প্ল্যাঙ্ক করার সময়ে কোন ভুলগুলি করবেন না? ছবি: সংগৃহীত।
ভুঁড়ি বা পেটের মেদ শুধু সৌন্দর্যের নয়, স্বাস্থ্যের জন্যেও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই নিয়মিত ডায়েট করেন, ব্যায়াম করেন, জল বেশি খান, নানা রকম টোটকা মেনে চলেন— তবু ভুঁড়ি যেন কিছুতেই কমতে চায় না। আপনারও কি সে ভাবেই সবচেয়ে বেশি মেদ জমে তলপেটে? ভুঁড়ি লুকিয়ে কি চলা সম্ভব সব সময়ে? এ এক যুদ্ধ, যা রোজের সঙ্গী। পোশাক বাছাই থেকে শুরু করে, হাঁটাহাঁটি, ছোটাছুটি, সবেতেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় পেটের চর্বি। এর ফলে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি আসে, আবার ডায়াবিটিস, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
পেটের মেদ ঝরাতে প্ল্যাঙ্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যায়াম। প্রথমে মাটিতে উপুর হয়ে শুয়ে পড়ুন। কনুই এবং পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে, সম্পূর্ণ শরীরকে ভাসমান অবস্থায় রাখতে চেষ্টা করুন। পেট ভিতর দিকে টেনে রাখুন। ৩০ সেকেন্ড করে তিনটি সেট দিয়ে শুরু করে, ধীরে ধীরে ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত ওই অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন।
প্ল্যাঙ্ক করার সময় শরীর যেন এক সরলরেখায় থাকে সেটা লক্ষ রাখতে হবে।
প্ল্যাঙ্ক করার সময়ে কোন ভুলগুলি অনেকে করেন?
১) ব্যায়াম করতে করতে ঠিক সময়ে শ্বাস না ছাড়লে প্ল্যাঙ্ক করার উপকার মেলে না। তাই ঠিক কখন শ্বাস ছাড়বেন আর কখন শ্বাস নেবেন তা আগে ফিটনেসবিদের কাছ থেকে ভাল করে জেনে নিন।
২) প্ল্যাঙ্ক করতে করতে ঘাড় উঁচু করে তাকানো থাকা উচিত নয়। মাথা উপরে তুললেও হবে না। দৃষ্টি রাখতে হবে একেবারে মাটির দিকে। না হলে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন।
৩) প্ল্যাঙ্ক করতে করতে হাঁটু ও পিঠ বেঁকিয়ে ফেলবেন না। তা হলেও ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। হাঁটু আর পিঠ থাকবে একেবারে টান টান। সঠিক পদ্ধতিতে প্লাঙ্ক করলে শ্রোণিদেশে টান অনুভব করতে পারবেন।
৪) প্ল্যাঙ্ক করলে শরীরের ব্যথা কমে যাবে কি? এ নিয়ে কিছুটা ভুল ধারণা আছে। তবে এতে আদতে কোনও উপকার হয় না। ব্যথা কমলে তবেই প্ল্যাঙ্ক করা উচিত। না হলে পেশিতে টান লাগার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
৫) প্রথমেই কি এক-দু’মিনিট ধরে রাখতে পারবেন প্ল্যাঙ্ক? অনভ্যস্ত শরীর হলে সেই চেষ্টা ভুলেও নয়। বরং ১০ সেকেন্ড, ২০ সেকেন্ড করে ঘড়ি ধরে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন সময়সীমা।
৬) প্ল্যাঙ্ক করার সময় শরীর যেন এক সরলরেখায় থাকে সেটা লক্ষ রাখতে হবে। অনেক সময় প্ল্যাঙ্ক করতে গিয়ে নিতম্ব উঁচু হয়ে যায়, সেই ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।