Diabetes Controlling Tips

খাওয়ার কৌশলে সামান্য বদলেই বশে থাকবে শর্করা, ডায়াবেটিকেরা কোন নিয়ম পাল্টাবেন?

চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদ বলছেন, খাওয়ার কৌশলে ছোট্ট বদলই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। কী সেই কৌশল?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৫
How to Lower Blood Sugar Naturally, The Fiber-First Meal Sequencing Guide

খাওয়ার নিয়মে ছোট্ট বদলই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে ডায়াবিটিস। ছবি: সংগৃহীত।

ডায়াবিটিসের সমস্যায় খাওয়া-দাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ এসে যায়। শুধু ডায়াবেটিক নয়, প্রি-ডায়াবেটিকদের জন্যেও খাওয়ার পর রক্তে আচমকা শর্করা বেড়ে যাওয়া ঝুঁকির ইঙ্গিত।সাধারণত, চিনি, কার্বোহাইড্রেট (বিশেষত সিম্পল কার্বোহাইড্রেট) জাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যাঁদের শরীরে ইনসুলিন হরমোন সঠিক ভাবে কাজ করে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, বিপদ বাড়তে পারে ডায়াবেটিকদের। ওষুধ খাওয়ার পরেও বেড়ে যেতে পারে সুগার।

Advertisement

তবে চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদ বলছেন, খাওয়ার কৌশলে ছোট্ট বদলই এমন সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। সেটি হল ফাইবার। ভাত-রুটির মতো খাবারে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে বলে এই ধরনের খাবার খাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ থাকে ডায়াবেটিকদের। বিশেষত সাদা ভাতে দ্রুত শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। তবে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব ফাইবারের সাহায্যেই।

বিষয়টি কি?

সিম্পল কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার, যেমন, সাদা ভাত, সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, ময়দার খাবার, মিষ্টি রক্তে দ্রুত শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।শর্করার মাত্রা আচমকা বেড়ে যাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। বিশেষত, ডায়াবেটিকদের এই ধরনের খাবার খেলে দ্রুত শর্করা বাড়ে, কারণ তাঁদের শরীরে ইনসুলিন নামক হরমোন ঠিক মতো কাজ করে না। ফলে শর্করা শক্তিতে না বদলে রক্তে মিশতে থাকে।

ডায়াবিটিসের চিকিৎসক অভিজ্ঞান মাঝি বলছেন, ‘‘ফাইবার জাতীয় খাবার এ ক্ষেত্রে ছাঁকনির মতো কাজ করে। কার্বোহাইড্রেট যেমন, ভাত, রুটি, পরোটা, পাউরুটি খাবার খাওয়ার আগে যদি ফাইবার জাতীয় খাবার যেমন, একবাটি স্যালাড খাওয়া যায়, তা হলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়বে না। কারণ, ফাইবার শর্করাকে দ্রুত রক্তে মিশতে বাধা দেবে।’’

মুম্বইয়ের পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োতে জানাচ্ছেন, কী ভাবে রক্তে শর্করা বশে রাখা যায়। তিনি বলছেন, কী খাচ্ছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল কী ভাবে সেই খাবারটি খাওয়া হচ্ছে? খালিপেটে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে ক্ষতি বেশি। কারও যদি ডায়াবিটিস না-ও থাকে, এতে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।তবে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার আগে একবাটি স্যালাড খেলে বা ফাইবার যুক্ত খাবার খেলেই এমন সমস্যার সমাধান হতে পারে। তার কারণ, ফাইবার রক্তে গ্লুকোজ শোষণের মাত্রা কমিয়ে বিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে। এই অভ্যাস একবার করতে পারলে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

চিকিৎসকেরাও সেই কারণে বলেন, প্রাতরাশের খাবারে ফাইবার থাকা দরকার। ফাইবার এবং কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট— সকালের খাবারে থাকা খুব জরুরি। মধ্যাহ্নভোজ এবং নৈশ আহারের খানিক আগে যদি একবাটি স্যালাড খাওয়া যায়, তা হলেও দিনভর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রথমত, স্যালাড খেলে পেট কিছুটা ভরে থাকবে। ফলে খেতে বসে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা কমবে। দ্বিতীয়ত, স্যালাডে ফাইবারের পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজও থাকে। সেটিও শরীরের জন্য উপকারী।

চিকিৎসক অভিজ্ঞান পরামর্শ দিচ্ছেন, ডায়াবেটিকেরা খাওয়ার ৫-১০ মিনিট পরে যদি অন্তত ১০ মিনিটও হাঁটেন, তাতে শর্করা বশে রাখা সহজ হয়। এতে বদহজমের প্রবণতাও কমেন।একইসঙ্গে তাঁর পরামর্শ, নিয়মিত হাঁটাহাটি এবং শরীরচর্চার। ছোটখাটো এই অভ্যাসগুলি ডায়াবেটিকদের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।

Advertisement
আরও পড়ুন