৬০ পেরোলে সামান্য আঘাতেই ভাঙতে পারে হাড়, সময় থাকতেই কী ভাবে সতর্ক হবেন?

বার্ধক্যজনিত অসুখের কষ্ট আছেই। তার উপর হাড় ভাঙলে যন্ত্রণার শেষ থাকে না। বয়সকালে এমন বিপদ এড়াতে সতর্ক হওয়া দরকার আগে থেকেই। কী ভাবে এমন ঝুঁকি কমানো যায়?

Advertisement
শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৭

বয়সজনিত অসুখ রয়েছেই। তার উপর পড়ে গিয়ে হাত-পা কিংবা কোমর ভাঙলে রক্ষে নেই! অথচ সেই ঘটনাই ঘটে যায় মুহূর্তের অসাবধানতায়। পা পিছলে স্নানঘর বা মেঝেতে আছাড় খেলেই ব্যস!

Advertisement

‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত ‘বিএমজে কোয়ালিটি এবং সেফটি’ নামক জার্নালের একটি রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, বয়সকালে নিতম্বের হাড় ভাঙার পরে ২০-৩০ শতাংশ রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। হাড় ভাঙার কষ্টও নেহাত কম নয়। সামান্য আঘাতে বা এক বার পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার কারণ হতে পারে হাড়ের দুর্বলতা। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অস্টিয়োপোরোসিসের মতো অসুখের ঝুঁকি বাড়ে, ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন বিপদ এড়াতে কিন্তু বয়স থাকতেই সতর্ক হওয়া ভাল। যে বিষয়গুলিতে নজর দেবেন—

ভিটামিন ডি: ভারতে একটি বড় অংশের জনসংখ্যার মধ্যেই কিন্তু ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা যায়। শুধু বয়স্কেরা নন, এই ভিটামিনের ঘাটতিতে ভোগেন অপেক্ষাকৃত কমবয়েসিরাও। কর্মসংস্কৃতির বদল, ব্যস্ততার জন্য অনেকেই নিয়ম করে গায়ে রোদ লাগাতে পারেন না বা খোলা জায়গায় দিনে হাঁটাহাটি করেন না। তার ফলে কম বয়স থেকেই হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। নিয়ম করে হাঁটাহাটি, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে ডাক্তার দেখিয়ে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরি।

ওয়ার্ম আপ: শরীরচর্চা করার সময় ওয়ার্মআপ জরুরি। এতে শরীর, মাংসেপশির তাপমাত্রা বাড়ে। কারণ ওয়ার্ম আপ না করে ব্যায়াম করতে গেলে কেউ পেশিতে চোট পেতে পারেন। শরীরচর্চার শুরুটা করা দরকার ডায়নামিক স্ট্রেচিং দিয়ে। এতে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। পেশির সঙ্কোচন এবং প্রসারণের ফলে রক্তচলাচল ভাল হয়।

সঠিক শরীরচর্চা: বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীর বুঝে শরীরচর্চাতেও বদল দরকার। অস্টিয়োপোরোসিসের মতো সমস্যা থাকলে ওজন নিয়ে শরীরচর্চা করা ভাল। তবে কী ভাবে তা করতে হবে, সেটি কোনও পেশাদারের কাছ থেকে শিখে নেওয়া জরুরি। জগিং, হাঁটাহাটির পাশাপাশি সঠিক কৌশলে যোগাসন করলে বয়সকালে অস্থিসন্ধির সমস্যা কমবে।

ডায়েট: হাড় মজবুত রাখতে ডায়েট গুরুত্বপূর্ণ। প্রদাহনাশক খাবার রাখতে হবে তালিকায়। ভিটামিন ডি এবং প্রয়োজনীয় খনিজও জরুরি। তৈলাক্ত মাছ, আখরোট, তিসিবীজের মতো খাবার অস্থিসন্ধির ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। রাগি, সাদা তিলের মতো খাবার ক্যালশিয়ামের জোগান বাড়ায়, যা হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য জরুরি।

হাড় ভাঙা রুখতে আর কী করবেন?

· বয়সকালে হাড় ভাঙার অন্যতম কারণ শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া। যে ধরনের ব্যায়াম শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখে, সেগুলি অভ্যাস করা দরকার।

· পা হড়কে পড়ে গিয়েও বিপদ ঘটে। এমন জুতো বা চটি বয়স্কদের দিন, যেগুলি চট করে হড়কে যাবে না।

· ঘরের মেঝেতে জল পড়লে দ্রুত মুছে নিন, পা হড়কে যেতে পারে এমন জিনিস পড়ে থাকলে দ্রুত পরিষ্কার করে নিন।

· অন্ধকার বা কম আলোযুক্ত জায়গা দিয়ে হাঁটাচলা করতে গেলেও পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এ ব্যাপারে সতর্কতা জরুরি।

Advertisement
আরও পড়ুন