Artificial Food Colour

কেকে রং, লজেন্সে রাসায়নিক, খাবার থেকে কী কী কৃত্রিম রং ঢুকছে শিশুর শরীরে? সতর্ক করল এফএসএসএআই

ছোটদের নানা রঙের ক্যান্ডি, চিপ্‌স, নাচোস বেশি কিনে দেন? এর থেকে কী কী ধরনের রাসায়নিক শরীরে ঢুকছে তা জেনে রাখা ভাল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ১৪:৪৭
ছোটদের পছন্দের কোন কোন খাবারে মিশছে রাসায়নিক?

ছোটদের পছন্দের কোন কোন খাবারে মিশছে রাসায়নিক? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

কেক-লজেন্স-কুকির মতো খাবার আর নিরাপদ নয়। যত বেশি লোভনীয় খাবার, ততই তাতে মিশছে বিষ। শিশুরা যে সব খাবার বেশি পছন্দ করে, সেগুলিতে এমন ধরনে কৃত্রিম রং মিশিয়ে তা আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে, যা বিপজ্জনক। সম্প্রতি বিহারের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় জনৈক ফলবিক্রেতা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া শসাকে তাজা দেখাতে তার গায়ে কৃত্রিম সবুজ রং মেশাচ্ছেন। এ ঘটনা কেবল বিহারের নয়, সর্বত্রই খাবারে যে ভাবে ভেজাল ও কৃত্রিম রং মিশছে, তা ভাবিয়ে তুলেছে খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা এফএসএসএআই-কে। বিশেষ করে ছোটদের কিছু খাবার, লজেন্স, ক্যান্ডিতে কৃত্রিম রঙের মাত্রা অনেক বেশি বলেই দাবি করা হয়েছে। এফএসএসএআইয়ের তরফে সতর্ক করা হয়েছে অভিভাবকদের।

Advertisement

খাবার থেকে কী কী কৃত্রিম রং ঢুকছে ছোটদের শরীরে?

ছোটদের নানা রঙের ক্যান্ডি, গাম, চিউইং গামে মিশছে রং। ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালও নিরাপদ নয়। নানা ধনের কেক, ইনস্ট্যান্ট নুডল্‌স, টম্যাটো কেচাপ, বেকারির খাবার, এনার্জি ড্রিঙ্ক, ছোটদের জন্য তৈরি নানা রকম প্যাকেটজাত জুস, প্যাকেটজাত দইয়েও মিশছে রাসায়নিক।

খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি যে রাসায়নিকটি শরীরে ঢুকছে, সেটি ‘রোডামাইন-বি’। হাওয়াই মিঠাইতে এ রাসায়নিকটি পাওয়ার পর থেকেই সেটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নানা রঙের ক্যান্ডি, কেকেও এই রাসায়নিকটি মেশানো হয়। ‘রোডামাইন-বি’ জলে দ্রবণীয় রাসায়নিক, যা খাবার রং করতে ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে লিভার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি, ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

‘রেড ৩’ নামক এক প্রকার রাসায়নিকও কেক, ক্যান্ডিতে বেশি মেশানো হয়। এটি মিশলে খাবারের রং উজ্জ্বল লাল ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। আমেরিকায় ‘রেড ৩’ নামক ওই রঙের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সে দেশের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (এফডিএ)। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই লাল রঙে থাকা রাসায়নিক ক্যানসারের ঝুঁকি বহু গুণে বাড়িয়ে দিতে পারে।

টারট্রাজিন এবং সানসেট ইয়েলো নামে আরও দু’টি রং প্রক্রিয়াজাত খাবারে মেশে। মূলত বাজারচলতি নানা ধরনের ফলের রস, বেকারির খাবারে এটি মেশানো হয়। এই দুই রাসায়নিক থাইরয়েড টিউমার, লিভারের রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।

মেটানিল ইয়েলো নামে আরও একধরনের কৃত্রিম রং নানা ধরনের মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাত নোনতা খাবারে মেশে। এটিও শরীরের জন্য বিপজ্জনক।

এফএসএসএআই জানাচ্ছে, কৃত্রিম রং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছোটদের ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিজ়অর্ডার’ (এডিএইচডি) রোগের কারণ। অত্যধিক চঞ্চলতা, মনঃসংযোগের অভাব ও শিশুদের আচরণগত সমস্যা এবং ছোট থেকেই দুর্বল স্মৃতিশক্তি, বারে বারে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা এই রোগের লক্ষণ হতে পারে। আবার কখনও শিশুদের আচরণ হিংসাত্মকও হয়ে উঠতে পারে। তা ছাড়া কৃত্রিম রঙে থাকা রাসায়নিক মস্তিষ্কের পেশি ও স্নায়ুর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণে তারতম্য ঘটায়। ফলে ছোট থেকেই স্নায়ুর রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Advertisement
আরও পড়ুন