তাহে। মায়ের ফাস্টিং সুগার ও ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্টের রিপোর্টে যদি গোলমাল থাকে, তা হলে আগে থেকেই চিকিৎসা শুরু করা হয়। সেই সঙ্গে সঠিক ডায়েট মেনে চলতেও বলা হয়। মা ও শিশু সুস্বাস্থ্যের জন্য ক্যালোরি মেপে খেতেই হবে। বাইরের খাবার, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন