Mango in Diet

আম দেখলেই খেয়ে ফেলেন! উপকারী ফলও দেদার খেলে ক্ষতি, কতগুলি আম এক দিনে খাওয়া চলে?

ভিটামিন সি, এ এবং রকমারি খনিজে পূর্ণ আমের পুষ্টিগুণ অনেক। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। গরমে জলের জোগান দিতে, শর্করা থাকায় দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম এই ফল। উপকারী ফলটিও বেশি খেলে কোন সমস্যা হতে পারে? ক’টি খাবেন এক দিনে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৫:৪২
আম দেখলেই খেয়ে ফেলছেন। বেশি খেলে কী কী হবে?

আম দেখলেই খেয়ে ফেলছেন। বেশি খেলে কী কী হবে? ছবি:সংগৃহীত।

হিমসাগর প্রায় শেষের পথে। তবে ফজলি-সহ এখনও কিছু আম রয়েছে এই মরসুমের জন্য। রসালো মিষ্টি এই ফলটি ভালবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আবার এমন আমপ্রেমীও আছেন, যাঁরা ফলটি দেখলে লোভ সামলাতে পারেন না।

Advertisement

ভিটামিন সি, এ এবং রকমারি খনিজে পূর্ণ আমের পুষ্টিগুণ অনেক। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। গরমে জলের জোগান দিতে, শর্করা থাকায় দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম এই ফল। একটি বড় আম খাওয়া, কার্যত ভরপেট খাবার খাওয়ার সমান। কিন্তু সেই ফলই বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে অনেক। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষ দিনে ক’টা আম খেতে পারেন। ডায়াবেটিকেরাই বা ক’টা পারেন?

পুষ্টিবিদ জুহি কপূর বলছেন, ‘‘আমের সংখ্যা নয়, গুরুত্বপূর্ণ হল তার আকার এবং ক্যালোরির পরিমাণ। বিশেষত যাঁরা ওজন বশে রাখতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে ক্যালোরির হিসাব খুব জরুরি। আবার এই ফলে শর্করার মাত্রা যথেষ্ট। ফলে বেশি আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।’’

একটি ছোট আকারের আম বা বড় আমের একাংশ খেলে ক্যালোরি মিলবে ১২৫-১৩০ কিলোক্যালোরি। মাঝারি থেকে বড় মাপের আমের ক্যালোরির মাত্রা ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। শর্করার পরিমাণ বা মিষ্টত্ব এবং ফাইবার আমের প্রজাতি ভেদে ভিন্ন হয়।

তবে পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলছেন, কেউ দিনে ঠিক ক’টি আম খেতে পারেন, তা এককথায় বলা যায় না। ব্যক্তিবিশেষের শারীরিক সমস্যা, ক্যালোরির চাহিদা এমন অনেক কিছুর উপরেই আমের সংখ্যা নির্ভর করে। তবে দিনে এক থেকে দু’টির বেশি আম খাওয়ার পক্ষপাতী তিনি নন।

আম খাওয়ার বিপদ!

আম মিষ্টি ফল। এতে প্রাকৃতিক শর্করা বা ফ্রুক্টোজ়ের পরিমাণ থাকে যথেষ্ট। ডায়েটরি ফাইবারও থাকে। স্বল্পমাত্রায় যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল, মাত্রাতিরিক্ত হলে তা-ই ক্ষতির কারণ হতে পারে, মনে করাচ্ছেন অনন্যা। পুষ্টিবিদের কথায়, একবারে ২-৩টি বড় আম কেউ খেলে ফ্রুক্টোজ় পরিপাকে সমস্যা হতে পারে। তাতে, হজমের গোলমাল দেখা দেবে। পেট ব্যথা শুরু হতে পারে। এমনকী পেট খারাপও করতে পারে। আবার শর্করা থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রাও আচমকা বেড়ে যেতে পারে।

ডায়াবেটিকেরা ক’টি আম খেতে পারেন?

আম রসালো এবং মিষ্টি বলে ডায়াবেটিকদের জন্য বরাদ্দ ফলের তালিকায় সাধারণত এটি থাকে না। তবে পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, এই ফলের পুষ্টিগুণ অনেক। তাই ডায়াবিটিস থাকলে আম বাদ পড়বে তেমনটা নয়। তবে খেতে হবে ক্যালোরি বুঝে। সরাসরি আম খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে, ফলে ফাইবার জুড়ে নেওয়া যেতে পারে তার সঙ্গে।

অনন্যা বলছেন, ‘‘ডায়াবেটিকেরাও আম খেতে পারেন। স্ন্যাক হিসেবে আম আমরা খেতেই বলি। তবে তার মাত্রা থাকা দরকার। একটা আম, ঠিক আছে। তার বেশি নয়।’’

Advertisement
আরও পড়ুন