বয়স কমাবে পেপটাইড ইঞ্জেকশন, কী এই থেরাপি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বয়স বাড়লে ত্বক কুঁচকে যাওয়া, বলিরেখা পড়ার সমস্যা স্বাভাবিক। কিন্তু এখনকার সময়ে বয়সের সেটুকু ছাপ রাখতেও অনেকে রাজি নন। ত্বক হবে যৌবনের মতোই ঝকঝকে ও টানটান। তারকাদের দেখাদেখি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে চেষ্টার অন্ত নেই। পঞ্চাশে পৌঁছেও চেহারায় কুড়ির লাবণ্য ধরে রাখার যে অদম্য প্রয়াস, তা থেকেই নিত্যনতুন অ্যান্টি-এজিং থেরাপি নিয়ে মাতামাতি চলছে। ত্বকের থেরাপি করিয়ে বয়সের ছাপ ধুয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে অবিরত। এই সব থেরাপি আদৌ ভাল কি না, তার থেকে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না, তা ভাবার অবশ্য অবকাশ নেই। ইচ্ছাও নেই। বয়স কমানোর যে সব চিকিৎসা আছে বলে দাবি করা হচ্ছে ইদানীংকালে, তার মধ্যে একটি নাম প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। সেটি হল, পেপটাইড ইঞ্জেকশন। এক সময়ে পেশিবহুল চেহারা বানাতে এর ব্যবহার হত। এখনও হয়। তবে এখন মোড়কটা একটু বদলে দেওয়া হয়েছে। কেবল পেশি বানানোর জন্য নয়, বুড়িয়ে যাওয়া কোষকে ঝকঝকে করে তুলে যৌবন ধরে রাখার থেরাপি হিসেবেও একে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।
পেপটাইড ইঞ্জেকশনের কাজটা কী?
পেপটাইড হল ছোট ছোট অ্যামাইনো অ্যাসিডের শৃঙ্খল, যা শরীরে প্রোটিন তৈরি করে। এই পেপটাইড কিন্তু প্রাকৃতিক ভাবেই শরীরে থাকে, যার কাজ অনেক। মূলত হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করা, ক্ষতিগ্রস্ত কোষের মেরামতির কাজ করা, ত্বকে কোলাজেন তৈরি করা থেকে শুরু করে আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই পেপটাইড। পেশিবহুল চেহারা বানাতে জিমে গিয়ে কসরত করেন যাঁরা, তাঁরা অনেক সময়েই পেশিবহুল সুঠাম চেহারা ধরে রাখতে পেপটাইড ইঞ্জেকশনের মতো করে নেন। এতে শরীরে বাড়তি প্রোটিন ঢোকে, কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ে এবং চেহারাও সুঠাম থাকে বলে দাবি করা হয়।
এই কৃত্রিম পেপটাইডের আরও একটি কাজ হল শরীরকে আরও বেশি করে ‘গ্রোথ হরমোন’ তৈরিতে উদ্দীপিত করা। হরমোনের ক্ষরণ যদি বাড়ে, তা হলে কোষের পুনর্গঠন সম্ভব। যে কোষ মৃতপ্রায় বা ক্ষতিগ্রস্ত, তা সরে নিয়ে নতুন কোষ তৈরি হবে। আর কোষ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া যদি এক বারের জন্যও না থেমে চলতে থাকে, তা হলে শরীরে সব সময়েই নতুন কোষের জন্ম হবে। এতে পেশির শক্তি একই রকম থাকবে, চেহারায় টানটান ভাব থেকে যাবে এবং বার্ধক্যের ছাপ পড়বে না, সে বয়স যতই হোক না কেন। চেহারায় তারুণ্য ধরে রেখে বয়স কম দেখানোর কাজ করবে পেপটাইড, এমনই ধারণা এখন অনেকের।
সুবিধা ও অসুবিধা
পেপটাইড ইঞ্জেকশনের সুবিধা হল এটি চটজলদি কোলাজেন প্রোটিনের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে। ফলে ত্বকের জেল্লা বাড়ে, পেশির ক্ষয় রোধ হয়। ভিতর থেকে ত্বক উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় দেখায়। কিছু ক্ষেত্রে এই ইঞ্জেকশন বাড়তি মেদও কমায়। পেশিকে টানটান রাখে। কোলাজেনের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বলিরেখা দূর হয়, কুঁচকে যাওয়া চামড়াও টানটান ও ঝকঝকে দেখায়।
সুবিধা যতই থাক, এতে অসুবিধাও কম নেই। পেপটাইড ইঞ্জেকশন তাঁরাই নিতে পারেন, যাঁদের খুব দ্রুত পেশিবহুল চেহারা বানাতে হবে। সকলের জন্য এমন ইঞ্জেকশন নয়। এমনই দাবি করা হয়েছে দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে। বর্তমানে অনলাইন বা জিমে অনেক ধরনের পেপটাইড পাওয়া যায়, যা ল্যাবে পরীক্ষিত নয়। এগুলির ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ ডোজ় এবং গুণমান নিশ্চিত করা না হলে, হিতে বিপরীত হতে পারে।
কী কী সমস্যা হতে পারে? পেপটাইড ইঞ্জেকশন লাগাতার নিতে থাকলে শরীর নিজে থেকে হরমোন তৈরি করা কমিয়ে দেয় বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। যার প্রভাব পড়ে হার্ট, লিভার ও কিডনিতে। পেপটাইড রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়িয়ে দিতে পারে, ফলে টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
খরচ কত?
ব্র্যান্ডের উপর নির্ভর করবে দাম। সাধারণত পেপটাইড ইঞ্জেকশনের থেরাপি নিতে হলে মাসে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে। জিএইচকে-সিইউ, বিপিসি-১৫৭, টিবি-৫০০ ইত্যাদি নানা ধরনের পেপটাইড ইঞ্জেকশন ত্বকের বয়স কমাতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। এগুলি অনলাইনেও পাওয়া যায়। কোনওটি ৫ মিলিগ্রাম, কোনওটি ৫০ মিলিগ্রামের ভায়ালে পাওয়া যায়। প্রতি বাক্সে অন্তত ১০টি করে ভায়াল থাকে। এক একটি বাক্সের দাম পড়বে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে বা কিছ ক্ষেত্রে তার বেশি। তবে পেপটাইড ইঞ্জেকশন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা ঠিক নয়। ডোজ় না জেনে ব্যবহার করলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।